fbpx
গুরুত্বপূর্ণব্লগহেডলাইন

১৯৯৯-এর সুপার সাইক্লোন! ২১ বছর পরে সেই দুঃস্বপ্নই কি ফিরে আসতে চলেছে আবার?

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ২১ বছর পরে সেই দুঃস্বপ্নই কি ফিরে আসতে চলেছে আবার? ফের আরও একবার আছড়ে পড়তে চলেছে সুপার সাইক্লোন। সেই ২১ বছর বছর আগের স্মৃতি এখন তাজা রয়েছে বিশেষ করে ওড়িশাবাসীর মনে। ১৯৯৯ সালের ২৯ অক্টোবর তারিখটা আর কোনওদিন মনে রাখতে চাইবে না ওড়িশা, ভারত, কেউই!‌ কারণ, সেদিন সুপার সাইক্লোনের দাপটে ওড়িশায় মৃত্যু হয়েছিল ন’‌হাজারের বেশি মানুষের। তত্‍কালীন মূল্যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল ৪৪০ কোটি টাকার সম্পত্তি। আবহবিদরা বলছেন, সেই একই পথ ধরে এবারে আসছে আমফান। প্রশাসনের সমস্তরকম ব্যবস্থা, সতর্কতা নেওয়ার পরও ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে পরিকল্পনাতীত। এখন প্রস্তুতি শুধু ঝড়ের তাণ্ডব কাটিয়ে কত দ্রুত আয়ত্তে আনা যায় পরিস্থিতি। আসলে প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলার কাছে আমরা সত্যিই অসহায়। সেবারে গতিপথে সামনে পড়েছিল ওড়িশা। এবারে সেই পথেই এসেছে পশ্চিমবঙ্গ!‌

আজও এই রাজ্যের সমুদ্র তীরবর্তী কিছু গ্রামে গেলে চোখে পড়বে সুপার সাইক্লোনের ভয়াবহ স্মৃতি। দেড় দুই মানুষ সমান বালি চাপা দিয়ে রেখেছে সব ঘরবাড়ি। বালির চাপে হেলে গিয়েছে একের পর এক নারকেল আর সুপারি গাছ। সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে জনপদের ধ্বংসস্তূপ। রয়ে গিয়েছে প্রবল জলস্রোত বয়ে যাওয়ার সব চিহ্ন। বদলে গিয়েছে এলাকার মানচিত্র। চাষের জমি ঢাকা পড়েছে বালিতে। জলা জমি হারিয়ে গিয়েছে। রাস্তাঘাট মেলে না। সর্বত্রই শ্মশানের নিস্তব্ধতা। এ ছবি ওড়িশার পূর্ব উপকূল ধরে যত দক্ষিণ দিকে যাবেন ততই চোখা পড়বে। ১৯৯৯ সালে এই তটেই আছড়ে পড়েছিল সুপার সাইক্লোন। যার ধাক্কা এখন অনেকটা সামলে নিলেও তার ক্ষতচিহ্ন জগন্নাথের ভূমি আজও বয়ে নিয়ে চলেছে। আবারও ২১ বছরের মাথায় আসছে আবার এক সুপার সাইক্লোন। তাতেই কাঁপছে ওড়িশা।

আরও পড়ুন: গতি বাড়িয়ে বাংলার দিকে এগিয়ে আসছে আম্ফান, মোকাবিলায় তত্‍পর দিঘা-কাঁথি-সুন্দরবন উপকূল

কী হয়েছিল সেবারের ঝড়ে? সুপার সাইক্লোনে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল প্রায় ২৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়‌, যা স্থায়ী হয়েছিল মাত্র তিন মিনিট। আর তাতেই ওড়িশার একটি জেলাতে মৃত্যু হয় সাড়ে আট হাজার মানুষের। ওড়িশার ১২টি জেলায় কম বেশি মানুষের মৃত্যুর খবরা পাওয়া যায়। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন দেড় কোটি মানুষ। নষ্ট হয়েছিল ১৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার জমির ফসল। ঝড়ের ফলে ৫-৬ ফুট উঠে এসেছিল সমুদ্র, ফলে স্থানীয় ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় ঢুকে পড়েছিল সমুদ্রের নোনা জল। শুধু পারাদ্বীপ বন্দরে ক্ষতি হয়েছিল ৩০ কোটি টাকার। গোপালপুর এলাকায় টানা ২৭টি গ্রাম একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গেও প্রভাব পড়েছিল ঝড়ে। তত্‍কালীন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় মৃত্যু হয়েছিল ৩০ জনের। তাই ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা যে নরক যন্ত্রণা ডেকে এনেছিল দেশে। বলা হয়, সরকারি ভাবে সেই ঝড়ে ৯ হাজার মৃত্যুর কথা বলা হলেও, মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজারে মতো। অসংখ্য দরিদ্র মানুষ শুধু মাত্র নিরাপদ স্থানের অভাবে ঝড়ের তাণ্ডবে মারা গিয়েছিলেন। শোনা যায়, সমুদ্রের ঢেউ উঠেছিল তিরিশ ফুটের বেশি, অর্থাত্‍ তিনতলা বাড়ির সমান। এমন ভয়ানক ঝড়ের মুখে পড়ে প্রায় সব শেষ হয়ে গিয়েছিল ছোট্ট উপকূল শহর পারাদ্বীপের।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে বেড়েছে বাঘের সংখ্যা……

আসলে ওড়িশার সরকার সেবার সাইক্লোনকে এত গুরুত্ব দেয়নি। কোন পথে আসছে ঝড়, সেই বিষয়েও সঠিক তথ্য ছিল না। ওড়িশার লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল না। সরকারের হাতে ছিল না আধুনিক প্রযুক্তি। আর এই অনভিজ্ঞতার মাশুল দিতে হয়েছিল ১০,০০০ মানুষকে। অন্তত সাড়ে ৩ লক্ষ বাড়ি ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল। ২ লক্ষ পশুর মৃত্যু হয়েছিল। প্রায় গোটা একটা দিন বিশ্বের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল ওড়িশার। ঠিক দু’দিন আগেই এসে পৌঁছেছিল সতর্কবার্তা। কিছু মানুষকে সরানোর ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু সরকার তখন মাত্র ২১টি শিবিরের ব্যবস্থা করেছিল। সেখানে ২০০০ মানুষকে রাখা সম্ভব ছিল।

এছাড়া অনেকেই ভয়াবহতা বুঝতে না পারায় বাড়ি ছেড়ে যেতে রাজি হননি। ২১ বছর আগে ২৯ অক্টোবর দুপুরে পারাদীপে প্রথম আঘাত করে সেই সাইক্লোন। গতিবেগ ছিল ২৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। যতক্ষণে সবাই বুঝে উঠতে শুরু করল তখন আর কিছু করার নেই। মুহূর্তে সব ধুলোয় মিশে গিয়েছিল। সরকারের কাছে খবর ছিল ভুবনেশ্বর আর কটকে কোনও প্রভাব পড়বে না। আর সেই তথ্য ছিল ভয়ঙ্করভাবে ভুল। ওই দুই শহরকে ঝড়ের পর চেনাই দায় হয়ে পড়েছিল। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে চলেছিল তাণ্ডব।

 

Related Articles

Back to top button
Close