fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

২১’র ডাক, কাঁকসায় দ্বন্দ্ব ভুলে ভার্চুয়াল ঐক্য, কটাক্ষ বিজেপির

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: দ্বন্দ্বের জেরে থমকে দলের ব্লক সভাপতি ঘোষণা। তার ওপর লোকসভা নির্বাচনে ভোট ব্যাঙ্কের ধসের কারনে কোন্দলকেই দুষছে। আগামী ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জে লড়াইয়ের ২১ জুলাই সভা হল তৃণমূল কংগ্রেসের। করোনা আবহে সংক্রামক রুখতে আবার ভার্চুয়াল সভা। আর এই সভায় নেত্রীর বার্তার পরই যেন বাড়তি অক্সিজেন পেল কাঁকসার তৃণমূল নেতৃত্ব। দ্বন্দ্ব ভুলে দলের সব কর্মীদের একসঙ্গে লড়াইয়ের শপথ নিল কাঁকসা ব্লক তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে তৃণমূলের ভার্চুয়াল সভাকে মোটেই আমল দিতে নারাজ বিজেপি।

প্রসঙ্গত, কাঁকসা জঙ্গলমহল বামেদের দুর্গ বলেই একসময় পরিচিত ছিল। ২০১১ সালের নির্বাচনে পরিবর্তনের দমকা হওয়ায় কাঁকসার রাজনীতিতেও বদল ঘটে। তারপর বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত দখল করে তৃণমূল। পরবর্তী ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামতে শুরু করে। গলসী বিধানসভা দখলে রাখলেও কাঁকসায় আশানুরূপ ফল হয়নি তৃণমূলের। যার কারন হিসাবে দলের গোষ্ঠীকোন্দলকেই কিছুটা দায়ী করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। কাঁকসা ব্লকে দেবদাস বক্সী ও পল্লব ব্যানার্জীর ঠান্ডা লড়াই তৃণমূলকে কোনঠাসা করছে বলে ধারনা রাজনৈতিক মহলের। গত ৩-৪ বছরে নিজেদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনায় দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। দ্বন্দ্বের জেরে ভেঙে দেওয়া হয়েছে ব্লক কমিটি। এমনকি নতুন করে দলের ব্লক সভাপতি ঘোষনাও হয়নি। গত ২০১৮ ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়লাভের পর বোর্ড গঠনেও প্রকাশ্যে এসেছে সেই অন্তর্দ্বন্দ্ব।

পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনে জয়ী হয়েও অসম্তোষে ভোটাভুটি থেকে বেরিয়ে পড়েছিল দেবদাস বক্সী ও তার অনুগামী সদস্যরা। তারপর ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনটি হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। লোকসভায় কাঁকসা ব্লকে বুথ ভিত্তিক ফলাফলে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। যদিও লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকে কাঁকসাজুড়ে গেরুয়া শিবিরে পালে হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। কাঁকসা, গোপালপুর, ত্রিলোকচন্দ্রপুর পঞ্চায়েতে কয়েকটি আসন পায় বিজেপি। তৃণমূল ‘দিদিকে বলো’ ‘বাংলার গর্ব’ নিশিযাপনের মতো কর্মসুচী নিলেও সেরকম প্রভাব ফেলতে ব্যার্থ বলে দাবী রাজনৈতিক মহলের। ২০২১ বিধানসভাকে পাখির চোখ করে সম্প্রতি করোনা আবহে লকডাউনে রেশন দুর্নীতি, বিদ্যুত বিল সহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। সাড়া ফেলেছে গৃহসম্পর্ক অভিযানেও।

তবে ২১ জুলাই মমতা ব্যানার্জীর ভার্চুয়াল সভার পর নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে কাঁকসার তৃণমূল নেতৃত্ব। আলাদা করে ভার্চুয়াল সভা দেখার অনুষ্ঠান করলেও ২০২১য়ে নির্বাচনে একসঙ্গে লড়াইকে সামনে রাখছে দেবদাস বক্সী। এদিন তিনি কাঁকসায় দলীয় অফিসে শহিদ দিবস পালন করেন। তিনি বলেন,” দলে কোন গোষ্ঠী নেই। কাঁকসা ব্লকে উন্নয়ন হয়েছে। সেভাবে প্রচার না হওয়ায় মানুষের কাছে ভুল বার্তা গেছে। তাই এবার জনসম্পর্কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সকলকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ২০২১ র চ্যালেঞ্জে লড়াই হবে। জয় নিশ্চিত হবে।” আবার পল্লব ব্যানার্জী অবশ্য পানাগড় দার্জিলিং মোড়ে প্যান্ডেল করে জাইন্ট স্ক্রীন বসিয়ে নেত্রীর মিটিং দেখার ব্যাবস্থা করেছিলেন। তিনি বলেন,”তৃণমূলে কোন গোষ্ঠী নেই।

২০২১ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন দেশজুড়ে চর্চার বিষয়। বিধানসভা নির্বাচন দলের বড় চ্যালেঞ্জ। এদিন নেত্রীর ভার্চুয়াল সভার পর কর্মীরা উজ্জীবিত। মান-অভিমান ভুলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমস্ত কর্মীকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ হবে। মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। রাজ্যের উন্নয়নকে তুলে ধরা হবে।” তৃণমূলের ভার্চুয়াল সভাকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। পুর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপির সহ সভাপতি রমন শর্মা জানান,” দিদিমনি ফ্রী’তে রেশন দেওয়ার ফিরিস্তি দিয়েছে। তার আগে লকডাউনের তিনমাসে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলে চোখে সর্ষে ফুল দেখছে বঙ্গবাসী। ওই বিদ্যুৎবিল মুকুব করে দেখাক। তার পর না হয় রেশন ফ্রী ঘোষনা করবেন। যতই উন্নয়নের ফিরিস্তি দিক দিদিমনি। মানুষ তৃণমূল থেকে পরিত্রান চাইছে। তাই ২০২১ পরিবর্তন হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close