fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় নতুন করে করোনা পজিটিভ ছয়, সবমিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১৯ জন

মিল্টন পাল, মালদা: নতুন করে ছয় জনের দেহে মিলল করোনা পজিটিভ। মালদা জেলায় করোনা পজিটিভের সংখ্যা ১৩ থেকে বেড়ে ১৯। পজিটিভদের চিকিৎসা চলছে মালদা থানার নারায়ণপুর এলাকার কোভিড হাসপাতলে ।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য দপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় নতুন করে ছয়জন করোনা পজেটিভ আক্রান্তের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যার মধ্যে পুরাতন মালদা ব্লকে রয়েছে দুইজন , হবিবপুর ব্লকের রয়েছে একজন , মানিকচক ব্লকের রয়েছে একজন, কালিয়াচক ১ ব্লকে রয়েছে একজন এবং হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকে রয়েছে একজন।

 মঙ্গলবার করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নতুন করে বাড়তেই জেলাজুড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। লকডাউনের মধ্যেও কোনরকম নির্দেশিকায় যে বহু মানুষেরা মানছেন না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিস্তর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। বাজার হাটে সর্বত্রই ভিড় , অনেক ক্ষেত্রে বেশিরভাগ দোকান অবাঞ্চিত ভাবে খুলে বেচাকেনা পর্ব চলছে । রাস্তাঘাটে থিক থিক করছে মানুষের ভিড় । এই রকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে এই সংক্রমণ জেলায় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলার বুদ্ধিজীবী থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউনে কড়াকড়ি করার ব্যাপারে কোনওরকম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না বলেও বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৬ মে আজমের থেকে যেসব পরিযায়ী শ্রমিকদের মালদায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল সরকারিভাবে। তাদের থেকেই একে একে করোণা পজিটিভ ধরা পড়ছে। ওইদিন মালদায় ২৭৯ জন এসেছিলেন । যাদের মধ্যে ২২৮ জন ছিলেন মালদা জেলার বিভিন্ন ব্লকের বাসিন্দা । বাকিরা ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার । ওইদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের থার্মাল স্ক্রীনিং , লালা রস সংগ্রহ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা । আর তারপর থেকে একটার পর একটা করোনা সংক্রমন রোগী ধরা পড়ছে মালদায়।  মা নিয়ে প্রশাসনিক মহলের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার জেলার পাঁচটি ব্লকের মোট ৬ জন করোনার সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন‌। যদিও আক্রান্তরা প্রত্যেকেই পুরুষ। এখনো পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে মোট ১৯ জন। যদিও এব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি । তবে জেলার বিভিন্ন মহলে কোয়ারেন্টিন সেন্টার নতুন করে চালু করার ব্যাপারে দাবি উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরাতন মালদার নারায়ণপুর এলাকার কোভিক হাসপাতলে করোণা সংক্রামন শনাক্ত যারা হয়েছেন, তাদের চিকিৎসা চলছে । তবে আজমের ফেরত যেসব পরিযায়ী শ্রমিকেরা মালদায় এসেছিলেন, তাদের লালা রস সংগ্রহ করার পরেই এই সংক্রমণ মূলত দেখা দিচ্ছে।  মালদায় লকডাউন মানার কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের বলে অভিযোগ উঠেছে। যত্রতত্র বাজার , হাট খোলা। অবাঞ্চিত মানুষের চলাচল, যে কোনো জায়গায় ভিড় করছে সাধারণ মানুষ। এমনকি বেশ কিছু জামা কাপড়ের দোকানে ও অবাঞ্চিত ভাবে বেচাকেনা চলছে। যা নিয়ে নতুন করে করোনা সংক্রামণের আতঙ্ক মানুষের মধ্যে ছড়াতে শুরু করেছে। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কোনো কর্তারাই মন্তব্য করতে চান নি।

উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানিয়েছেন, প্রশাসনিকভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের জেলায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, এটা খুব ভালো কথা।  কিন্তু তাদের কেন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না । এই শ্রমিকদের হোম কোয়ারান্টিনে থাকার কথা বলা হচ্ছে । ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার পর কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।

ইংরেজবাজারের তৃণমূল বিধায়ক নিহার ঘোষ বলেন , রাজ্য সরকার সবসময় দুঃস্থ এবং অসহায় শ্রমিকদের পাশে রয়েছ। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার চালু করার ব্যাপারে প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close