fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নজির! মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার পাশে দাঁড়ালেন খেজুরির যুবক ও শিক্ষক

ভীষ্মদেব দাশ, খেজুরি (পূর্ব মেদিনীপুর): আনলক ১ এর শুরুতেই দিশাহীন হতাশার মাঝেই ভরসা ও বিশ্বাসের দ্বীপ জ্বলল খেজুরির বাঁশগোড়া বাজারে। মানসিক ভারসাম‍্যহীন এক ভবঘুরে মহিলার পাশে দাঁড়ালেন খেজুরির এক সংখ‍্যালঘু যুবক ও শিক্ষক।

 

 

মহিলাকে সংবেদনশীলতা ও মানবিকতার পরশ দিলেন বাঁশগোড়া মিঞামোড়ের যুবক সেক আজানূর। মঙ্গলবার সকালে খেজুরি-১ ব্লকের মিঞামোড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে ঘুরতে দেখেন সেক আজানূর বাবু। উলঙ্গ অবস্থায় পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা। আজানূর বাবুর নজরে পড়লে তিনি সাথে সাথে নিজের পরনের গামছা খুলে পরিয়ে দেন ওই মহিলাকে। ধর্মপ্রান আজানূর মানব প্রেমকেই সবচেয়ে বড় ধর্ম বলে মনে করেন। সেক আজানূর বাবু বলেন, আমার আম্মি বা বহিন হলে কি দুবার ভাবতাম? পথে যেতে যেতে বিষয়টি নজরে পড়ে শিক্ষক অরিন্দম মাইতির।

 

 

 

অরিন্দম বাবু বাইক থামিয়েই পৌঁছে যান কাপড়ের দোকানে। দোকান থেকে কিনে নিয়ে আসেন পোশাক। পরম যত্নে তা পরিয়ে দেন আরেক পথচারী অজয়া নিবাসী মনিমালা দাস। পাশের দোকানে নিয়ে গিয়ে মহিলাকে দেওয়া হয় খাওয়ার,পানীয় জল। বর্তমান সরকারী ব‍্যবস্থাপনায় ভবঘুরেদের জন‍্য আশ্রয় শিবির খেজুরীতে নেই।প্রান্তিক এইসব মানসিক ভারসাম‍্যহীনদের নিয়ে সর্বাত্মক কোনো প্রচেষ্টার খবর ও জানা যায় না। এই বিষয়ে খেজুরি-১ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, আমি প্রয়োজনীয় খাওয়ার, পোশাক দেওয়া হবে। খেজুরিতে মানসিক ভারসাম্যহীন গৃহহীনদের রাখার কোনও পরিষেবা নেই। তবে যোগাযোগের মাধ্যমে অন্য সেন্টারে রাখার বিষয়ে ব্যাবস্থা করবো।

 

 

 

খেজুরি-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রাবনী মাইতি বলেন, অত্যন্ত আনন্দের খবর। সচরাচর এমন মানবিকতার কথা আজকাল শোনা যায় না। আজানূর, অরিন্দম বাবুরা মায়ের সম্মান বাঁচিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন ঘটনায় উদ্বুদ্ধ হোক যুব সমাজ। দুই জনের মানবিক কাজকে প্রশংসা করেন তারা সমাজের সর্বস্তরের জনগণ। পঞ্চায়েত সমিতির তরফে সেক আজানূরকে পুরষ্কৃত করা হতে পারে বলেও জানান শ্রাবণী মাইতি।

 

 

 

খেজুরিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সংগঠক সর্বোদয় সংঘের সম্পাদক সুব্রত মাইতি বলেন, আর্থিক বিপর্যয়ের কারনে বা পারিবারিক সমস‍্যায় বহু মানুষ এই ভাবে মানসিক ভারসাম‍্য হারিয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। এদের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত কাউন্সেলিং। পরিবারকেও সহনশীল ও সহানভূতিশীল হতে হবে। সরকার চাইলে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে সাথে নিয়ে এই বিষয়ে কাজ করতে পারেন।

 

 

 

সরকারী ঘোষণা যাই হোক না কেন। করোনা সন্ত্রাস, আম্ফান বিদ্ধস্ত খেজুরিতে হতোদ‍্যম মানুষের এখন সঙ্গী সুন্দর ভবিষ‍্যতের স্বপ্ন। অথচ পেশা হারানো আজিনূরদের বুকের মধ‍্যে জেগে থাকে প‍রোপকারের মানবিক বোধ। আচ্ছাদন আর ভরসা পায় ব‍্যাধি বিধ্বস্ত , জাতপাত আর নাগরিক পঞ্জী। রাজনীতি নিয়ে ব‍্যস্ত নগ্ন ভারত মাতা।

Related Articles

Back to top button
Close