fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

একুশের লড়াই মগ্রাহাট পশ্চিমে মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিনকে টেক্কা দিতে তৈরি বাম কংগ্রেস,বাজিমাত করতে চায় বিজেপি

মোকতার হোসেন মন্ডল: ২০১৬ বিধানসভা ভোটের ফল

তৃণমূল কংগ্রেস-৮৭৪৮২
কংগ্রেস- ৭১৫৯৩
বিজেপি-৬৯২৮

২০১৯ লোকসভা ভোটের ফল

তৃণমূল কংগ্রেস- ৯৯৫১১
বিজেপি-৪৮৪২০
সিপিআইএম-১২৪২৯
কংগ্রেস-৯০২৬

আগামী একুশের নির্বাচনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মগ্রাহাট পশ্চিম কেন্দ্রে মাদ্রাসা প্রতিমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লাকে টেক্কা দিতে তৈরি বাম কংগ্রেস। আর বাজিমাত করতে চায় বিজেপি। বিগত নির্বাচনগুলির ফলাফল, বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে বলছেন, বিধানসভা নির্বাচনে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এই কেন্দ্রে।
মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১১ সাল পর্যন্ত মূল লড়াই হয়েছে কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন প্রবীন তৃণমূল নেতা গিয়াসউদ্দিন মোল্লা এই কেন্দ্র থেকে পরিবর্তনের হাওয়ায় জয়ী হন। মাদ্রাসা প্রতিমন্ত্রী ষোলোর বিধানসভা ভোটেও জয়ী হন। কিন্তু একুশের লড়াইটা একটু অন্যরকম হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মগরাহাট-১ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক এবং নেত্রা গ্রাম পঞ্চায়েত ও মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।
২০১৬ বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে

তৃণমূল কংগ্রেসের গিয়াসউদ্দিন মোল্লা তথা বর্তমান মাদ্রাসা প্রতিমন্ত্রী ৮৭৪৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সেবার কলকাতার
ব্যাবসায়ী খালেদ ইবাদুল্লাহ কংগ্রেসের হয়ে লড়ে ৭১৫৯৩ ভোট পান। সিপিএম খালিদকে সমর্থন দেয়। শতাংশের বিচারে ৫.২% ভোট বেশি পায় তৃণমূল কংগ্রেস।
সেবার বিজেপি পায় ৬৯২৮ ভোট। ষোলোতে পিডিএসের অনুরাধা পুত্তন্ড ও ওয়েলফেয়ার পার্টির ডাঃ রইসুদ্দিন ভোটে দাঁড়িয়ে ব্যাপক প্রচার করেছিল। কিন্তু বাম কংগ্রেস জোটের সেই ভোট শতাংশ এখন নেই। ২০১৯ লোকসভা ভোটে মগ্রাহাট পশ্চিমকেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯৫১১ ভোট। বিজেপি ষোলোতে মাত্র ৪.০২% ভোট পেয়েছিল।কিন্তু উনিষের লোকসভা ভোটে ৬ হাজার ৯২৮ থেকে বাড়িয়ে ৪৮৪২০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। উনিশের লোকসভায় সিপিআইএম ১২৪২৯ ও
কংগ্রেস ৯০২৬ ভোট পায়। বাম কংগ্রেস যৌথভাবে ২১৪২৫ ভোট। ষোলোর তুলনায় ৫০ হাজার ১৩৮ ভোট কম পেয়েছে। ব্যাপকভাবে ভোট বাড়িয়েছে বিজেপি।

অনেকে বলছেন, একদা সিপিএম ও কংগ্রেসের গড়ে তৃণমূল থাবা বসালেও এখন দ্বিতীয় স্থানে বিজেপি এসে তৃণমূলকে বেগ দিচ্ছে। তাছাড়া কংগ্রেসের ষোলোর প্রার্থী খালিদ ইবাদুল্লাহ এখন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। তাই লোকসভার হিসেবে মূল লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপি হতে পারে। তবে এলাকার এক সাংবাদিক জানান, তৃণমূল কংগ্রেস নিজের মধ্যেই এখন লড়ছে। খুব গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। এমনটা চললে বিজেপি না জিতলেও বেশ টক্কর দেবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, লোকসভা ও বিধানসভার ভোট পুরো আলাদা ইস্যুতে হয়। তাই বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে মূল লড়াই হবে বাম-কংগ্রেসের।

কিন্তু মাদ্রাসা প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রীতো পুরাতন তৃণমূল নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ‘কাছের মানুষ’। এলাকার উন্নয়নও করেছেন। স্থানীয় একজন জানান, রাস্তাঘাট হয়েছে কিন্তু সব জায়গায় হয়নি। মানুষের গরিবী দূর হয়নি। বেকারত্ব খুব। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকায় যেভাবে কাজ হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি।

কিন্তু লোকসভা কিংবা বিধানসভা অথবা পঞ্চায়েত নির্বাচন, এখনো কিন্তু এই কেন্দ্রে বহু ভোটে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিনকে এই সফলতা সুবিধা করে দিয়েছে। তবে দলীয় গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব থামাতে পারলে দ্বিতীয় বিজেপি বা সিপিএম- কংগ্রেস হলেও তৃণমূল কংগ্রেসই জয়ী হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। আবার বিজেপি চাইছে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে ভাঙন ধরাতে। সেটা পারলে উনিশের মতো জোর লড়াই হবে। বর্তমানে সিপিএমের অনেকে বিজেপি করছে। তৃণমূলেও কংগ্রেস-সিপিএমের লোক এসেছে। কিন্তু শেষ হাসি হাসবে কে? ফের কি গিয়াসউদ্দিন? জানতে একুশের নির্বাচনেই নজর রাখতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close