fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

দীর্ঘ বিরতির পর আজ থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই দীর্ঘ বিরতির পর আজ থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের বাদল অধিবেশন। করোনা বিধি মেনেই অত্যন্ত সতর্কতা মেনেই অধিবেশনে সামিল হবেন সাংসদরা। ১৮ দিন ধরে চলবে এই অধিবেশন। থাকছে না কোনও প্রশ্নোত্তর পর্ব। মাত্র আধঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে জিরো আওয়ারের জন্য। এই নিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ বিরোধীরা।

জানা গিয়েছে, এই অধিবেশনে পেশ করার জন্য ১৮টি বিল ও দুটি অর্থনৈতিক বিষয় রয়েছে তালিকায়। রবিবার সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক ছিল। সেখানেই এই বিলের তালিকা তৈরি হয়। এই বিল নিয়ে আলোচনার জন্য সূচিও তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে নিয়ম অনুযায়ী যে সর্বদল বৈঠক হয় তা আর এবার হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। চলতি পরিস্থিতিতে অনেক কিছু বদল হয়েছে অধিবেশনে। যেমন প্রতিদিন দুই কক্ষ অর্থাত্‍ লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশনের জন্য চার ঘণ্টা করে সময় ধার্য করা হয়েছে। জিরো আওয়ার কমিয়ে অর্ধেক করা হয়েছে। প্রশ্নোত্তর পর্ব নেই। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে বিরোধীদের।

জানা গিয়েছে প্রতিদিন রাজ্যসভার অধিবেশন চলবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। অন্যদিকে দুপুর ৩টেই শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে লোকসভার অধিবেশন। অর্থাত্‍ দুটি অর্ধে দুটি সেশন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একমাত্র প্রথম দিন অর্থাত্‍ আজ সকালের সেশন হবে লোকসভায়। প্রশ্নোত্তর পর্বের জায়গায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে টেবিলের উপর প্রশ্ন দিয়ে দিতে হবে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে বেজায় চটেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, সরকার সংসদের উপহাস করছে। তারা প্রশ্নোত্তর পর্ব বন্ধ করে দিয়েছে। তার সঙ্গে জিরো আওয়ারও অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। আলোচনার অবকাশ না দিয়েই একের পর এক বিল পাশ করার চেষ্টা করছে তারা।

আরও পড়ুন: কোভিড বিধি মেনে কলকাতার গঙ্গার ঘাটে হবে তর্পণ, থাকছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা

গত ৭০ বছরে এমন শাসন দেখা যায়নি বলেই দাবি বিরোধীদের।  মার্চ মাসে করোনা সংক্রমণের জন্য বন্ধ করে দিতে হয় সংসদের অধিবেশন। তারপরেই দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই অধিবেশন খোলার পরেই যে বিলগুলি তালিকায় রয়েছে সেগুলি মূলত কৃষকদের সুবিধা, নিত্য প্রয়জনীয় সামগ্রী, সাংসদ ও মন্ত্রীদের বেতন, শ্রমিক আইন, প্রভিডেন্ট ফান্ড, বিমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, শ্রমিক সংগঠন প্রভৃতি বিষয়ে রয়েছে। সাংসদ থেকে সাংবাদিক, সবাইকে নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব মেনেই বসতে হবে অধিবেশন চলাকালীন। এর জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ নিয়ে আসা হয়েছে। এই অ্যাপেই কবে তাঁরা উপস্থিত থাকবেন সেই বিষয় উল্লেখ করলেই তাঁদের জন্য সিটের উল্লেখ করে দেওয়া হবে।

রবিবার বিএসির বৈঠকে সরকারের তরফে যখন এবারের অধিবেশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয় এবং বিস্তারিত সময় চাওয়া হয়, তখন প্রতিবাদ জানান তৃণমূলের লোকসভার হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সরকার ও বিরোধী দু’তরফের বিবাদের মধ্যে স্থির হয়, মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর আবার বৈঠকে বসবে বিএসি, যেখানে স্থির করা হবে সভার বিস্তারিত কার্যসূচি৷ পরে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সংসদকে নোটিস বোর্ড-এ পরিণত করতে দেব না৷ সরকারের যেমন সময় প্রয়োজন বিল পাশের জন্য, তেমন আমাদেরও সময় চাই সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখার জন্য৷ মোদী সরকার জিএসটির ন্যায্য প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না, সব রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করেই জাতীয় শিক্ষা নীতির প্রচলন করে ফেলল, বাংলাকে প্রতি পদে বঞ্চনা করা হচ্ছে, এ সবের বিরুদ্ধে সংসদে দাঁড়িয়েই প্রতিবাদ জানাতে চাই আমরা৷’একই দাবি তুলেছেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী৷ দিল্লি দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশের তৈরি চার্জশিটে ইয়েচুরিদের নাম থাকার বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা অভিযোগ করে এই মর্মে লোকসভায় আলোচনার দাবি জানাবেন তাঁরা, খোলাখুলিই জানান অধীর চৌধুরী৷ তাঁর কথায়, ‘বিরোধীদের কন্ঠরোধ করার প্রচেষ্টা সমর্থনযোগ্য নয়৷ সরকার যত ইচ্ছে বিল পাশ করুক, কিন্তু আমাদের বলার সুযোগ দিতে হবে৷’

Related Articles

Back to top button
Close