fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ৫ দিনে ১৭ জন করোনা আক্রান্ত

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনা ভাইরাসের কারণে সংরক্ষিত চিত্তরঞ্জন রেল শহরে বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাঞ্জা রয়েছে। তারপরও শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালের এক মহিলা ড্রেসার কর্মী করোনা আক্রান্ত হলেন। তার লালারসের রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পরেই শহর জুড়ে আতঙ্ক দেখা দিল। যেহেতু ঐ মহিলা কর্মী কেজি হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরে, তাকে কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

স্বাভাবিকভাবেই এই হাসপাতালে একাধিক ডাক্তার, নার্স সহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের তালিকা তৈরি করে তাদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল রেল কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও ঐ মহিলার স্বামী ও ছেলেমেয়ে যেহেতু হাসপাতাল কলোনির আবাসনে থাকে, তাই তাদেরও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বলে জানা গেছে।

রেল সূত্রে জানা যায়, বছর ৪৮ এর ঐ মহিলা চিত্তরঞ্জন কেজি হাসপাতালের ড্রেসার পদে কাজ করেন। কয়েক দিন আগে হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে তিনি কেজি হাসপাতালেই ভর্তি হন। চারদিন আগে তাকে রেফার করা হয় কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই মঙ্গলবার তার লালারসের পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হওয়ার রিপোর্ট আসে । বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে চিত্তরঞ্জনে রেল কতৃপক্ষকে জানানো হয়। তারপরই ঐ মহিলার স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়।

এদিকে, এদিনই কেজি হাসপাতালকে স্যানিটাইজেশন করার পাশাপাশি হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তা সিল করে রাখা হয়েছে। এখন খোঁজ চলছে ঐ মহিলার সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিলেন। তাদের প্রত্যেককেই কোয়ারান্টাইন করা হবে। এমনিতেই এই শহরের ভেতরে রেলের গেট দিয়ে ঢুকতে গেলে আরপিএফ সব পরীক্ষা করে। তারপর নামের তালিকা নেওয়ার পরে ঢুকতে দেওয়া হয় । বাইরের কোনো গাড়িকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, বিশেষ অনুমতি ছাড়া। এমনকি যেসব রেলকর্মী লকডাউনের জন্য শহরের বাইরে আছেন, তাদেরও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এই ঘটনার পরে শহরে সবচেয়ে বড় আমলাদাহি বাজার এলাকা সহ সর্বত্র আরও কড়াকড়ি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, আসানসোলের হিরাপুর থানার বার্ণপুরের পূর্নিয়া তলাওয়ের বাসিন্দা ২৭ বছরের মহিলার শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তাকে বাড়ি থেকে দূর্গাপুরের কোভিড ১৯ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, মহিলা তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকদিন আগেই কলকাতার সাঁতরাগাছি থেকে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলেন। স্থানীয় মানুষের দাবি মেনে তারা আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে যান। মহিলার লালরসের রিপোর্ট সোমবার আসে । জানা যায়, তিনি করোনা পজিটিভ।

একইভাবে, বার্ণপুরের ধরমপুরের বাসিন্দা ৩৫ বছরের এক যুবকের করোনা পজিটিভ বলে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে। দিনকয়েক আগে, ঐ যুবক পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে মুম্বই থেকে ডুবুরডিহি চেকপোস্ট হয়ে আসে। সেখানে তার লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সোমবার রাতে তা রিপোর্ট আসে। এর পর তাকে দূর্গাপুরের কোভিড ১৯ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিন সকালে আসানসোল পুরনিগমের তরফে বার্ণপুরের দুই এলাকা স্যানিটাইজেশন করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ১০ জনের শরীরে করোনা পাওয়া গেছে। আপাতত জেলায় করোনা আক্রান্তর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৯।

Related Articles

Back to top button
Close