fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

শ্রমিকদের ৪০ হাজার কোটি বরাদ্দ, ই-বিদ্যা প্রকল্প, এক দেশ এক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ঘোষণা সীতারমনের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনার মোকাবিলায় যে বিশেষ ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক  প্যাকেজের কথা ঘোষণা করেছিলেন রবিবার সকাল ১১ টায় সেই প্যাকেজের পঞ্চম তথা শেষ দফা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ‘আত্মনির্ভর ভারত অভিযান’-র আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার বৈঠকের শুরুতে তিনি বলেন “করোনা আমাদের শিখিয়েছে আত্মনির্ভর ভারত গঠন করতে হবে। গরিব মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে,” বলে জানান।

  • ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে যে ২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে প্রথম ০.৫ শতাংশের জন্য কোনও নিয়ম থাকছে না। কিন্তু পরের এক শতাংশের জন্য কেন্দ্রের প্রকল্পগুলি (এক নেশন-এক রেশন কার্ড, বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার বিলগ্নিকরণ প্রভৃতি) লাগু করতে হবে সফলভাবে, অন্তত চারটির মধ্যে তিনটি করতে হবে। তাহলেই পরের ০.৫ শতাংশ টাকা পাওয়া যাবে।
  • রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রাজ্যের ওভারড্রাফট ১৪ দিনের পরিবর্তে ২১ দিন করেছে, রাজ্যের ঋণ নেওয়ার সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
  • রাজ্যের ঋণ নেওয়ার সীমা জিডিপির ৩ শতাংশ, তার সীমা বাড়িয়ে করা হল ৫ শতাংশ। রাজ্যগুলির দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিল কেন্দ্রীয় সরকার।
  • রাজ্যগুলির রাজস্বও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, রাজস্ব ঘাটতির জন্য কেন্দ্র আর্থিক সহায়তা করেছে সঠিক সময়ে।
  • “প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি মানুষকে ১০ হাজার কোটি অর্থসাহায্য করা হয়েছে। উজ্জ্বলা গ্যাস প্রকল্প ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সরকারি অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৮ কোটি শ্রমিকের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র।
  • পরিযায়ী শ্রমিকদের ট্রেনের ব্যবস্থা হয়েছে। ট্রেন ভাড়ার ৮৫% দিয়েছে কেন্দ্র। অন্যদিকে রাজ্যগুলিকে দিতে হয়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। এই বিষয়গুলি আলোচনা করা হচ্ছে কারণ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, জীবন বাঁচলে তবেই দেশ বাঁচবে,” বলে জানান তিনি।
  • পাবলিক সেক্টর এন্টারপ্রাইজ পলিসিতে বদল করা হচ্ছে। সব ক্ষেত্রেই বেসরকারিকরণ করা হতে পারে। এটা বদল হচ্ছে।
  • সংস্থা সরাসরি বিদেশি সম্পত্তির কথা জানাতে পারবে, এটা একটা বড় পরিবর্তন সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে।
  • কোম্পানি আইনে সব ফৌজদারি অপরাধকে পরিবর্তন করে দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কোনও ফৌজদারি মামলা হবে না সংস্থার বিরুদ্ধে।
  • আগামী এক বছর নতুন করে কোনও সংস্থা ইনসলভেন্সি ক্ষেত্রে যাবে না। ক্ষুদ্র ক্ষেত্রে এই নিয়ে নতুন আইন করা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে ইনসলভেন্সির সীমা ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হচ্ছে।
  • দেশের সব জেলায় একটি করে আইডি ব্লক, জনস্বাস্থ্য পরীক্ষাগার প্রতিটি ব্লকেই থাকবে।দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান দেয়। ৫৫ লক্ষ পিপিই কিট উত্পাদন। দেশেই তৈরি হচ্ছে পিপিই। দেশে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন প্রচুর পরিমাণে উত্পাদন হয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার অগ্রগতি হয়েছে।
  • দেশের প্রতিটি ব্লকে হাসপাতাল ও পরীক্ষাগার করা হবে। যাতে পরবর্তীতে এমন পরিস্থিতিতে কোনও সমস্যা না হয়।
  • ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত দেওয়া হবে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের জন্য। মনরেগা কাজের জন্য এই অতিরিক্ত খরচ করা হবে। মূলত পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে কাজ দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।
  • দেশের পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ যোজনার উল্লখে করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। তিনি বলেন যে যাদের ইন্টারনেটের সুযোগ নেই, তাদের জন্য চালু হয়েছে স্বয়ম প্রভা ডিটিএইচ চ্যানেল। একেবারে বিনামূল্যে এই সব প্যাকেজ টিভিতে পাবেন ছাত্রছাত্রীরা। সেখানেই আরও ১২ বিনামূল্যের চ্যানেল যুক্ত করার কথা ঘোষণা করলেন তিনি। বাড়িতে বসে বিনামূল্যেই এই চ্যানেলে সম্প্রচারিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারবেন পড়ুয়ারা। সীতারমণ বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাস ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ডিটিএইচ পরিষেবার মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষার ব্যবস্থা। ই-পাঠশালার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ২০০ নতুন ই-বুক। যাতে অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রেও সমস্যা না হয়।
  • এক দেশ, এক শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে ‘দীক্ষা’ অ্যাপের্ ব্যবস্থা করার ভাবনা। যা রেডিও এবং টিভি চ্যানেলেও চালু হবে। কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে সম্প্রচার হবে। প্রতিবন্ধীদের জন্যও এই ব্যবস্থা থাকবে। পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের জন্য মনোজ্ঞান অ্যাপ চালু হবে।
  • করোনা সঙ্কটে সব রাজ্যেরই আয় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। পশ্চিমবঙ্গ সহ অনেক রাজ্যই কেন্দ্রের কাছে আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছিল। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দাবি করলেন, করোনা সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে রাজ্যগুলিকে ইতিমধ্যেই ১৫ হাজার কোটি সাহায্য করা হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই রাজ্যগুলির বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের জন্য অগ্রিম ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের মাধ্যমে রাজ্যগুলিকে করোনার মোকাবিলার জন্য আরও ৪ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close