fbpx
অন্যান্যঅফবিটআন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

৩ নং হিথ ভিলা, হ্যামস্টেড

দেবার্ঘ্য কুমার চক্রবর্ত্তী: যাত্রা শুরু হল, সালটা ১৯১২। কলকাতার জোড়াসাঁকো নিবাসী সম্ভ্রান্তবংশীয় এক ভদ্রলোক, গালে কাঁচাপাকা দাড়ির সমাবেশ, উজ্জ্বল চোখ, পরনে বেশ লম্বা পোশাক, কলকাতা থেকে রওনা দিলেন লন্ডনের উদ্দেশে। এ তাঁর প্রথম লন্ডন যাত্রা নয়। এর আগেও তিনি লন্ডন গেছেন আইনশাস্ত্র পঠনপাঠনের জন্য। এইবার তিনি এক নন, সাথে আছেন ছেলে রথীন্দ্রনাথ এবং ত্রিপুরার মহারাজা।

গ্লাসগো হয়ে এসে পৌঁছালেন তিনি লন্ডন শহরে। যাতায়াতের সমুদ্রপথে আর কিছুটা গ্লাসগো শহরেই নিজের রচনার ইংরেজি অনুবাদের কাজ তাঁর এগিয়ে গেছে। একটা খাতা শেষ। কলম ছুঁয়েছে দ্বিতীয় খাতা।

ডোভার থেকে লন্ডন শহরে এসে তারা চাপলেন বিখ্যাত লন্ডন পাতাল রেলে, যা লন্ডনের সাবেকী সম্বোধনে লন্ডন টিউব নামে পরিচিত। কিছুক্ষণ বাদে ট্রেন থেকে নেমেই বোঝা গেল বিপত্তিটা। অনুবাদের প্রথম খাতাটা হারিয়ে গেছে। খাতাটা ছিল একটি ব্রিফকেসের মধ্যে। এখন ব্রিফকেস সহ সম্পূর্ণ খাতাটাই বেপাত্তা। পাঠিয়ে দিলেন ছেলে রথীন্দ্রনাথকে ইনকোয়ারি অফিস। সে যাত্রা ভাগ্য ভালো ছিল, বেকার স্ট্র্রিটের স্টেশন অফিস থেকেই পাওয়া গেল হারিয়ে যাওয়া ব্রিফকেস।

আরও পড়ুন:রাম মন্দির নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থানে অবাক হইনি: বিজয়ন

পরদিন সকালে তাঁরা পৌঁছালেন হ্যামস্টেড। এখানেই বাড়ি বিখ্যাত ইংরেজ চিত্রকর রথেনস্টাইনের। ১৯১১ সালে, মানে এর ঠিক আগের বছর এই চিত্রকর এসেছিলেন কলকাতায় জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে আর এক চিত্রপ্রেমী অবন্ ঠাকুরের সাথে দেখা করতে। তখনই এই লন্ডনযাত্রী মানুষটির সাথে তাঁর আলাপ এবং সখ্যতা।

রথেনস্টাইনের হ্যামস্টেডের ১১ ওক হিল পার্কের বাড়ির দরজায় টোকা পড়ল। দরজা খুললেন রথেনস্টাইন। তার চৌকাঠের ঠিক এপারে দাঁড়িয়ে তারই এক বছর আগে আলাপ হওয়া বন্ধু, বাঙালীর হৃদয়ের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

ঘরে এসে রথেনস্টাইন কবিগুরুর কাছে শুনলেন তাঁর খাতা হারাবার ঘটনা। কাছেই ৩ নম্বর হিথ ভিলাতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা হয়ে গেল।

এগিয়ে চললো কবিগুরুর অনুবাদের কাজ।লিখলেন নতুন গান , বাঁধলেন নতুন সুর। এখানেই রচিত হল “সুন্দর বটে তব অঙ্গদখানি, তারায় তারায় খচিত”।

 

Related Articles

Back to top button
Close