fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

আল-কায়দা, সিমি, জামাত-দের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হল পশ্চিমবঙ্গ: দিলীপ ঘোষ

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: আল-কায়েদা, সিমি, জামাত, পাকিস্তান, নাগাল্যান্ড, মণিপুর সহ একাধিক জায়গার উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির এখন অবাধ বিচরণক্ষেত্র হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। কারণ পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের সরকার এই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির দেশ বিরোধী কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দেয়। এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজ্যের নাগরিকদের সুরক্ষার থেকে তৃণমূল সরকারের কাছে অনেক বেশি প্রিয় ভোটের রাজনীতি । তাই আজও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের ১০০০ কিলোমিটার অঞ্চল কোনও কাঁটাতারের বেড়া নেই । কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বারেবারে আবেদন করলেও মমতার সরকার এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি । দিলীপবাবু আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে এই উগ্রপন্থার হাত থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র বিজেপি সরকার । কারণ কাশ্মীর থেকে শুরু করে সর্বত্র আমরা  উগ্রপন্থাকে দমন করেছি।  ২০২১ সালে ক্ষমতায় এলে  পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে এক নির্বিঘ্ন ও শান্তির জীবন আমরা দেব  কথা দিচ্ছি ।

মুর্শিদাবাদ থেকে ছয় জন আল-কায়েদা জঙ্গি গ্রেপ্তার হওয়ার প্রসঙ্গে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন মুর্শিদাবাদে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। তিনি বলেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল পাস হওয়ার সময় আমরা মুর্শিদাবাদকে জ্বলতে দেখেছি । খাগড়াগড় বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গাদের মতো মারাত্মক জনজাতির নিরাপদ বসবাসের জায়গা তৈরি করে  সবাই দেখেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী । একের পর এক বিস্ফোরণে আগুনে জ্বলে বাঙালি এখন আরো ভালো করে বুঝতে পারছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের কেন প্রয়োজন!

তিনি বলেন, ‘আমরা বারে বারে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এবং পার্লামেন্টে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি? পশ্চিমবঙ্গে এমন একটা সরকার বর্তমানে শাসনকার্য চালাচ্ছে যারা একটা জঙ্গি তো ধরতে পারে না কিন্তু হাজার হাজার বিজেপি কর্মীদের মিথ্যে গাজা কেস দিয়ে জেলে ভরে দিতে পারে। দিলীপবাবু আরো বলেন, পশ্চিমবঙ্গে সেন্ট্রাল এজেন্সিগুলোকে ঠিকমতো কাজ করতে দেওয়া হয় না। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের সময় আমরা দেখেছিলাম এএনআইকে কাজ করতে না দেওয়া, রাজীব কুমারকে যখন সিবিআই গ্রেপ্তার করতে এসেছিলো তখন আমরা দেখেছি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে এর প্রতিবাদে রাস্তায় বসে ধর্ণা দিতে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের শাসন ব্যবস্থা এবং আইনি ব্যবস্থার হাল এরকম যে রাজ্য পুলিশ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের গ্রেপ্তার করতে পর্যন্ত পিছপা হয় না। যে রাজ্যে বহিরাগত সমস্ত মানুষকে কোনওরকম অনুসন্ধান না করেই কোন অজানা কারণে ভোটার কার্ড আধার কার্ড তৈরি করার স্বাধীনতা দেওয়া হয় সেসব যায় সেই রাজ্যে কে বেসক্যাম্প বানিয়ে উগ্রবাদী সংগঠনগুলি নিজেদের কাজকর্ম স্বাধীনভাবে চালাবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না ।’

দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিকে কড়া নজরে রেখেছে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এজেন্সি গুলি। রাজনাথ সিং যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তখন তিনি নিজে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে বৈঠক করেছেন । শুধু মাত্র ১০০০ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী অঞ্চল ফাঁকা পড়ে আছে সেখানে বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য ।কিন্তু মমতা ব্যানার্জি সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি ।একাধিকবার অনুরোধ করার পর রাজনাথজী নিজে এসেছিলেন বৈঠক করতে। তিনি শুধু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চল জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি চেয়েছিলেন।  মমতা সরকার সেই বিষয়ে আগ্রহী হয় নি। উপরন্ত তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে বলেছিল নিজেরা জমি খুঁজে নিতে । সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী যা অসম্ভব। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে দেশের এবং রাজ্যের মানুষের সুরক্ষা নিয়ে মমতা সরকার কতটা চিন্তিত আমার কাছে বহু রিপোর্ট আছে যে বিএসএফ সীমান্তবর্তী অঞ্চল গুলোতে অনুপ্রবেশকারীদের ধরে নিয়ম অনুযায়ী রাজ্য সরকারের পুলিশের হাতে তুলে দেয় কিন্তু শুধুমাত্র তৃণমূলের ক্যাডার হবে বা মিটিং-মিছিলের ঝান্ডা ধরে ঘুরবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই অনুপ্রবেশকারীরা অনায়াসেই ভারতে থাকার ছাড়পত্র পেয়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাশ করার পরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছিল বহু লোক ধরা পড়েছেন কিন্তু রাজ্য সরকারের সিএ বিরোধী মনোভাব এর ফলে অনুপ্রবেশ একইভাবে চলছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গের যখন আসেন তখন বর্ডার থেকে দিদির ভাইরা গাড়িতে গাড়িতে করে এদের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় দিয়েছে তারপর পশ্চিমবঙ্গ থেকে এরা সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন নাশকতামূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে যার বৃস্তিত রিপোর্ট আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে।

সরকারি এই উদাসীনতা এবং শাসক দল এর ভোটের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গ ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘরে  আমরা দেখতে পাচ্ছে চোখের সামনে একের পর এক উগ্রপন্থী সন্ত্রাসবাদি গ্রেপ্তার হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। পুরুলিয়ার মাদ্রাসা থেকে শুরু করে পিংলার দুর্ঘটনা কালিয়াচক ধুলাগর খাগড়াগড় বিস্ফোরণ অতিসম্প্রতি নৈহাটির বিস্ফোরণ একের পর এক হতে চলেছে শুধুমাত্র বাংলায় ,অথচ সরকার এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন। পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে ট্রেনিং নিয়ে উগ্রপন্থী রা বাংলাদেশের ঢাকায় গিয়ে জামাতের সাথে হাত মিলিয়ে সমস্যা তৈরি করছে । আমাদের দুর্ভাগ্য যে বাংলাকে একদিন  পৃথিবীর মানুষ চিনতো রবীন্দ্রনাথের  নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বাংলা হিসাবে  সেই বাংলার  এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে  এটাই অবস্থান।

২০২১ সালে বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায এসে প্রথমে কড়া হাতে এই ধরনের নাশকতামূলক উগ্রপন্থা কাজকর্মগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করব আমরা। কাশ্মীরের উগ্রপন্থিদের, অসম, ঝাড়খণ্ডের মাওবাদীদের দমন করে বিজেপি সরকার দেখিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রের স্বার্থে রাজ্যের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের স্বার্থে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। কারণ বিজেপি সরকার মানে শান্তির নিরাপত্তার সরকার। কারন আমরা কাজ করি মানুষের জন্য মানুষের কথা ভেবে। আমাদের কাছে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের থেকে রাষ্ট্রের এবং দেশবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থ অনেক বড়।

Related Articles

Back to top button
Close