fbpx
অন্যান্যঅসমকলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

স্মরণে ৭৯তম রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবস

অরিজিৎ মৈত্র, কলকাতা: করোনার পরিবেশেই গত ২৫ শে বৈশাখে এসেছিল তাঁর জন্মের বার্ষিকী আর সেই একই পরিবেশে এলো তাঁর প্রয়াণ দিবস ২২ শে শ্রাবণ। শহরের সব প্রেক্ষাগৃহ, মঞ্চের দ্বার রুদ্ধ। শিল্পীরা বাড়িতে বন্দি। শ্রোতা-দর্শকদেরও একই অবস্থা। তবুও বাঙালির প্রাণের মানুষকে স্মরণ করা হল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।

উত্তর কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। কিন্তু সমাধি মন্দির সংলগ মঞ্চে কোনও অনুষ্ঠান হয়নি। তবে উপস্থিত কযেকজন শিল্পী ‘সমুখে শান্তি পারাবার’ গানটি গেয়ে তাঁদের অর্ঘ্য নিবেদন করেন। কলকাতা পৌরসভা, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরও অনেক সংস্থা নিমতলা ঘাটে কবির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে রবীন্দ্রপ্রয়াণ কক্ষেও নিবেদিত হয় শ্রদ্ধার্ঘ্য। উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্য ড. সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী সহ আরও অনেকে।

নদিয়া জেলার শান্তিপুরের চৌগাছা পাড়া এলাকায় রবীন্দ্রনাথের মূর্তিতে মাল্যদান  করেন শান্তিপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নবজাগরণ’-এর সদস্যরা।সংস্থার সভাপতি রাণা প্রসাদ ভট্টাচার্য জানালেন, প্রতি বছরই তাদের সংস্থা ২২ শে শ্রাবণ কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে  বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন  করে থাকে।

অন্যদিকে কবিতীর্থ শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যমণ্ডিত আশ্রমের অদূরেই অ্যান্ড্রুজপল্লিতে অবস্থিত রবীন্দ্রস্নেহধন্যা কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ‘আনন্দধারা’। সেখানে ২২ শে শ্রাবণের পূণ্যদিনে নবরূপে প্রকাশ পেল এক শিল্পবোধ। শুরু হল ‘মোহর-বীথিকা অঙ্গনের নতুন যাত্রা। গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের ৭৯ তম প্রয়াণ দিবসে কণিকাধারা নিবেদন করল ‘স্মরণ  শ্রাবণ’।

অনুষ্ঠানে আচার্য্যের ভূমিকায় ছিলেন সুপ্রিয় ঠাকুর। সংগীতে অংশ নেন শরণ্যা,  ঋতপা,  নিবেদিতা, প্রিয়ম সহ আরও অনেকে। মন্ত্রপাঠে ছিলেন সৌমেন। কবিতাপাঠ করেন  নীলাঞ্জনা ও দীপ্র। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রিয়ম মুখোপাধ্যায়, পরিকল্পনা ও  বিন্যাসে ঋতপা ভট্টাচার্য। বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকেও পালন করা হয় রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবস। এ ছাড়াও স্যোশাল মিডিয়া জুড়ে সারাদিন ধরে চলে কবিপ্রণাম।

‘প্রাণের মানুষ গ্রুপ’ আয়োজিত ‘রবিধারা’ লাইভ অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত  পরিবেশন করেন বিনতা ব্যানার্জি ঘোষাল। ‘পুনশ্চ’ নিবেদন করল রবিপ্রণাম। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ড. চিত্রলেখা চৌধুরী, রাজেশ্বর ভট্টাচার্য, গৌতম মিত্র, অনিতা পাল, পূবালী দেবনাথ, শ্রীনন্দা মুখোপাধ্যায, দেবারতি সোম প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন দর্পনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়।

জোড়সাঁকোর ঠাকুর দালানে দেশের আসন্ন স্বাধীনতা দিবস এবং বিশ্বকবির মৃত্যুদিনের স্মরণে আর্মিব্যান্ড রবীন্দ্রভারতীর সহায়তায় নিবেদন করলেন এক সংগীতানুষ্ঠান। কবিপ্রণামের আয়োজন করে ‘জীবনস্মৃতি’ ডিজিটাল আর্কাইভ।

উত্তর পূর্ব ভারতের শিলংয়ের লাবানে ‘রবীন্দ্রনাথ টেগোর ক্লাব-শিলং’-এর উদ্যোগে  কবির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বর্তমান করোনার পরিস্থিতির কারণে সংগঠন ২২ শে শ্রাবণ উপলক্ষ্যে কোনও অনুষ্ঠান করতে পারলেন না, কিন্তু ক্লাবের সদস্যরা আগামী ১৫ আগস্ট ক্লাবের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউবে ক্লাবের বার্ষিক অনুষ্ঠানটির প্রচার করবেন বলে জানালেন সংস্থার সভাপতি পঙ্কজ দেব ও সম্পাদক রাজদীপ দাস।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close