দেশ

সেনাবাহিনী রাজনীতি থেকে দূরে থাকে: বিপিন রাওয়াত

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বাহিনী সবসময় রাজনীতির থেকে অনেকটা দূরত্ব বজায় রেখে চলে। বর্তমান সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে বাহিনী। এমনটাই দাবি করলেন দেশের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত। উল্লেখ্য, সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়ার দিনকয়েক আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সমালোচনায় করায় রাওয়াতের তুমুল সমালোচনা করেছিল বিভিন্ন মহল। তাঁর মন্তব্যের পেছনে রাজনীতির গন্ধ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।

বুধবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে সিডিএস রাওয়াত বলেন, ‘যে সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, তার নির্দেশ মতো আমরা কাজ করি। আমরা সবসময় নিজেদের রাজনীতি থেকে অনেকটা দূরে রাখি।’ বাহিনীর তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে তিনি সেতুবন্ধনের কাজ করবেন বলেও জানান তিনি। দিন কয়েক আগেই আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে বিতর্কে জড়ান তত্‍কালীন সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে দেশজুড়ে যাঁরা হিংসা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘যাঁরা হিংসা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নেতৃত্ব দেন, তাঁরা আদৌ নেতা নন।’ দেশজুড়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলছে। সম্প্রতি এই বিষয়ে মুখ খুললেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। বিভিন্ন জায়গায় নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। সরাসরি পড়ুয়া ও তাদের আন্দোলনকেই হিংসার জন্য দায়ী করেন। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে সেনাপ্রধান কি এরকম রাজনৈতিক মন্তব্য করতে পারেন? এমনকি সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী নেতা থেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।

বিপিন রাওয়াতের মন্তব্য, ‘ছাত্রদের সশস্ত্র আন্দোলন হিংসাত্মক। ছাত্রদের নেতৃত্বে বিভিন্ন শহরে হিংসার পরিস্থিতি।’ শুধু এখানেই শেষ নয়, সেনাপ্রধান বলেছে, যাঁরা হিংসা ও অগ্নিস‌ংযোগে নেতৃত্ব দেন, তাঁরা আদৌ নেতা নন।’ সেনা প্রধানের এই মন্তব্যের পরই শুরু হযেছে বিতর্ক। সরব বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং টুইট করে বলেছেন, ‘যাঁরা কর্মীদের সাম্প্রদায়িক হিংসা থেকে গণহত্যায় উত্সাহ দেন, তাঁরাও তো নেতা হতে পারেন না। সেনাপ্রধান একমত তো?’ সরব হয়েছেন এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও, ‘নাগরিক সমাজে কি হচ্ছে দেখার জন্য পুলিশ, প্রশাসন রয়েছে। এখানে সেনার কোনও ভূমিকা থাকতে পারে না৷’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সংবিধানে সেনাপ্রধানের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।  পাকিস্তানে সরকার নিয়ন্ত্রণে পাক সেনার ভূমিকা রয়েছে। পাক সেনা অনেক সময় দেশও চালিয়েছে। ভারতে রাজনৈতিক যুদ্ধে সেনা নায়কদের মন্তব্যের কোনও নজির নেই। ৩১ ডিসেম্বর অবসর নেবেন বিপিন রাওয়াত। তাঁর আগেই সেনাপ্রধানের বেনজির রাজনৈতিক মন্তব্যে জোর বিতর্ক।

sweta

Related Articles

Back to top button
Close