fbpx
হেডলাইন

ভবানীপুরে হিন্দিভাষীদের সঙ্গে জনসংযোগ

মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রসাদ বিলি মমতার

নিজস্ব প্রতিনিধি:

মানুষের দরজায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত। বুধবার গুরুদ্বারে গিয়ে ভোটে জেতার জন্য আশীর্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি শিখ সম্প্রদায়ের মন জিতে নিয়েছিলেন মমতা। আর বৃহস্পতিবার ভবানীপুর এলাকার হিন্দিভাষীদের সঙ্গে জনসংযোগে নামলেন তিনি। মন্দিরে পুজো দিয়ে দর্শনার্থীদের নিজের হাতে প্রসাদ বিতরণ পর্যন্ত করেন তিনি। আর সেখানেও সেই একই ছবি দেখা গেল। মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ বললেন, ”ম্যাডাম এত ভাল করছেন, বাংলা এগিয়ে যাচ্ছে। ম্যাডামের ভাল চাই।” কারও আবার বক্তব্য, ”উনি রেকর্ড ভোটে জিতবেন।” সকলের ভালবাসায় আপ্লুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন ভবানীপুর লেডিজ ক্লাবে গিয়ে হিন্দিভাষী মানুষজনের সঙ্গে জনসংযোগ সারেন মুখ্যমন্ত্রী। সকলের কথা শোনেন তিনি। খ্রিস্টান, গুজরাটি, জৈন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা সকলেই ভবানীপুরে মমতার অবদানের কথা তুলে ধরেন। গুজরাটি সম্প্রদায়ের যশবীর বললেন, ”প্রথম ভোট দিয়েছিলাম আপনাকেই”। পাঞ্জাবি ভাষায় এক যুবক বলেন, ”কলকাতায় গুরুদ্বারের যে সমস্যা হয়েছিল, তা আপনি সঙ্গে সঙ্গে মিটিয়েছেন।” মাড়ওয়াড়ি সম্প্রদায়ের এক প্রতিনিধির কথায়, ”এত প্রেম, এত পেয়ার অন্য কোথাও নেই।” এক কথায় বলা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে সবাই আপ্লুত হয়ে যান।
এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে বক্তব্য রাখেন। একাধিক ভাষা মিলিয়ে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ”ভোট হোক না হোক, আমি গুরুদ্বারে যাই। মসজিদে যাই। গির্জায় যাই। আমি চেয়ে চেয়ে হালুয়া খাই। আমার সঙ্গে আপনাদের ভালবাসা হয়, অন্য কারও হয় না। আমার সঙ্গে যে অত্যাচার হয়েছে এবার ভোটে প্রত্যেকে ভোট দিয়ে তার জবাব দিন, আশীর্বাদ করুন।” এরপর তাঁর বার্তা, ”সবাই ভোরে উঠে ভোট দেবেন, বৃষ্টি হলেও একটু ধৈর্য ধরে ভোট দিয়ে আশীর্বাদ করবেন।” এদিন নাম না করে বিজেপিকে একহাত নেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”নন্দীগ্রামকে পাকিস্তান বলছিল, এখন ভবানীপুরকেও পাকিস্তান বলবে। কিন্তু আমি হিন্দুস্তানকে পাকিস্তান হতে দেব না।” বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বললেন, ”আমি আমেদাবাদে গিয়েও লড়ব।”
এরপর তিনি ভবানীপুরের লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে পুজো দিতে যান। ফুল-মালা দিয়ে পুজো দেওয়ার পর পুরোহিতদের আশীর্বাদ নেন মমতা। এরপর মন্দিরের প্রসাদ নিয়ে সমস্ত দর্শনার্থীর মধ্যে নিজে হাতে বিলি করেন। কেন তিনি ভবানীপুরের ‘ঘরের মেয়ে’, সেটা এভাবেই বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related Articles

Back to top button
Close