fbpx
অসমআন্তর্জাতিকবাংলাদেশহেডলাইন

প্রেমিকের সঙ্গে সংসার করতে এসে গুয়াহাটি পুলিশের জালে বাংলাদেশের মহিলা

অভিজিৎ বোস, গুয়াহাটি: প্রেম সর্বদাই অসীম। সীমার গণ্ডিতে আটকে রাখা যায় না প্রেম। একথাটিই আরও একবার প্রমাণিত হলো রিমা খানের ঘটনায়। বছর দুয়েক আগেই ফেসবুকে প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে নিজের সংসার ও দেশ ছেড়ে বেনাপোল দিয়ে ভারতে চলে আসেন বাংলাদেশের মহিলা রিমা খান। উদ্দেশ্য একটাই প্রেমিকের সঙ্গে সংসার করা। প্রেমিক জেবনিলালি সাই। তিনি নেপালের বাসিন্দা। ভারতের মাটিতে (কলকাতায়) দু’জনের মিলনের পর তারা চলে যান নেপালে। সেখানে বিয়ে হয়। তার পর কোনও অজ্ঞাত কারণে রিমা খান ও জেবনিলালি ফের ভারতে আসেন।

 

শিলিগুড়ি হয়ে সোজা চলে আসেন গুযাহাটিতে। এবং এখানে এসেই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। গ্রেফতারির কারণ, বাংলাদেশী মহিলা রিমা খানের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ২০১৯ সালেই। আটক হয়েছেন নেপালের নাগরিকত্ব থাকা দ্বিতীয় স্বামী জেবনিলালিও।  গ্রেফতারির এই ঘটনা গুয়াহাটির ফাটাশিল আমবাড়ি এলাকায়। সীমান্ত শাখার পুলিশ রিমা খানের কাছ থেকে ২০১৯ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া নথিপত্র পায়। ফাটাশিল আমবাড়ি পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেফতার করে গুয়াহাটি জেলা আদালতে হাজির করলে বিচারক জেল হেফাজতে পাঠান।

ফাটাশিল আমবাড়ির সীমান্ত শাখার আইসি দিলীপ দেবনাথ জানান, সোমবার সকালে এক গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে ধীরেনপাড় রঘুনাথ পথের এক ভাড়া বাড়ি থেকে রিমা খান নামের এক মহিলাকে আটক করা হয়। মহিলাটি মূলত বাংলাদেশের নাগরিক। পুলিশ তার কাছ থেকে অর্ধেক পুড়ে যাওয়া বাংলাদেশের পাসপোর্ট, ২০১৯ সালে মেযাদ শেষ হয়ে যাওয়া ভিসা ও বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র উদ্ধার করেন। রিমাকে থানায এনে জেরা করলে পুলিশ জানতে পারে যে, রিমা বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলার বাথুইমুড়ি গ্রামের নাগরিক। বাবার নাম মোহম্মদ দেলোয়ার হোসেন। তাকে আরও জেরা করলে পুলিশ জানতে পারে, রিমার প্রথম বিবাহ বাংলাদেশে হয়েছিল। তারপর ফেসবুকে প্রেম হয় নেপালের নাগরিক জেবনিলালি সাই-এর সঙ্গে।

 

জেবনির সঙ্গে দেখা করতে রিমা বৈধ ভিসা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বেনাপোলের সীমান্ত দিয়ে যে ভারতে প্রবেশ করেন ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর। তারপর সেখান থেকে সোজা চলে যান জেবনির নেপালের বাড়িতে। সেখানে ফের নিয়ম নীতি মেনে জেবনি ও রিমার বিয়ে হয়। ইতিমধ্যে ২০১৯ সালের শেষের দিকে শেষ হয়ে যায় ভিসার মেয়াদ। তারপর ২০ জানুযারি ২০২০ সালে এরা দুজনেই ফের ভারতে প্রবেশ করে গুয়াহাটিতে চলে আসেন কাজের খোঁজে। কাজ পেয়ে যান রিমা। এবং তারা ঘর ভাড়া নেন ধীরেনপাড়ার রঘুনাথ পথে। তারপর সিকিউরিটির চাকরি পেয়ে ধীরেনপাড়ারই সুরিযা ভাটিকা অ্যাপার্টমেনে ওঠেন তারা। এবং তারপর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন রিমা খান।

Related Articles

Back to top button
Close