fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া কল্যানেশ্বরীর হোটেল থেকে গ্রেফতার ৬ অপহরণকারী

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া আসানসোলের কল্যানেশ্বরী এলাকার একটি হোটেল থেকে ৬ অপহরণকারীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতরা বিহারের বাসিন্দা। তাদের নাম শশীকুমার সিং, দীনেশ কুমার, বিকাশ কুমার সিং, সুধীর প্রাসাদ, অনিল কুমার, আশুতোষ কুমার। সোমবার সকালে এই ৬জন অপহরণকারীকে কল্যানেশ্বরীর হোটেল থেকে কুলটি থানার চৌরাঙ্গী ফাঁড়ির সহযোগিতায় গ্রেফতার করে  মাইথন থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছে থেকে পুলিশ দুটি গাড়ি  ও ৭টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিহারের কাইমুর জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় কুমার সিং(৩২) নামে এক যুবককে অপহরণ করা হয়। পরে রবিবার বিকাল তাকে পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি থানার চৌরাঙ্গী ফাঁড়ির কল্যানেশ্বরীর একটি হোটেলে এনে, একটি রুমে বন্দি করে রাখে বলে অভিযোগ। সোমবার ভোরবেলায় সঞ্জয় কোনওভাবে অপহরণকারীদের চোখে ফাঁকি দিয়ে সেই হোটেল থেকে পালিয়ে মাইথন ড্যাম পৌঁছায়।

মাইথন ড্যামের পাহারায় থাকা সিআইএসএফ জওয়ানদের সে সমস্ত ঘটনা জানায়। সঙ্গে সঙ্গে সিআইএসএফ সেই কথা মাইথন থানার পুলিশকে বলে। মাইথন থানার পুলিশ আসানসোলের কুলটি থানার চৌরঙ্গী ফাঁড়ির পুলিশকে তা জানায়। এরপর দুই থানার পুলিশ সঞ্জয়কে সঙ্গে নিয়ে ওই হোটেলে হানা দেয়। গ্রেফতার করা হয় ৬জন অপহরণকারীকেই।

সঞ্জয় কুমার সিংয়ের স্ত্রী আশা দেবী ৬জনের বিরুদ্ধে স্বামীকে অপহরন করার অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মাইথন পুলিশ একটি অপহরণের মামলাজ করেছে। ঘটনার ব্যাপারে অপহৃত সঞ্জয় কুমার সিং বলেন, আমরা কয়েকজন মিলে পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করে ছিলাম। আমি তাতে ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু পার্টনাররা আমার সঙ্গে জালিয়াতি করে ও আমার দেওয়া টাকা হাতিয়ে  নেয়। বারবার আমি টাকা চাইলে আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া যে কোম্পানিতে আমরা ঠিকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম সেই কোম্পানির বেশ কিছু জিনিস চুরি করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেই চুরির ঘটনা কোম্পানিকে আমি জানিয়ে দিলে পার্টনারদের সঙ্গে আমার শত্রুতা আরও বেড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ১৪ আগস্ট আমাকে এই ৬জন টাকা দেওয়ার নাম করে ডাকে। আমি গেলে একটি সুইফ্ট ডিজায়ার গাড়িতে জোর করে তুলে আমাকে অপহরণ করে নেয় এরা। তারপর গত দুদিন আমাকে নিয়ে এরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। শেষে রবিবার বিকেলে আমাকে এই হোটেলে নিয়ে এসে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। মারধরও করা হয়। আমার স্ত্রীকে ফোন করে এরা বলে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপন হিসাবে ৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়। সেই মতো আমার স্ত্রী ১৫ আগষ্ট ৫০ হাজার টাকা এদের একজনের ব্যাংকের একাউন্টে দেয়। বাকি টাকা নিয়ে এই হোটেলে আসতে বলা হয়। কিন্তু এদিন ভোরবেলায় আমি পালিয়ে যাই ও মাইথন থানার
পুলিশকে ঘটনা সম্পর্কে সব বলি।

এই প্রসঙ্গে সঞ্জয় কুমার সিংয়ের স্ত্রী আশাদেবী সিং বলেন, ১৪ আগষ্ট আমাকে এক ব্যাক্তি ফোন করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামীকে তারা অপহরণ করেছে। মুক্তিপন হিসাবে ৫লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। আমি ৫০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাদের একাউন্টে দিয়েছিলাম। কিন্তু রবিবার এই হোটেল থেকে ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে একজন ফোন করেন। তিনি আমায় বলেন, তার স্বামীকে অপহরণকারীরা এই  হোটেলে রেখেছে৷ তারা সোমবার সকাল ৯টার সময় হোটেল রুম ছেড়ে চলে যাবে। তার আগে যেন আমি হোটলের সামনে চলে আসি। তারা অপহরণকারীদের চোখে ফাঁকি দিয়ে আমার স্বামীকে হোটেলের বাইরে বার করে দেবেন। এখানে এসে আমি জানতে পারি তার আগে এদিন ভোরবেলা আমার স্বামী হোটেল থেকে পালিয়ে যায়।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, যদি হোটেল ম্যানেজার আগে থেকে জানতেন তাদের হোটেলে অপহরণকারীরা একজনকে রেখেছে তবে কেন স্থানীয় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়নি? তাহলে কি এই ঘটনায় হোটেলের কেউ জড়িত আছে? এই ঘটনায় মাইথন থানার পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। হোটেলের ম্যানেজারের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (পশ্চিম) অনমিত্র দাস বলেন, মাইথন পুলিশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি অপহরণের অভিযোগে কল্যানেশ্বরী যাওয়ার কথা বলে। তারা ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close