fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পায়ে হেঁটে হাজার কিলোমিটার পাড়ি দুই গর্ভবর্তী মহিলা সহ ২৫ জন পরিযায়ী শ্রমিকের

অসীম বেরা, ঘাটাল: করোনা পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। সম্পূর্ণ বন্ধ গণপরিবহন।ভিন রাজ্যে আটকে পড়েছে এ রাজ্যের বহু পরিযায়ী শ্রমিক। ভিডিও বার্তা থেকে শুরু করে প্রশাসনের দরজায় ঘুরে ঘুরেও কোনও কাজ না হওয়ায় দুই গর্ভবতী মহিলা সহ ২৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক অবশেষে বাড়ির পথে রওনা দিলেন পায়ে হেঁটেই। বিশাখাপত্তনম থেকে এক হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে চন্দ্রকোনার দেওপুর এলাকায় পৌঁছলেন তাঁরা।

জানা যায়, কয়েক মাস আগে নির্মাণ কাজে যোগ দিতে উত্তর দিনাজপুর থেকে বিশাখাপত্তনম গিয়েছিলেন ২ মহিলা সহ ২৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক। এই অবস্থায় বিশাখাপত্তনমে গর্ভবতী হয়ে পড়েন দুই মহিলা। তবে ভিন রাজ্যে কোনও চিকিৎসা না পেয়ে চরম সংকটে পড়েন তারা। কোনও প্রশাসনিক সহায়তা না পেয়ে অবশেষে পায়ে হেঁটেই বাড়ির পথে রওনা দেন এই পরিযায়ী শ্রমিকরা।

তিন দিন শুধু জল খেয়ে হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বৃহস্পতিবার চন্দ্রকোনায় পৌঁছলে অসুস্থ বোধ করেন দুই মহিলা। অবশেষে দেওপুর এলাকার এক ক্লাব সংগঠনের নজরে আসে বিষয়টি তখনই ক্লাবের সদস্যরা দ্রুত ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে এলাকারই এক নির্জন জলাশয়ের ধারে। এমনকী তাদের কাছ থেকে তাদের সমস্ত কথা শুনে খবর পেয়ে আসে চন্দ্রকোনা থানা রামজীবনপুর বিট এর পুলিশ ও স্থানীয় দেওপুর শিবশক্তি ক্লাব। খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় ক্লাবের পক্ষ থেকে তাদের।

যদিও ওই পরিযায়ী শ্রমিক, পূজা পন্ডিত, অমিত পণ্ডিত বলেন” লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরেই বিশাখাপত্তনমের ওই নির্মাণকারী সংস্থার মালিক পালিয়ে যায়, আর সমস্যায় পড়ি আমরা। নিজেদের রাজ্যে ফিরে আসার জন্য ওখানে অনেক প্রশাসনিক দ্বারে ঘুরেও কোন সুরাহা মেলেনি। তাই অগত্যা পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছি নিজেদের জন্ম ভিটেতে।

রাস্তাতে একটিমাত্র পণ্যবাহী গাড়ি পেয়ে তাতেই চেপে ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছিলাম, আর বাকি কয়েকশো কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে। জানি না আর কিভাবে হেঁটে গিয়ে বাড়িতে পৌঁছব। প্রশাসনের আমাদের না হেল্প করলে হয়তো আর যেতেই পারব না বাড়ি। এক গর্ভবতী মহিলা পূজা পণ্ডিতের আকুতি, আমার গর্ভে রয়েছে সন্তান, আর উপরে এতটা পথ হেঁটে পাড়ি দিয়েছি, জানি না হেঁটে বাড়ি ফিরতে পারব কিনা।এতটা পথ হাঁটলেও কোথাও কোনও সাহায্য মেলেনি, এখানকার ক্লাব সংগঠন ও পুলিশ প্রশাসনকে অজস্র ধন্যবাদ আমাদের একটু আশ্রয় দেওয়ার জন্য।

দেওপুর ক্লাব সংগঠনের এক সদস্য অসিত হাজরা বলেন, “আমরা ওই পরিচয় শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি ওরা হেঁটে এসেছে, এমনকী অনেকের পায়ে ফোঁসকা পড়ে গিয়েছে, তাই দেখে ওদের একটু খাবার ব্যবস্থা করেছি। প্রশাসনকে বলেছি যাতে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওদের বাড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। রামজীবনপুর পুলিশ সূত্রে খবর, ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের রামজীবনপুর বাস স্ট্যান্ডে প্রাথমিকভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপর ওদের প্রাথমিক চিকিৎসার করিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই ওদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close