fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরলেন ৭১ বছর বয়সী ঝর্ণা সাহা

নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনহাটা: কেউ হাতে তুলে দিলেন পুষ্পস্তবক, আবার কেউ  গলায় পরিয়ে দিলেন ফুলের মালা। কেই আবার ফুল ছিটিয়ে দিলেন। পরিসংখ্যানে যখন বারেবারে বলা হচ্ছে বয়স্করা করোনা সংক্রমিত হলে প্রতি ক্ষেত্রেই ভয় থাকে। ঠিক সেই সময় মনের জোরকে সঙ্গী করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দের চেষ্টায় ৭১ বছর বয়সেও করোনা আক্রান্ত হয়েও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন দিনহাটার ঝর্ণা সাহা।

আর এই বয়সে করোনা কে হার মানিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আগে কোচবিহার কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কর্মীরাও সংবর্ধনা দিল ঝর্ণা সাহাকে। ঝর্ণা দেবীর পরিবারের পক্ষ থেকেও রানা সাহা, সৌমোহী সাহা, অরিন্দম সাহা, বাপ্পা সাহা প্রমুখরা কোচবিহার কোভিড হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য কর্মীদের সংবর্ধনা দেন। ঝরনা দেবীর ছেলে রানা সাহা জানান, যাদের প্রচেষ্টায় এই বয়সেও তার মা করোনা সংক্রমিত হয়েও সুস্থ হয়ে উঠে এসেছে। তাই তাদেরকে এদিন সম্মান জানাতে পেরে ভাল লাগছে।

সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তিনি বাড়িতে ফেরেন। দিন কয়েক আগেই ঝর্ণা দেবী করোনা সংক্রমিত হয়। উল্লেখ্য, শহরের আট নম্বর ওয়ার্ডের গোসানি রোডের একই বাড়ির তিন জন করোনা সংক্রমিত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে কম বয়সী দু’জন দিন কয়েক আগে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। এদিন রাতে বয়স্ক এই মহিলা বাড়ি ফিরতেই স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাবের পাশাপাশি প্রতিবেশীরা তার হাতে পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া ছাড়াও হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান।

গত ১৩ ই জুলাই তার শরীর খারাপ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঝর্ণা দেবী হার্টের যেমন রোগী তেমনি তার থাইরয়েড থেকে শুরু করে সুগার, প্রেসার ও কোলেস্টেরল রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এরপর তার সোয়াব টেস্ট হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই ১৫ ই জুলাই তাকে কোচবিহারের কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পাশাপাশি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে এই ভাইরাসে বয়স্ক এবং শিশুরা সংক্রমিত হলে সেক্ষেত্রে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু মনের জোর কখনও হারাননি ঝর্ণা দেবী। বয়স বেশি হওয়ার ফলে চিকিৎসার পাশাপাশি কয়েকবার সোয়াব টেস্ট হয় তার। প্রতিবারই পজেটিভ আসে বলে তার ছেলে রানা সাহা জানান। সোমবার ফের টেস্ট রিপোর্টে নেগেটিভ আশায় তাকে ছুটি দেওয়া হয়।

এদিন রাতে বাড়ি ফিরে ঝর্ণা সাহা বলেন, “আমার দেওর ও দুই ছেলে পরপর আক্রান্ত হয়েছিল এই রোগে। তারপর আমিও সংক্রমিত হই। অসুস্থ শরীরে আক্রান্ত হওয়ার পর কিছুটা ভেঙ্গে পড়েছিলাম। কিন্তু বাড়ির লোকেদের পাশাপাশি আত্মীয়-পরিজন সবসময় ফোনে আমাকে নানাভাবে সাহস দিয়েছেন। কঠিন এই লড়াইয়ে থাকে যে জিততেই হবে। আর এই লক্ষ্যেই আমি কখনও হাল ছাড়িনি।

ঝর্ণা সাহা জানান, কোচবিহার কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীরা নানাভাবে সাহস যুগিয়েছেন। প্রতি মুহূর্তে পাশে থেকে মন ভাল রাখার পরামর্শ দিতেন তারা। নানা রোগে আক্রান্ত থাকলেও মনের জোর ও শক্তি দিয়েই মারণ এই রোগকে প্রতিহত করা সম্ভব হল।

প্রায় ১২ দিন কোচবিহার কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসার পর এদিন রিপোর্ট নেগেটিভ আসতেই  তাকে আনতে সেখানে ছুটে যান পরিবারের লোকজন। ঝর্ণা দেবীর ছেলে রানা সাহা বলেন, একসাথে তাদের পরিবারের তিনজন আক্রান্ত হন। তার মধ্যে তার মা বয়স্ক হওয়ায় তারাও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন। কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিষেবার ফলে তারা তার মাকে ফিরে পেলেন। ৭১ বছরের বয়স্ক মহিলা করোনা সংক্রমিত হওয়ার পর এদিন ছুটি হতেই  বাড়ি আসার আগে হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সকলেই তার মাকে শুভেচ্ছা জানান।

স্থানীয় দুই ক্লাবের সদস্যরা সকলেই এগিয়ে আসেন। করোনা জয়ীকে স্বাগত জানানোর পর বাবলু সাহা, মদন কর্মকার থেকে শুরু করে অনেকেই বলেন, এই বয়সে করোনাকে হার মানিয়ে  ঝর্ণা সাহা যেভাবে সুস্থ হয়ে ফিরে এলেন তা নজির হয়ে থাকবে। করোনা আক্রান্তদের পাশে তারা রয়েছেন এই বার্তা দিতেই এদিন তাকে তারা সংবর্ধনা দেন ও স্বাগত জানান।

Related Articles

Back to top button
Close