fbpx
কলকাতাহেডলাইন

কলকাতায় সল্টলেকের গেস্ট হাউজে বুকিং সত্ত্বেও ১০ জন মাদ্রাসার শিক্ষককে হেনস্তা! ক্ষোভ বিভিন্ন সংগঠনের

মোকতার হোসেন মন্ডল: কলকাতার সল্টলেকে গেস্ট হাউজে বুকিং সত্ত্বেও ১০ জন মাদ্রাসার শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ উঠলো। আর সোমবারের এই ঘটনা সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের একাংশ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। শিক্ষকদের অভিযোগ,  মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মুসলিম বলেই তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পূর্ব বিধান নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানিয়েছেন,  ১২০০ টাকা করে তিনটি রুম বুক করা ছিল সল্টলেকের ডি এল থার্টি নাইন বাড়িটির গেস্ট হাউসে।  সেখানে সকালে ১০ জন স্কুল শিক্ষক এসে পৌঁছন মালদহ থেকে। রেজিস্টরের সই হওয়ার পর ঘর দেখাতে যাবার আগে তাঁদের বলা হয় এখানে জায়গা নেই। তাঁদের পাঠিয়ে দেয়া হয় সি এল ১৬৪ বাড়ির গেস্ট হাউস-এ। সেখানে ঘন্টা তিনেক বসিয়ে রাখার পর তাঁদেরকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের পক্ষ থেকে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানানোর পরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের মইদুল ইসলাম পুলিশকে জানান,মালদা জেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে ১০ জন শিক্ষক নিজেদের বিশেষ পেশাগত কাজে বিকাশ ভবনে মাদ্রাসা দপ্তরে এসেছিলেন। যেহেতু বিকাশভবনে তাঁদের কাজ তাই শিক্ষকরা  আমার মারফত সল্টলেক ডিএল ব্লকের ট্রিনিটি গেষ্ট হাউস আগে থেকে বুক করেন। তিনটি রুম বুক করা হয় অগ্রিম টাকা দিয়ে। সকাল ৬ টায় তাঁরা (শিক্ষকরা) মালদা থেকে সল্টলেকে আসেন। সেই মতাে তাঁরা ট্রিনিটি গেষ্ট হাউসে উঠেন এবং নিজেদের পরিচয় পত্র দিয়ে রেজিষ্টার করে রুম নেন। ২ ঘন্টা পরে হেটেল থেকে তাদের অন্য গেষ্ট হাউসে নিয়ে যায় যার নম্বর CL 164।সেখানে দীর্ঘক্ষন বসিয়ে রাখেন। তার পরে তার ম্যানেজার বলেন, আপনাদের রুম দেওয়া হবে না। আপনারা (শিক্ষকরা) হেটেল ছেড়ে দিন। চুড়ান্ত অপমান করা হয়। বাইরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষকগণ হােটেল ছাড়তে বাধ্য হয়। কারন হিসাবে বলেন, যেহেতু আপনারা ( শিক্ষকরা ) প্রত্যেকে মুসলিম তাই স্থানীয় বাসিন্দারা  প্রবল আপত্তি করছেন আমাদের কিছু করার নেই।’

ওই শিক্ষক আরও জানান, আমি অবাক হলাম কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের এই বাংলায় ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা দেখে।
এদিকে বিতর্কের মধ্যে গেস্ট হাউজ কর্তৃপক্ষ বলছেন,অভিযোগকারী শিক্ষকদের বুকিং ছিল না। কিন্তু শিক্ষকদের অভিযোগ,গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ অমানবিক আচরণ শুধু করেছেন এমনটি নয়, চরম দুর্ব্যবহারও করেছেন তারা। একপ্রকার বলপূর্বক গেস্টহাউস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে সবাইকে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষকরা।

আরও পড়ুন: রেল সফরে সংক্রমণ রুখতে কড়া রেল, থুথু ফেললেই ৫০০ টাকা জরিমানা

এ প্রসঙ্গে সিপিআই(এম)’র পলিট ব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ইংরেজ আমলে এই ধরনের সংস্কৃতি ছিল। ক্লাব, হোটেল, সেলুনকারে লেখা থাকত সেগুলি সাদা চামড়ার লোকেদের জন্য, ‘ডগস অ্যান্ড ইন্ডিয়ানস আর নট অ্যালাউড’। স্বাধীন ভারতে কোনও আইনে ধর্ম, জাত, লিঙ্গ ইত্যাদির ভিত্তিতে ভেদাভেদ করা যায় না। এটা আইনত নিষিদ্ধ। গেস্ট হাউস হোটেল চালাতে গেলে পুলিশ, পৌরসভার অনুমতি নিতে হয়। এখনই ওই গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে, মালিককে গ্রেপ্তার করতে হবে। বৈষম্য করে বেআইনি কাজ করেছেন ওঁরা।

ওই সিপিএম নেতা আরও বলেন, আমাদের বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের গর্বের ঐতিহ্য ধংস করা হচ্ছে। সল্টলেকের মতো জায়গায় যা ঘটল সেটা শুধু লজ্জার নয়, আমাদের রাজ্যে এবং দেশে ধর্মের নামে কী পরিমণ্ডল তৈরি করা হচ্ছে তা দেখিয়েও দিল। এতো ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি! তৃণমূলের নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হিজাব পরে মৌলানা বরকতিকে নিয়ে যা করছে তাতে সংখ্যালঘু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কিছুই সুরক্ষিত হয়নি, কেবল বিজেপি-আরএসএস’এর সুবিধাই হয়েছে। গত দশবছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোন রাজনীতি করেছেন যার ফলে বিজেপি-আরএসএস’এর হাতে সবকিছু তুলে দিচ্ছেন?  ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কবি জয় গোস্বামী,অভিনেতা কৌশিক সেন সহ অনেকে। সংখ্যালঘু বেশ কিছু সংগঠনও ঘটনার নিন্দা করেছে। তবে এই ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর থানার পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close