fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে কালনায় ভস্মীভূত ২২ টি বাড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কালনা: বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হল একই গ্রামের ২২ টি বাড়ি। আগুন উপেক্ষা করে ঘরে থাকা টাকা পয়সা উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হয়েছেন তিন জন। শনিবার দুপুরবেলায় ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনার কৈলাশপুর গ্রামে। স্থানীয়রা পাম্প মেশিন চালিয়ে প্রথমে আগুন নেভানোর  কাজ শুরু করে। পরে দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে যদিও সবকটি বাড়ি পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা অসহায় পরিবারগুলির জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

কালনা ১ ব্লকের কাঁকুড়িয়া পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত
গ্রাম কৈলাশপুর। এই গ্রামের প্রায় ৪০ টি দরিদ্র পরিবার টিনের দেওয়াল ও অ্যাসবেসটস চালার বাড়িতে বসবাস করেন। গ্রামের বাসিন্দা সেরিনা বিবির বাড়িতে প্রথম আগুন লাগে। পরে আগুন আশেপাশের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান কাঁকুড়িয়ার লাগোয়া গ্রাম নিবাসী নান্দাই পঞ্চায়েতের উপ প্রধান লিয়াকত আলি সেখ। তিনি জানিয়েছেন, এদিন বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ কৈলাশপুর  গ্রামের বধূ সেরিনা বিবি বাড়ির উনানে পাটকাঠি জ্বালিয়ে রান্না করছিলেন। ওই সময়ে কোনভাবে উনানের আগুনের ফুলকি উড়ে  তাঁর বাড়িতে আগুন ধরে যায়। আগুন মহুর্তের মধ্যে ভয়াবহ চেহারা নেয়। পাশাপাশি একের পর এক  বাড়িতেও আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

লিয়াকত বাবু জনান, পরপর গ্রামের ২২ টি বাড়িতে আগুন ধরে যায়। গ্রামবাসীদের আর্তনাদ শুনে এলাকার বহু মানুষ সেখানে ছুটে যান। তারা ৮-১০ টি পাম্প মেশিনের সাহায্যে পুকুর ও জলাশয় থেকে জল তুলে আগুন নেভানো কাজ শুরু করেন। তাতে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে  দমকলের দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ২২ টি বাড়ি আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। উপ প্রধান জানিয়েছেন, আগুন উপেক্ষা করে ঘরে থাকা টাকা পয়সা উদ্ধার করতে গিয়ে মেরসাদ সেখ  সহ তিন জন আহত হন। চিকিৎসার জন্য তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। মোরসাদ সেখ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অসহায় পরিবারগুলির জন্য ত্রিপল, কম্বল ও খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য সরকারী আবাস যোজনায় ঘরের ব্যবস্থা করার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close