fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

ভারী বর্ষণের জেরে বিপর্যস্ত অন্ধ্র-তেলেঙ্গানা, মৃত ৩০, হলুদ সতর্কতা জারি, সরকারি ছুটি ঘোষণা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বুধবার কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণের জেরে বিপর্যস্ত অবস্থা তেলেঙ্গানার। বর্ষণজনিত একাধিক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর জানা গিয়েছে। এক-একটা রাস্তা যেন ভিন্ন চেহারার নদী। জমা জলের প্রবল স্রোত। আতঙ্কে ঘরে সিঁধিয়েছেন মানুষজন। আস্ত গাড়িও জলে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত। সেগুলি যে রাস্তা, না বললে দেখে বোঝার উপায় নেই। বৃষ্টিতে ঘরবন্দি জীবনেও স্বস্তি নেই। ঘরদোর-সংসার ভাসছে জলে। খড়কুটোর মতো জলে ভেসে যাচ্ছে ভাতের হাঁড়ি। সংসারের টুকিটাকি। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জীবন থমকে তেলেঙ্গানায়।হাজার হাজার একর চাষজমি জলে ডুবে।

এখনই রেহাই নেই আরও বর্ষণের পূর্বাভাস দিলে আইএমডি হলুদ সতর্কতা জারি করেছে হায়দরাবাদে। হায়দরাবাদের একাধিক জায়গায় জল জমে গিয়েছে। ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়ক পথে সামসাবাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। শহরের একাধিক জায়গায় জল জমে গিয়েছে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা শহরে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শহরের সব সরকারি দফতরে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। হায়দরাবাদ যেন ভাসছে। একাধিক জায়গায় জল জমে গিয়েছে। ঘরের ভেতরে জল ঢুকে গিয়েছে।গৃহহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্যমানুষ। শহরের বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরেই থাকার অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় পুলিস প্রশাসন।  পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বসেছেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর এবং অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডি।

শুধু হায়দরাবাদেই এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতের সারিতে দু-মাসের একটি শিশুও রয়েছে। তেলেঙ্গানার নিচু এলাকাগুল সম্পূর্ণ ভাবে জলে নিমজ্জিত। রাতভর বৃষ্টির জেরে একটা বড় পাঁচিল ভেঙে ১০টি ঘর ভেঙেছে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। মৃতেরা ওই ঘর-পরিবারের সদস্য। দিনে কিছুক্ষণের জন্য বৃষ্টি ধরলেও রাত থেকে ফের মুষলধারে শুরু হয় বর্ষণ।

বুধবারই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে একপ্রস্থ কথা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগমোহন রেড্ডির সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তেলেঙ্গানার মতো অন্ধ্রও বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। কেন্দ্র সম্ভাব্য সবরকম সহযোগিতা করবে বলে দুই মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের পরিস্থিতির উপর তিনি নজর রাখছেন। দুই রাজ্যের মানুষকে কেন্দ্রের তরফে প্রয়োজনীয় সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনিও।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য হতে ব্যর্থ সৌদি আরব

প্রবল বর্ষণে গোদাবরী নদীর জল বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে একাধিক জায়গায়। অন্যদিকে কৃষ্ণা নদীর জলও ঝুকে পড়েছে একাধিক এলাকায়। নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঝড়জলে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় তেলেঙ্গানায় একাধিক অঞ্চলে বিদ্যুত্‍‌ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তেলেঙ্গানার নগর উন্নয়ন মন্ত্রী কেটি রামারাও তেলেঙ্গানা স্টেট সাদার্ন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে বৈঠক করেন। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুত্‍‌ সংযোগ দিতে বলেন মন্ত্রী। ত্রাণকাজ এবং উদ্ধারে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, এনডিআরএফ ছাড়াও সেনার সাহায্য চেয়েছে তেলেঙ্গানা সরকার। হায়দরাবাদ এবং রঙ্গরেড্ডি জেলার বন্যার্ত এলাকা থেকে ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি জলবন্দিকে উদ্ধার করেছে এনডিআরএফের টিম। সেনাও উদ্ধারকাজ শুরু করে দিয়েছে। সরকারি দফতরে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেসরকারি ইনস্টিটিউটগুলিও দু-দিনের জন্য বন্ধ। বৃহস্পতিবার আর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই আশ্বস্ত করেছে আবহাওয়া দফতর।

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close