fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পাখির চোখ ২০২১ বিধানসভা, ছটপুজোয় বিজেপি’র লাউ বিলি

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর:  ভোট বড়ই বালাই। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ তৃণমূল ও বিজেপির। কেউই এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। ভোটব্যঙ্ক ধরে রাখতে মরিয়া দুই দলই। কখনও তপশীলি জাতি উপজাতিদের মন জয় করতে, আবার কখনও মুসলিম সমাজের মন জয় করতে নানান কর্মসুচী নিয়েছে। এবার অবাঙালী হিন্দিভাষীদের মন জয় করতে আসরে নামল তৃণমূল ও বিজেপি। দীপাবলিতে তৃণমূলের প্রদীপ বিলির পর এবার আসরে বিজেপি। অগ্নিমুল্যের বাজারে ছট পুজোয় ব্রতকারীদের লাউ বিলি করল বিজেপি। মঙ্গলবার পানাগড়ে ছট পুজোর ব্রতকারীদের লাউ বিলি করল কাঁকসা ব্লক বিজেপি। আবার পান্ডবেশ্বরে ছট পুজো কমিটিদের ৫ হাজার টাকা অনুদান তার সঙ্গে মাস্ক, ধূপের প্যাকেট দিয়ে সাহায্য করল তৃণমূল।
রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার বিষয় এখন পশ্চিবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। কার দখলে যাবে বাংলার মসনদ। কান পাতলেই গলি থেকে রাজপথ এটাই এখন চর্চা চলছে। আর বাংলার মসনদ দখলে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। গত লেকসভা নির্বাচনের পর যেন খেলার মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়েছে। কেউই এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। ভোট ধরে রাখতে নতুন করে কৌশল শুরু করেছে সব দলই। মতুয়াদের মন জয় করতে কখনও মতুয়া’দের নিয়ে সভা। আদিবাসী, বাউরী সমাজের মন জয় করতে তাদের নিয়ে সভা। মতুয়া, আদিবাসী বাউরী সমাজের পর এবার অবাঙালী হিন্দিভাষীদের মনজয় করতে আসরে নেমেছে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলই। দীপাবলির আগে পান্ডবেশ্বরে নিজের কেন্দ্রে ৫০ হাজার পরিবারে ৩ লক্ষ প্রদীপ বিলি করেন বিধায়ক তথা তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তেওয়ারী। বাড়ী বাড়ী গিয়ে প্রদীপ তুলে দেন তিন। আবার মঙ্গলবার পান্ডবেশ্বর এলাকায় ৯০ টি ছটপুজো কমিটির হাতে ৫ হাজার করে টাকা অনুদান, ১০০ পিস করে মাস্ক ও ৫০ প্যাকেট করে ধূপ তুলে দেন তিনি। অন্যদিকে, কাঁকসার পানাগড়ে অফিস পাড়া, রেলপার, শর্মা পাড়া, ক্যানেল পাড় এলাকায় লাউ বিলি করল স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত, ছট পার্বনে পুজোর তিনদিন আগে ব্রত উপবাসকারী পরিবারে রীতি মেনে লাউ ভাত খেতে হয়। কিন্তু, গত ৭ মাস করোনা আবহের লকডাউনের জেরে অগ্নিমুল্য বাজার। আলু, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে কাঁচা শাক সব্জি কিনতে হাতে ছ্যাঁকা খাচ্ছে আম জনতা। তারওপর ছট পুজোয় লাউ আবশ্যিক হওয়া তার দাম অসহায় দুঃস্থ পরিবারের নাগালের বাইরে। দুন দশেক আগে যে লাউয়ের পিস ৩০-৪০ টাকা ছিল। এদিন ওই লাউয়ের দাম দ্বিগুন থেকে আরও বেড়েছে। আর তাই মাথায় হাত পড়েছে বহু পরিবারের। এদিন বিজেপির পুর্ব বর্ধমান জেলা সহ সভাপতি রমন শর্মার নেতৃত্বে প্রায় ৭০০ পরিবারে একটি করে লাউ পৌঁছে দেয়।

রমন শর্মা জানান,’ “লকডাউনে অনেক পরিবারই আর্থিক অনটনে জর্জরিত। অসহায় ওইসব পরিবারে এদিন লাউভাত খাওয়া আবশ্যিক হলেও লাউ কিনতে নাভিশ্বাস দশা। তাই ওই সব পরিবারে লাউ পৌঁছে দিয়েছি। যাতে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে পারে।” প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল ও বর্ধমান-দুর্গাপুর আসন দুটি বিজেপি জয়ী হয়। বিধানসভা ভিত্তিক ফলাফলে আসানসলোের যেমন ৭ টি বিধানসভা তেমনই দুর্গাপুরের দুটি আসনে এগিয়ে গেরুয়া শিবির। আবার বুথ ভিত্তিক ফলাফলে বর্ধমান -দুর্গাপুর আসনের কাঁকসা পঞ্চায়েতেের পানাগড় এলাকায় অনেকটাই এগিয়ে গেরুয়া শিবির। এমনকি গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে কাঁকসা পঞ্চায়েতে তিন নির্বাচত সদস্যও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই আগামী বিধানসভান সভা নির্বাচনে শিল্পাঞ্চলের ওই সব আসনে জনতার রায় কোন পথে, সে বিষয়েও জল্পনা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

তবে দীপাবলিতে প্রদীপ বিলি রাজনীতির চোখে দেখতে নারজ তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি তথা পান্ডবেশ্বর বিধায়ক জীতেন্দ্র তেওয়ারী। তিনি বলেন,” প্রদীপ বিলির সঙ্গে রাজনীতি কিম্বা নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। লকডাউনে যারা মাটির কাজ করে তারা অনেক কাজ হারিয়েছে। রোজগার হয়নি। বাজি না ফাটিয়ে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান করেছি। মাটির প্রদীপ নিলে, তাদের রোজগার হবে। তাই প্রদীপ বিলির উদ্যোগ।” ছট পুজোয় বিজেপির লাউ বিলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,” ছট পুজোয় ৯০ টি পুজো কমিটিকে ৫ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছি। মাস্ক ও ধুপ প্যাকেট দিয়েছি। ছট পুজোয় বিজেপি যদি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে, তাদের স্বাগত। ছট পুজোয় শুধু বিজেপি কেন, যে কোন রাজনৈতিক দল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তাতে আপত্তি নেই। তাদের স্বাগত এবং সাধুবাদ জানাচ্ছি।’

Related Articles

Back to top button
Close