fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত মৃতদেহ ঘিরে চাঞ্চল্য সাগরে

বিশ্বজিত হালদার, সাগর:‌ এক বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহকে ঘিরে শুরু হল রাজনৈতিক চাপানউতোর। মৃত বিজেপি কর্মীর নাম গৌতম পাত্র (‌৫২) বলে জানা গিয়েছে‌। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি গাছে ঝুলন্ত দেহটা দেখতে পায় এলাকার মানুষ। এরপর স্থানীয় বিজেপি কর্মী-‌সমর্থকরা খুনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মৃতদেহ উদ্ধার করতে গেলে পুলিশকে বাধা দেওয়া হয়। পরে সাগর থানার পুলিশ গৌতমের দেহ উদ্ধার করে কাকদ্বীপ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

গৌতম সাগর বিধানসভার ঘোড়ামারা গ্রাম পঞ্চায়েতের দু’‌নম্বর বুথের বিজেপির সম্পাদক ছিলেন। দেহের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। এই নোটে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিলেছে। এলাকার স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন প্রতিবেশীরা। এক প্রতিবেশী মহিলার বাড়িতে ঢুকে কু-ইঙ্গিত করে বলে অভিযোগ ওঠে ওই বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে। তারপর থেকে গ্রাম্য সালিশি বসিয়ে গৌতমকে মানসিকভাবে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সাজানো বলে  ঘনিষ্ঠমহলে বারে বারে জানিয়েছিলেন গৌতম। কিন্তু বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতা, মাতব্বররা তা মানতে চাননি। বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠিক জেলার সভাপতি দীপঙ্কর জানা খুনের অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে সাগরের বিধায়ক বঙ্কিম হাজরা আত্মহত্যার কথা জানিয়েছেন। পারিবারিক বিবাদের জেরে এই আত্মহত্যা বলে দাবি বিধায়কের। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে আসেন সুন্দরবন পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার মন্ডল, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অনিল রায়, সি আই কাকদ্বীপ। পুরো এলাকা থমথমে। পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: সোমেন মিত্রের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, টুইটে শোকজ্ঞাপন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

 সাগরের ঘোড়ামারা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটখোলা গ্রামের বাসিন্দা ও ২ নম্বর বুথের বিজেপির বুথ সম্পাদক ছিলেন গৌতম পাত্র। আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা নিয়ে তৃণমূলের দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে গৌতম টার্গেট হয়ে যায় বলে এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ। তারপর মহিলা সম্পর্কিত ঘটনায় সালিশিসভার নাম করে হেনস্থা শুরু হয় বলে অভিযোগ। এরফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর রাতে গৌতম বাড়িতে ফিরে না আসায় খোঁজ শুরু করেন পরিবারের লোকজনেরা। সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি গাছে তার ঝুলন্ত দেহটি দেখতে পাওয়া যায়। এই ঘটনা চাউর হতেই আশপাশে গ্রাম থেকে মানুষজনেরা এসে হাজির হয় ঘটনাস্থলে। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে সাগর থানার পুলিশ। পুলিশ দেহটিকে উদ্ধার করতে গেলে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। দেহটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হলে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা থানার সামনে বিক্ষোভ জানাতে শুরু করে। পরে পুলিশ দেহটিকে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

 

মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দীপঙ্কর জানা জানান, ‘ঘোড়ামারা অঞ্চলের দু’‌নম্বর বুথের আমাদের বিজেপির বুথ সম্পাদক গৌতম পাত্রকে তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী মেরে গলায় কাপড়ের লাগিয়ে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সারা রাজ্য জুড়ে তৃণমূল এইরকম কান্ড করে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদের কিছু বলছে না। গৌতমবাবু অপরাধ আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাদের ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাদের কাগজপত্র বিডিও অফিসে জমা করেছিল যাতে ক্ষতিগ্রস্থরা ক্ষতিপূরণ পায়। সেটা তৃণমূল সহ্য করতে পারেনি। ঘটনার আগের দিন গৌতম বাবু কে বিজেপি না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আমরা এর প্রতিবাদ করছি ও প্রতিকার চাই।’‌

 

সাগরের বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান, ‘এটা আত্মহত্যা। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। বিজেপি পরিকল্পিতভাবে এই দায়টা তৃণমূলের ঘাড়ে চাপিয়ে দলের বদনাম করতে চাইছে। দীর্ঘদিন ধরে গৌতমবাবুর পরিবারের অশান্তি চলছিল। তার ফলে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই অবসাদ কাটাতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’‌

Related Articles

Back to top button
Close