fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চোরাই মোবাইলের কারবার চালানোর দায়ে বর্ধমানে গ্রেফতার ৫ 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: চোরাই মোবাইলের আন্তঃরাজ্য কারবার চালানোর অভিযোগে দুই পাণ্ডা সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জৌগ্রামে। রবিবার রাতে জৌগ্রামের নুড়ি মোড় এলাকা অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে । পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছথেকে ৫৭ টি পুরানো মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। জেরায় ধৃতরা চোরাই মোবাইল কেনা বেচায় জড়িত থাকার কথা কবুল করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। এই ঘটনা জানাজানিঁ হতেই জৌগ্রাম এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , ধৃতদের নাম উজ্জ্বল হাওলাদার ,বলরাম দাস, সঞ্জয় কুমার তাঁতি, মুরলি কুমার দাস ও মিঠুন কুমার সিং। ধৃতদের মধ্যে উজ্জ্বলের বাড়ি জামালপুরের জৌগ্রামের নুড়ি এলাকায়। নুড়ি মোড় ছাড়াও জৌগ্রাম রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় উজ্জ্বলের মোবাইলের দোকান রয়েছে। অপর ধৃত বলরামের বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি থানার বালিবর এলাকায় । বাকি ধৃতরা বিহারের কাটিহারের হাসানগঞ্জ ও আজমনগর থানা এলাকার বাসিন্দা । সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ সোমবার ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে । আরও চোরাই মোবাইল উদ্ধার এবং মোবাইলের চোরাই কারবারে জড়িত বাকিদের হদিশ পেতে তদন্তকারী অফিসার বলরাম ও উজ্জ্বলকে ১৪ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা ওই দু’জনকে ১০ দিন পুলিশি হেফাজতে ও বাকিদের ১২ জুলাই পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দশ দিয়েছেন ।

পুলিস জানিয়েছে, একটি টাটা ইন্ডিগো গাড়ি রবিবার রাতে নুড়ি মোড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। ওই গাড়ির কাছেই ঘোরাঘুরি করছিল অপরিচিত ৪ জন। এমনটা দেখে এলাকার বাসিন্দাদের সন্দেহ হওয়ায় তাদের কেউ বিষয়টি থানায় ফোনকরে জানায়। পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌছে গিয়ে বলরাম, সঞ্জয় মুরলি ও মিঠুনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে । দীর্ঘপথ পেরিয়ে নুড়িতে আসার কারণ সেই ব্যাপারে তারা পুলিশকে কিছু বলতে চায়না। ওই ব্যক্তিরা নুড়িতে আসার প্রকৃত কারণ আড়াল করতে চাইছে বলে মনে হওয়ার পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় । তাদের গাড়িটিতেও পুলিশ তল্লাশি চালায় । তল্লাশিতে গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ২৪টি পুরানো মোবাইল ফোন।

পুলিশের দাবি, জেরায় বলরাম জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে চোরাই মোবাইল কেনা-বেচায় যুক্ত রয়েছে। নুড়ি মোড় এলাকার উজ্জ্বল হাওলাদার তাদের চোরাই মোবাইল সরবরাহ করে। এমনটা জানার পরেই পুলিশ ওই ৪ জনকে সঙ্গেনিয়ে নুড়ির মোড়ে উজ্জ্বলের কাবারি ডেরায় হানা দেয়। পুলিশের দাবি উজ্জ্বল স্বীকার করেছে সে কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে চোরাই মোবাইল সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন জায়গায় পাচারে করেদিত । উজ্জ্বলের দোকান থেকেও ৩৩টি পুরানো মোবাইল উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য ওই চোরাই মোবাইল ফোনের কারবারের মূল পাণ্ডা উজ্বল ও বলরাম । উদ্ধার হওয়া মোবাইল গুলির বৈধ কোনও কাগজপত্র ধৃতরা কেউই দেখাতে পারেনি। মোবাইল ফোন গুলি তারা কোথা থেকে পেয়েছে তারও সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পরায় মোবাইল ফোনগুলি চোরাই বলে ধরে নিয়ে তাদের গ্রেফতার করে হয়েছে । জৌগ্রাম এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন , ক্রেতার কাছে টানতে উজ্জ্বল ইউটিউবে কম দামে মোবাই বিক্রীর কথা প্রচার করতো ।অন্য ব্যবসায়ীরা না পারলেও উজ্জ্বল কিভাবে কমদামে মোবাইল বিক্রী করতো সেটাই রহস্যের বলে মনে করছেন জৌগ্রামের বাসিন্দারা ।

যদিও আদালতে পেশের আগে উজ্জ্বল হাওলাদার সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন , তিনি বৈধ ক্যাশমেমো ভাউচার ছাড়া মোবাইল কেনা বা বিক্রী করেন না । এই সংক্রান্ত সমস্ত কাগজ , বিল , ভাউচার সবকিছুই তার কছে আছে । উজ্জ্বল আরও বলে ফ্লিপ কার্ডের সঙ্গে যুক্ত কেশিফাই ও ব্লু হর্স নামে দুটি কোম্পানির সঙ্গে সে ডাইরেক্ট কাজ করে । ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াও মোবাইল ফোন কেনা সংক্রান্ত অথেন্টিক বিল ও অন্য সব নথি তার কাছে আছে। বাংলা দেশের ঢাকা , চট্টগ্রাম থেকেও ক্রেতা এসে তার দোকান থেকে মোবাইল ফোন কিনে নিয়ে যায় । এতকিছুর পরেও পুলিশ কি কারণে তাদের গ্রেফতার করছে তা বুঝে উঠতে পারছেনা বলে উজ্জ্বল দাবি করেছেন ।

Related Articles

Back to top button
Close