fbpx
দেশহেডলাইন

শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্মীলাভ

১৯৮০ সালে  মাত্র ১০,০০০ টাকার বিনিয়োগ  ২০২১ সালে ৮০০ কোটি টাকা

 

অনিমেষ সাহা

 

সাধারণত শেয়ারবাজার যখন ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তখনই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনিয়োগ করার প্রবণতা জাগে। আবার বাজার পড়ে গেলে ভয় ঘিরে ধরে। এই ওঠাপড়ার মধ্যেই নতুন দাম তৈরি হয়। শেয়ারবাজার নিয়ে দুই ধরনের বিশেষজ্ঞদল কাজ করে। এক দল হল ফান্ডামেন্টাল এবং অন্যদল  হল  টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ। এদের মধ্যে এক দল কোম্পানির ব্যাবসার লাভ, ক্ষতি এবং পরিধি নিয়ে আলোচনা করে। অন্য দল শেয়ারের দাম নিয়ে চর্চা করে। তবে দুই বিশেষজ্ঞ দল কাজ করলেও তারা মনে করে কোনও শেয়ারের বাণিজ্যিক  ক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা ধরতে পাড়লে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অনেগুণ অর্থ ফেরত দিতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ- এখন প্রশ্ন হতে পারে শেয়ারবাজার  দীর্ঘমেয়াদ মানে কতদিন ধরে বিনিয়োগ করতে হবে। কেউ পাঁচ মাসকে দীর্ঘ মেয়াদ মনে করে। কেউ এক বা দু’বছর। আবার কেউ দশ বছর বা ত্রিশ বছরকে দীর্ঘ মেয়াদ বলে মনে করেন।সাধারণত মধ্যবিত্তদের মধ্যে ধারণা ডাকঘরে বা ব্যংকে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করে দিলে নিশ্চিন্ত। কিন্তু বর্তমান বাজার দর এবং মূল্যবৃদ্ধির  পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করলে যে সুদের হারে আমরা টাকা রাখি তা এতটা নগন্য যা বহু বছর আমাদের রেখে দিতে হয়  বাড়তি কিছু মূল্য পাওয়ার জন্য। সম্ভবত, বর্তমানে কোনও অর্থ দ্বিগুণ করার জন্য দশ বছরের বেশি রাখতে হবে।কিন্তু শেয়ার বাজারে দেখা গিয়েছে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে বহু অর্থ রোজগার করা গিয়েছে। কিন্তু যে মুহুর্তে আমরা এই সত্যের মুখোমুখি হয়েছি তখনই দেখা গিয়েছে বিনিয়োগকারি তার বিনিয়োগের পরের দিন খোঁজ নিতে শুরু করে কতটা তার মূল্য  বৃদ্ধি পেয়েছে। যার পরিনাম বাজারের উত্থান পতনে ভয়ের সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ থেকে বেরিয়ে আসা। যা সার্বিকভাবে শেয়ারবাজার সম্পর্কে ভুল ধারণার জন্ম দিয়েছে।

ধৈর্য বুদ্ধি–  শেয়ারবাজারে মূলত প্রচন্ড ধৈর্যের প্রয়োজন। আর প্রয়োজন বিশ্লেষণের ক্ষমতা। যা কোনও সংস্থার সম্পর্কে  হতে পারে। আবার দেশ-বিদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অবস্থাও হতে পারে। কারণ এসমস্ত কিছুই প্রভাবিত করে শেয়ারবাজারকে। অবশ্য সেই বিশ্লেষণের জন্য অবশ্যই নিজেকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। তা না হলে বিপদ ঘটতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ফল– এ প্রসঙ্গে উইপ্রো শেয়ারটিকে নেওয়া যেতে পারে। সংস্থাটি ১৯৪৫ সালে সংস্থাটি তার কাজ শুরু করেন মহামেদ  প্রেমজির হাত ধরে। যার মূল ব্যবসা ছিল রিফাইন তেল  তৈরি করা। ১৯৬৬ সালে মহামেদ প্রেমজির ছেলে আজিম প্রেমজি ব্যবসার হাল ধরেন। তবে তিনি ব্যবসার প্রকৃতি বদলে তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাঁর ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটান। ১৯৮০ সালে উইপ্রো  শেয়ারটির  দাম ছিল ১০০ টাকা। বর্তমানে এই শেয়ারের দাম ৬৭০ টাকা। ১৯৮০ সালে যারা ১০,০০০ টাকা দিয়ে ১০০ শেয়ার কিনেছিল ২০২১ সালের প্রথম দিকে ৪২০ টাকা করে ধরলে সেই বিনিয়োগের বর্তমান মূল্য গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৬ কোটি টাকা। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও শেয়ারবাজারের এটাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফল। অবশ্য যদি কোনও বুদ্ধিমান  বিনিয়োগকারি সংস্থার ব্যাবসায়িক পরিধি সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে পারে তবে আগামী দিনে অবশ্যই ভালো ফল পাবে। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে এটা কিভাবে সম্ভব হল। মূলত সংস্থাটি বহুবার বোনাস এবং নিজেদের মুল্য ভেঙে আবার তার বিনিয়োগকারিকে শেয়ার দিয়েছে। তার ফলে  শেয়ারের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১,৯২,০০,০০০ শেয়ারে। তাই দাম বেড়েছে ভয়ংকরভাবে।

নতুন পথে বাজার– ১৯৯০ দশকের পর বিশ্বায়নের প্রভাব যত পড়তে লাগল বাজারের গতিবিধি বদলে গেল। ২০০৮ সালের মন্দা বহু শেয়ারকে তলানিতে নিয়ে গিয়েছিল। আজ বেশির ভাগ মানুষের কাছে স্মার্ট ফোন রয়েছে। তাতেই দেখা যাচ্ছে শেয়ারের দাম। আর বাজারের উত্থান পতনের পরিধি বেড়েছে। তাই বিনিয়োগের দিশা বদলেছে। আজও বহু শেয়ার রয়েছে যাদের দাম এখনও সেই স্তরে গিয়ে পৌঁছাতে পারেনি। সেই সমস্ত শেয়ারের খোঁজ ক্রা বিনিয়োগকারীর কাজ। বাজারে এলএন্ডটি, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি, টাটা স্টিল তাদের বিনিয়োগকারিকে বহু গুণ অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছে। নিজের বিনিয়োগ বুদ্ধি বা সঠিক বিনিয়োগ উপদেষ্টার পরামর্শ  এব্যাপারে নেওয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে বিচক্ষণ বিনিয়োগ এবং ধৈর্য নিজের পুঁজিকে বহুগুণ করে দিতে পারে। কিন্তু অবশ্যই বাজারগত ঝুঁকিকে মেনে নিয়েই এগোতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close