fbpx
কলকাতাহেডলাইন

 কলকাতা থেকে বিহারে বাড়ির পথে ৩০ জন পরিযায়ী শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে আটকে পড়া বহু পরিযায়ী শ্রমিককে ফিরিয়ে এনেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা এই রাজ্যে এসে কাজ করছে এমন পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর নজির খুবই কম। তাই এই অবস্থায় ঈদের দিন বিহারে ফিরে গেলেন প্রায় ৩০ জন মতো পরিযায়ী শ্রমিক। আর পুরো কৃতিত্বটাই মানিক তলার বাসিন্দা বিকাশবাবুর। এ যেন অনেকটা মেয়েকে বড়ো করে তুলে শ্বশুর বাড়ি পাঠানোর মত।

বিহারের হাজিপুর থেকে পেটের দায়ে কলকাতায় কাজে এসেছিল এই শ্রমিকরা। এদের কারোর বাড়িতে ছয় মাসের বাচ্চা কারো স্ত্রী আবার অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের দায়ভার ঘাড়ে নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন তারা বাড়তি কিছু রোজগারের আশায়। কিন্তু এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপ এর ফলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। একপ্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বাড়ি ফেরার বিষয়টি। এখানে কাজ করতে আসা মানুষগুলোর মুখের দিকে যেমন তাকিয়ে রয়েছে তার বাড়ির লোক গুলো ঠিক তেমন এরাও এখানে কাজ করার রসদ খুঁজে পেতেন বাড়ির লোকের মুখের দিকে চেয়ে। কিন্তু আচমকাই লকডাউন হয়ে যাওয়ায় টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না বাড়িতে। এদিকে বহুদিন দেখা সাক্ষাৎ নেই বাড়ির লোকজনদের সাথে ফলে ক্রমশই অবসাদে এবং একই সঙ্গে কাজ না থাকায় অভাবে জর্জরিত হয়ে পড়ে ছিলেন বিহার থেকে আসা সেই শ্রমিকরা। এদের কেউ কাজ করেন উত্তর কলকাতার অলিগলি চায়ের দোকানে কেউ বা আবার রাস্তার ধারের অফিসপাড়ার হোটেলে মাজে বাসন।

আরও পড়ুন: বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর কি বিপর্যয়ে চলে গেল? প্রশ্ন সুজনের

এই পরিস্থিতিতে মানিক তলার বাসিন্দা বিকাশ জয়সওয়াল ১৮০ জন শ্রমিকের দায়ভার লকডাউন এ প্রথম দিন থেকে কাঁধে তুলে নিয়েছেন। দুবেলা নিজের সামর্থ্য মত খাইয়েছেন । জয়সওয়াল সমাজ কমিউনিটি কিচেন তৈরি করেছে। তার দৌলতে বাড়ি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশও করেন প্রায় ১৮০ জন। কিন্তু সরকারি নিয়ম মেনে বাড়ি যাওয়ার আবেদন বারবার করেও ব্যর্থ হয়েছেন এইস পরিযায়ী শ্রমিকরা। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিহার পাঠানো এই লকডাউনের মধ্যে খুব সোজা বিষয় নয় সেটাও বুঝেছিলেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত বাধা অতিক্রম করে যাদের বাড়ি যাওয়ার এই মুহুর্তেই অত্যন্ত প্রয়োজন সেই রকম ৩০ জনকে বেছে নিয়ে বিকাশবাবু শুরু করেন সরকারি নিয়ম মেনে বাড়ি যাবার ব্যবস্থা৷ যারা চেয়েছিলেন বাড়ি যেতে, তাদের নাম ও লিখে নেওয়া হয়। অনেক চেষ্টা করে হাতে আসে ছাড়পত্র। ধর্মতলায় একটি বাসে ত্রিশ জনকে থার্মাল স্ক্যান করে বাসে তুলে দেন বিকাশ জয়সওয়াল। পবিত্র ঈদের দিনে এহেন উপহার সারা জীবন হয়তো মনে রাখবে বিহার থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা। আর এদিকে একরাশ ভারী মন নিয়ে তাদের চোখের জলে বিদায় দিলেন বিকাশ জসওয়াল।

Related Articles

Back to top button
Close