fbpx
অসমগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ভয়াবহ বন্যায় কাজিরাঙার ৯৫ শতাংশই জলের নীচে! ভেসে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় জলের নীচে অসমের বিস্তীর্ণ অংশ। গ্রামের পর গ্রাম ভাসছে। ভাসছে কাজিরাঙার জঙ্গলও।ইতিমধ্যেই বন্যায় মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসেবে ৭৬। বেসরকারি হিসেবে সংখ্যাটা আরও বেশি বলেই আশঙ্কা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রবল বৃষ্টিতে ব্রহ্মপুত্র নদ ফুঁসছে। বিপদ সীমার উপর দিয়ে বইছে। যার নির্যাস, ২৬টি জেলা জলের তলায়। ৩৭ লক্ষ মানুষ বন্যা কবলিত। গ্রামের পর গ্রাম, চাষের জমি, বন্যপ্রাণী ব্রহ্মপুত্রের গ্রাসে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, মানুষ ও বন্যপ্রাণী একই ছাদের তলায় আশ্রয় নিচ্ছে প্রাণের তাগিদে।

সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, কাজিরাঙা জঙ্গলের ৯৫ শতাংশই জলের তলায়। কাজিরাঙা সংলগ্ন ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। একাধিক বাঘ ও গণ্ডার প্রাণে বাঁচতে পার্শ্ববর্তী গ্রামে আশ্রয় খুঁজতে ঢুকে পড়েছে।২৩৩টির মধ্যে ৮০টি শিকার-দমন ক্যাম্প ভেসে গিয়েছে জলে। কাজিরাঙা সংলগ্ন জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কারণ, গাড়ি চাপা পড়েই মৃত্যু হয়েছে ১৪টি হরিণের। ৪টি একশৃঙ্গ গণ্ডার জলের ডুবে মারা গিয়েছে। তিনটি বাঘ পার্শ্ববর্তী গ্রামে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গিয়েছিল। তাদের জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, গণ্ডার-সহ ১২৫টি বন্যপ্রাণীকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করা গিয়েছে।  কাজিরাঙার জঙ্গলে বনকর্মীরা নৌকা নিয়ে ঢুকে বন্যপ্রাণীদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: দেশের মানুষ অসমের পাশে আছে: রাহুল গান্ধী

অসম বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ধুবরি, বরপেটা, মরিগাঁও, লখিমপুর, দারাং, গোলাঘাট, গোয়ালপাড়া ও বঙ্গাইগাঁওয়ের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। শুধু ধুবরিতেই ৮.৭ লক্ষ মানুষ বন্যা কবলিত। ৩ হাজার ২০১টি গ্রাম জলের তলায়। সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। বঙ্গাইগাঁও জেলাটি ব্রহ্মপুত্রের উত্তর অববাহিকায় অবস্থিত।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০ লক্ষের বেশি বড় ও ছোট গবাদি পশু, ১২.৮৫ লক্ষ পোলট্রি ফার্ম বন্যা কবলিত বিভিন্ন জেলায়। গরু, শুয়োর, ছাগল, মুরগি, হাঁস– সব বন্যায় ভেসে গিয়েছে। ২৪টি জেলার ৩০০ রিলিফ ক্যাম্পে শুক্রবার পর্যন্ত ৪৯ হাজার ৯৭৭ মানুষকে আশ্রয় দেওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫২৬ জন শিশু। তাদের অস্থায়ী রিলিফ ক্যাম্পে মা-বাবার সঙ্গে রাখা হয়েছে। ৪৪৫টি রিলিফ ডিস্ট্রিবিউশন ক্যাম্প থেকে চাল, ডাল, নুন, সরষের তেল, গম, বেবি ফুড, ত্রিপল, গবাদি পশুর খাবার, স্যানিটারি ন্যাপকিন-সহ নানা অত্যাবশ্যক পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button
Close