fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

ভারতে প্রায় ২০০ ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত: IMA

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা আবহে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ্যে আনল ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন । শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আইএমএ’র তরফে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির উদ্দেশ্য চিকিত্‍‌সক ও চিকিত্‍‌সকদের পরিবারের যথাযথ যত্ন। এ পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ২০০ চিকিত্‍‌সকের কোভিডে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করে, আইএমএ মোদিকে জানায়, চিকিত্‍‌সক ও তাঁদের পরিবার ‘স্পেশ্যাল রিস্ক গ্রুপ’-এর মধ্যে রয়েছে।

বিভিন্ন সেক্টরের চিকিত্‍‌সকেরা যাতে কেন্দ্রীয় জীবনবিমা ও মেডিক্যালের সুবিধা পান, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানানো হয়। ‍‌ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)-এর তরফে শনিবার সরকারি ভাবে কোভিডে শহিদ হিসেবে ১৯৬ ডাক্তারের কথা জানানো হয়েছে। কোভিডে মৃত চিকিত্‍সক‌দের বড় অংশই জেনারেল প্র্যাক্টিশনার। আইএমএ’র তরফে বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীকে গুরুত্ব দিতে আর্জি জানানো হয়েছে।

                 আরও পড়ুন: অগ্নিকাণ্ডে ভষ্মীভূত ট্রলার, আহত একাধিক মৎস্যজীবী

এছাড়া ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এ পর্যন্ত গোটা দেশে ১৯৬ জন ডাক্তার করোনায় মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে ১৭০ জন চিকিত্‍‌সকের বয়স ছিল পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে। মৃত চিকিত্‍‌সকদের মধ্যে ৪০ শতাংশই জেনারেল প্রাক্টিশনার। চিকিত্‍‌সক সংগঠনের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, রোজই কোভিড আক্রান্ত ডাক্তারের সঙ্গে বাড়ছে। তাঁদের মধ্যে অনেকেই মারা যাচ্ছেন। এই মৃত চিকিত্‍‌সকদের বড় অংশই জেনারেল প্র্যাক্টিশনার। আইএমএ’র বক্তব্য, লোকে আগে জেনারেল প্র্যাক্টিশনারের কাছেই যান। জ্বর বা সর্দিকাশির মতো উপসর্গ নিয়ে তাঁরা যাচ্ছেন। ফলে, এই জেনারেল প্র্যাক্টিশনাররাই করোনায় বেশি করে সংক্রামিত হচ্ছেন। তাঁদেরই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

ফলে, এই জেনারেল প্র্যাক্টিশনার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যাতে কেন্দ্রীয় জীবনবিমা ও মেডিক্যাল সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানানো হয়। দেশজুড়ে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় ৩.৫ লক্ষ চিকিত্‍‌সক রয়েছেন। আইএমএ’র বক্তব্য, কোভিডের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি ডাক্তারের বিভাজন ঠিক হবে না।

বারবার দেশজুড়ে অভিযোগ উঠছে অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্ত চিকিত্‍‌সকেরা হাসপাতালে বেড পাচ্ছেন না। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে এমন ঘটনা সামনে এসেছে। এদিন তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষোভ উগরে দেয় চিকিত্‍‌সক সংগঠন। IMA-এর জাতীয় সভাপতি ডাক্তার রঞ্জন শর্মা বলেন, চিকিত্‍‌সক ও তাঁর পরিবার কোনও ভাবে করোনায় আক্রান্ত হলে, অনেক ক্ষেত্রেই চিকিত্‍‌সার জন্য হাসাপাতালে বেড পাচ্ছেন না। কোভিড আক্রান্ত চিকিত্‍‌সক বা তাঁদের পরিবারের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত। ওষুধ নিয়েও তাঁদের ভুগতে হচ্ছে। কেন্দ্রের কাছে চিকিত্‍‌সক সংগঠনের অনুরোধ, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিত্‍‌সকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে বিশেষ নজর দিতে হবে।

আইএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আরভি আশোকান বলেন, চিকিত্‍‌সকদের মধ্যো কোভিডে মৃত্যুহার যথেষ্ট বেশি। প্রত্যেক চিকিত্‍‌সকের জীবন বাঁচলে তাঁর সঙ্গে হাজার হাজার রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

Related Articles

Back to top button
Close