fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

যাদবপুরে সিপিএমের রক্তক্ষরণ অব্যাহত!

গেরুয়া বেশ পরলেন কাউন্সিলর রিঙ্কু নস্কর সহ ২ হাজার নেতা-কর্মী

রক্তিম দাশ, কলকাতা: বিহারের বিধানসভা ভোটের সাফল্যে আলিমুদ্দিনের কর্তারা যতই উল্লসিত হন না কেন, একুশের আগে ফের যাদবপুরের লালদূর্গে সিপিএমের রক্তক্ষরণ ঘটল। মঙ্গলবারের বারবেলায় সিপিএম ত্যাগ করে গেরুয়া পতাকা হাতে তুলে নিলেন যাদবপুরের ১০২ নম্বর ওর্য়াডের দু’বারের কাউন্সিলার তথা গত লোকসভা মথুরাপুর লোকসভার বামপ্রার্থী রিঙ্কু নস্কর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার যুব নেতা ধীমান কুণ্ডু। তাঁর সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিলেন যাদবপুর বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন ওর্য়াডের সিপিএমের যুব-ছাত্র-মহিলা সহ ২ হাজার নেতা-কর্মী।

এদিন হেস্টিংসে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে যাদবপুরে সিপিএম ছেড়ে আসা নেতা-কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে বিজেপিতে বরণ করে নেন রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদিকা সংঘমিত্রা চৌধুরী, রাজ্যনেত্রী ডা. অর্চনা মজুমদার, দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি শঙ্কর শিকদার, যাদবপুর ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি নিতাই মণ্ডল প্রমুখ।
গত জানুয়ারি মাসে সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তীর ছায়াসঙ্গী বলে পরিচিত গোবিন্দ দাস তাঁর অনুগামীদের নিয়ে দিলীপ ঘোষের হাত ধরে

বিজেপিতে যোগদান করার পর থেকেই দীর্ঘ দিনের লালদুর্গ বলে পরিচিত যাদবপুরের বিভিন্ন ওর্য়াড থেকে নিচুতলার বামকর্মীরা দলে দলে গেরুয়া সরণে আসতে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার রিঙ্কু নস্কররা বিজেপিতে এলেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, আজ যাদপুরের সিপিএমের কাউন্সিলর রিঙ্কু নস্কর এবং যুব নেতা ধীমান কুণ্ড সহ যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিলেন তাঁদের দলের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই। যাঁরা যোগ দিলেন তাঁরা দলে যোগ্য সম্মান পাবেন। একুশের ভোটে আগে যাদবপুর বিধানসভায় আমাদের শক্তি বৃদ্ধি হল। আরও অনেকেই আসবেন বলে যোগাযোগ করছেন। সময় মতো তাঁরা দলে যোগ দেবেন।

বর্তমানে বিজেপির তপসিলি মোর্চার রাজ্য নেতা গোবিন্দ দাস এদিন বলেন, ‘যে যাদবপুরের মানুষ কংগ্রেস আমলে অত্যাচারিত হয়ে সিপিএমের পাশে দাঁড়িয়েছিল আজ তাঁরা বাম-কংগ্রেস জোটকে মেনে নিতে পারছেন না। বিহারের ফল দেখে নকশালরা আবার সিপিএম-তৃণমূল-কংগ্রেস-নকশাল জোট করার কথা বলছে একুশের ভোটে। লকডাউনের সময় থেকে সিপিএম যাদবপুরে শ্রমজীবী ক্যান্টিনের নামে ব্যবসা চালাচ্ছে। ২০ টাকার খাবার বিক্রি করে ৪ টাকা লাভ করার কথা সিপিএম নেতারা নিজেরাই বলছেন। পুরসভার অনুমতি নিয়ে কি খাবারের ব্যবসা চলছে? আমি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সময় দিলীপদা বলেছিলেন, সময় আসবে যখন সিপিএমকে শুধু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে। একবছরের মধ্যে দিলীপদার সেই কথাই সত্যি হতে চলেছে, একুশের ভোটের আগে যাদবপুরে সিপিএমের পার্টি অফিস খোলার লোক পাওয়া যাবে না।’

রিঙ্কু নস্কর বলেন, ‘রাজনীতিতে জনগণ শেষ কথা। এটা তো সিপিএমের শিক্ষা। যাদবপুর সহ গোটা ভারতবর্ষের মানুষ আজ বিজেপিকে গ্রহণ করেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে আমি জনগণের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। তাঁরাই চাইছেন আমি বিজেপিতে যোগ দিই। তাই আজ আমি বিজেপিতে যোগ দিলাম।’

সিপিএমকে কটাক্ষ করে রিঙ্কু বলেন,‘ সিপিএম নেতারা সাধারণ মানুষের লড়াই থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। নেতাদের কোনও নীতি আর্দশ নেই। যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করের যাদবপুরে বাসিন্দারা সিপিএমকে আপন করে নিয়েছিল, আজ সেই কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে জোট হচ্ছে নীতি আর্দশ বিসর্জন দিয়ে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই বিজেপি লড়ছে। মোদিজি-অমিত শাহর নেতৃত্বে আজ আমাদের দেশ আত্মনির্ভর ভারত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। বাংলায় তৃণমূলের শাসনে মানুষ অতিষ্ঠ। এর বিরুদ্ধে জনগণের মুক্তি আনতে পারে একমাত্র বিজেপি। একুশের ভোটে যাদবপুরে সিপিএমের পতন ঘটবেই। বিজেপি যাদবপুরে জিতছে তা দিনের আলোর মতো সত্যি।’

জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই রিঙ্কু নস্কর, ধীমান কুণ্ডুরা যোগাযোগ রাখছিলেন সিপিএম থেকে বিজেপিতে যাওয়া নেতাদের সঙ্গে। এদিকে দলত্যাগের খবর জানাজানি হওয়ায় সিপিএম নেতৃত্ব রিঙ্কুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে সিপিএমে থাকতে অনুরোধ করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিঙ্কু নস্কর পদ্ম ফুলের হাত ধরলেন। গত পুরসভা নির্বাচনে যাদবপুরের ১০২ নম্বর ওর্য়াডে প্রবল সন্ত্রাস উপেক্ষা করে সিপিএম নেতা-কর্মীদের সাহায্য সেভাবে না পেয়েও রিঙ্কু নস্কর একাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন। তাঁর ফল তিনি পান। তৃণমূল প্রার্থীকে ২২৫০ ভোটে হারিয়ে জয়লাভ করেন। এলাকায় বিশেষত মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর।

আরও পড়ুন: ‘‌পাকিস্তানে ভারতীয়দের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়’ ৩০ বছর পর দেশে ফিরে জানলেন সামসুদ্দিন

সিপিএম থেকে আসা ধীমান কুণ্ডু বলেন, ‘করোনা আবহের কারণে আমরা ৩০০জনকে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এই সংখ্যাটা আসলে ২ হাজার। দ্রুতই যাদবপুরে সভা করে আমরা বাকিদের অনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করাব।’

বিজেপির রাজ্য সম্পাদিকা সংঘমিত্রা চৌধুরি বলেন, ‘ গোবিন্দদার মতো সিপিএমে নেতা বিজেপিতে আসার পর দল শক্তিশালী হয়েছে। তা দিলীপদাই বলে গিয়েছিলেন। এবার রিঙ্কু, ধীমানরা আসতে সিপিএমের পায়ের তলায় মাটি সরে গেল। মোদিজির আর্দশে বিজেপি পতাকা যাঁরাই তুলে নিতে আসছেন তাঁদের বিজেপির পক্ষ থেকে আমি স্বাগত জানাই। যাদবপুরের মানুষ বিজেপির সঙ্গে আছেন। আমরা একুশে এবার এই বিধানসভা জিতব।’

Related Articles

Back to top button
Close