fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভোটবাক্সে প্রতিশোধ নেবে রায়গঞ্জবাসী!

 রক্তিম দাশ, কলকাতা: গত লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে রায়গঞ্জে লোকসভার চার বিধানসভা আসনে এগিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। তার ওপর সোমবার বিজেপি বিধায়কের রহস্যমৃত্যুর পর বাড়তি সহানুভূতির ভোটও গেরুয়া ব্রিগেডের দিকে যাবে। বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। বিজেপির দাবি, দলীয় বিধায়ক খুনের প্রতিশোধ এবার ভোট বাক্সেই নেবেন রায়গঞ্জেবাসী।

এই লোকসভার অর্ন্তগত সাতটি আসনে ২০১৬-র বিধানসভার ভোটে জেতা তো দূরঅস্ত, তৃতীয় স্থানে থেকে সন্তুষ্ট হতে হয়েছিল গেরুয়া শিবিরকে। কিন্তু ঠিক তিনবছর পর মোদি ঝড়কে কাজে লাগিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শাসকদল তৃণমূলকে পিছনে ফেলে ৪ টি বিধানসভায় এগিয়ে থেকে একুশের লড়াই শুরু করতে চলেছে বিজেপি। অপর দিকে ৩টি আসনে এগিয়ে থেকে ময়দানে নামছে তৃণমূল। রায়গঞ্জ লোকসভাটি  ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, করণদিঘি, হেমতাবাদ (এসসি), কালিয়াঞ্জ (এসসি) এবং রায়গঞ্জ নিয়ে গঠিত।

ইসলামপুর বিধানসভায় ১৮৮২৬৯ ভোটার। এই বিধানসভাটি ১৯৭৭ থেকে কংগ্রেস, সিপিএম এবং তৃণমূলের দখলে থেকেছে। ২০১১ বিধানসভার ভোটে এটি তৃণমূল পেলেও ২০১৬-তে বিধানসভাটি কংগ্রেসের দখলে যায়। এই আসনের কংগ্রেসের বিধায়ক কানাইলাল আগরওয়াল তৃণমূলে যোগ দিয়ে ২০১৯- লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন।ফলে বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল জয় পায়।  ২০১৯-র বিধানভার উপনির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই আসনে তৃণমূলের আবদুল করিম চৌধুরী ৭৭৫২৮ (৫৩.০৮ শতাংশ), বিজেপির সৌম্যরূপ মন্ডল ৫৬১৪১ (৩৮.৪৪ শতাংশ) এবং কংগ্রেসের মুজাফর হোসেন ৫২০৮ (৩.৫৭ শতাংশ) ভোট পান। এই আসনে পূর্বের তুলনায় বিজেপির ভোট ২৫.৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও তৃণমূল আসনটি জয়লাভ করে ২১৩৮৭ ভোটে। ওই একই সময়ে হওয়া লোকসভা ভোটে এই আসনে তৃণমূল ৬০৯৭৬, বিজেপি ৫৬৫৩১, সিপিএম ৩০৪৭৯ এবং কংগ্রেস ৬৪৩৯ ভোট পায়।বিজেপি বিধানসভার উপনির্বাচনের থেকে ভোট বাড়িয়ে তৃণমূলের কাছে এখানে মাত্র ৪৪৪৫ ভোটে পিছিয়ে আছে।

গোয়ালপোখর বিধানসভায় মোট ভোটার ১৯৮৭৮৬। এই বিধানসভাটি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত বামশরিক ফরওর্য়াড ব্লকের দখলে ছিল। ২০০৬ এবং ২০১১ এটি ছিল কংগ্রেসর দখলে। ২০১৬-র বিধানসভায় এই আসনটি যায় তৃণমূলের দখলে। তৃণমূলের গোলাম রব্বানি ৬৪৮৬৯ (৪৩.৯১ শতাংশ), কংগ্রেসের আফজল হোসেন ৫৭১২১ (৩৮.৬৭ শতাংশ) এবং বিজেপির দেবাশিষ সরকার ১৬৯৬৬ (১১.৪৯ শতাংশ) ভোট পান। তৃণমূল এই আসনে ৭৭৪৮ ভোটে জয়লাভ করে। ২০১৯ এর লোকসভার এই আসনে তৃণমূল ৭৯৬৮২, বিজেপি ৩১৪৪১,সিপিএম ৩০০৭৮ এবং কংগ্রেস ১০৭০৯ ভোট পায়। বিধানসভার তুলনায় ভোট বাড়িয়ে বিজেপি এখানে তৃণমূলের থেকে ফিছিয়ে আছে ৪৮২৪১ ভোটে।

আরও পড়ুন: ২০২১-এ নির্বাচনের প্রস্তুতিপর্ব শুরু হল বসিরহাট উত্তর বিধানসভায়

চাকুলিয়া বিধানসভার মোট ভোটার ২০০০৮৪। এই বিধানসভাটি ২০১১ সালে ডিলিমিটেশনের ফলে তৈরি হয়। প্রথমবার ও ২০১৬-র বিধানভায় এটি দখলে রয়েছে ফরওর্য়াড ব্লকের। ২০১৬-তে ফরওর্য়াড ব্লকের আলি ইমরান রামজ ৬৪১৮৫ (৪২.৬৫ শতাংশ), বিজেপির অসীমকুমার মৃধা ৩৬৬৫৬ (২৪.৩৬ শতাংশ) এবং তৃণমূলের আলিমা নুরি ৩৬১৯৮ (২৪.০৫ শতাংশ) ভোট পান। ফরওর্য়াড ব্লক ২৭৫২৯ ভোটে জয়লাভ করে। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে এই আসনে তৃণমূল ৫৯১২৯, বিজেপি ৫১৩০৪, সিপিএম ৪০৩৪৮ এবং কংগ্রেস ৭৩৫২ ভোট পায়। এই আসনেও ভোট বাড়লেও বিজেপি ৭৮২৫ ভোটে পিছিয়ে রয়েছে।

করণদিঘি বিধানভার ভোট ভোটার ২২৭২৩৪। ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই আসনটি ছিল ফরওর্য়াড ব্লকের দখলে। ২০১৬-তে এটি যায় তৃণমূলের হাতে। ২০১৬-র বিধানভায় তৃণমূলের  মনোদেব সাহা ৫৪৫৯৯ (২৯.৪৪ শতাংশ), ফরওর্য়াড ব্লকের ৫১৩৬৭ (২৭.৬৯ শতাংশ), কংগ্রেসের শেখ সামসুল ৩৫৫৪৭ (২৪.০৫) এবং বিজেপির আবদুল জলিল ২৮৯৭৮ (১৫.৬২) ভোট পান। তৃণমূল এই আসনে ৩২৩২ ভোটে জয়লাভ করে। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভোট বাড়িয়ে গত বিধানসভা চর্তুথ স্থানে থাকা বিজেপি উঠে আসে প্রথম স্থানে। বিজেপি ৮২০০৯, তৃণমূল ৬৬০৪৫, সিপিএম ৩০৪৮৮ এবং কংগ্রেস ১২৭০৩ ভোট পায়। বিজেপি এখানে তৃণমূলের থেকে ১৫৯৬৪ ভোটে এগিয়ে।

হেমতাবাদ বিধানসভা আসনে মোট ভোটার ২৩২৬৩৪। এই আসনটি ২০১১ সালে ডিলিমেটেশনের ফলে তৈরি হয়। ২০১১ এবং ২০১৬-তে আসনটি দখলে থাকে সিপিএমের। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে সিপিএমের দেবেন্দ্রনাথ রায় ৮০৪১৯ (৪০.৬৭ শতাংশ), তৃণমূলের সবিতা ছেত্রী ৬৭২৮৩ (৩৪.০৩ শতাংশ) এবং বিজেপির বেনুরাম বর্মন ৪০৭৯৫ (২০.৬৩ শতাংশ) ভোট পেয়েছিলেন। সিপিএম এই আসনে ১৩১৩৬ ভোটে জয়লাভ করে। ২০১৯-র লোকসভা ভোটে এখানেও বিজেপি প্রচুর ভোট বাড়িয়ে নেয়। বিজেপি ৮৫৭৩৮, তৃণমূল ৭৯৫৬২, সিপিএম ১৯২৮৪ এবং কংগ্রেস ১৭৯৪১ ভোট পায়। বিজেপি এই তৃণমূলের থেকে ৬১৭৬ ভোটে এগিয়ে।

আরও পড়ুন: আজ রাজস্থান কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের বৈঠক ডাক গেহলটের, ভিডিও প্রকাশ করে শক্তি প্রদর্শন পাইলটের

কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় মোট ভোটার ২৫০৬০৩। এই বিধানসভাটি কখন সিপিএম কখনও বা কংগ্রেসের দখলে থাকলেও ২০১১ এবং ২০১৬ এটি রয়েছে কংগ্রেসের দখলে। ২০১৬-র বিধানসভার ভোটে কংগ্রেসের পরমার্থনাথ রায় ১১২৮৬৮ (৫২.৫৮ শতাংশ), তৃণমূলের বাসন্তী রায় ৬৬২৬৬ (৩০.৮৭ শতাংশ) এবং বিজেপির রূপক রায় ২৭২৫২ (১২.৭০ শতাংশ) ভোট পান। কংগ্রেস এই আসনে ৪৬৬০২ ভোটে জয়লাভ করে। ঠিক তিন বছর পরে ২০১৯ লোকসভা ভোটে বিজেপি এই আসনে ব্যাপক ভোট বাড়িয়ে নেয়। বিজেপি ১১৮৮৯৫, তৃণমূল ৬২১৩৩, সিপিএম ১৯২৪০ এবং কংগ্রেস ১৮৫৬১ ভোট পায়। বিজেপি এই আসনে তৃণমূলের থেকে ৫৬৭৬২ ভোটে এগিয়ে।

রায়গঞ্জ বিধাসভার মোট ভোটার ১৭৮৮৮৮। এই বিধানসভাটি ১৯৯৬ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত কংগ্রেসের দখলে। ২০১৬-র বিধানসভায় কংগ্রেসের মোহিত সেনগুপ্ত ৮৭৯৮৩ (৫৮.৯৮ শতাংশ), তৃণমূলের পূর্নেন্দু দে ৩৬৭৩৬ (২৪.৬৩ শতাংশ) এবং বিজেপির প্রদীপ সরকার ১২৯৬১ (৮.৯৬ শতাংশ) ভোট পেয়েছিলেন। কংগ্রেস এই আসনে ৫১২৪৭ ভোটে জয়লাভ করে। কিন্তু ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে এই আসনে বিজেপি অনেকখানি ভোট বাড়িয়ে নেয়। বিজেপি ৮৩৯৪৪, তৃণমূল ৪১৭৪২, সিপিএম ১১৪২৯ এবং কংগ্রেস ৯৭৫৫ ভোট পায়। বিজেপি এই আসনে তৃণমূলের থেকে এগিয়ে ৪২২০২ ভোটে।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close