fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গ্রামবাসীদের করোনা আতঙ্কের জেরে বেঘোরে প্রাণ গেল কাটোয়ার জন্ডিস আক্রান্ত যুবকের

দিব্যেন্দু রায়, কাটোয়া: গ্রামবাসীদের করোনা আতঙ্কের জেরে বেঘোরে প্রাণ গেল কাটোয়ার জন্ডিস আক্রান্ত যুবকের ।

 

 

রাজস্থানের জয়পুরের একটি হোটেলে কাজ করতেন কাটোয়া থানা এলাকার মন্ডলহাটের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মন্ডল ওরফে সঞ্জু নামে বছর তেইশের ওই যুবক। সম্প্রতি সেখানে তিনি জণ্ডিসে আক্রান্ত হন । লক ডাউনের কারণে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছিল না । তাই তিনি ওই অবস্থাতেই বাড়ি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন । কোনও রকমে তিনি গ্রামেও চলে আসেন। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘপথ ভ্রমনের ফলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন বিশ্বজিৎ । গ্রামে ঢোকার পর তাঁর হাত-পা ফুলে যাওয়ার পাশাপাশি শুরু হয় শ্বাসকষ্ট । এই দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয় তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন । তাই প্রতিবেশীরা তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ । শেষে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ওই যুবককে বর্ধমানে পাঠানো হয় । শেষে সেখানে চিকিৎসারত অবস্থাতেই মৃত্যু হয় পরিযায়ী শ্রমিক বিশ্বজিৎ মন্ডলের ।

 

 

মৃতের পরিবারের দাবি, পাড়ার লোকজনদের সঙ্গে টানাপোড়েনের জেরে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বিলম্ব হওয়ার কারনেই বিশ্বজিতের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গ্রামবাসীদের অযথা করোনা আতঙ্কের জেরে এভাবে এক তরতাজা যুবকের প্রাণ চলে যাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। কাটোয়ার মহকুমাশাসক প্রশান্তরাজ শুক্ল বলেন, ” বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো। করোনা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়া অনুচিত। এ নিয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে।’

 

 

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কাটোয়ার মন্ডলহাটের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মন্ডল বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান । মাস ছয়েক আগে রাজস্থানের জয়পুরের একটি হোটেলে তিনি কাজে লাগেন । সেখানেই তিনি জন্ডিসে আক্রান্ত হন । কিন্তু লকডাউনের কারণে ঠিকমত চিকিৎসা হচ্ছিল না। তাই তিনি বাড়ি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

 

 

বিশ্বজিতের বাবা তপন মন্ডল বলেন, ‘গত শুক্রবার জয়পুরে ট্রেনে চাপে আমার ছেলে । ট্রেনে চাপার পর থেকেই ছেলের সঙ্গে ফোনে নিয়মিত কথা হচ্ছিল। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। তারা রবিবার নাগাদ দুর্গাপুর রেলস্টেশনে এসে নামে। সেখান থেকে কোনওভাবে বর্ধমানে আসে । তারপর কখনও টোটোয় চড়ে আবার কখনও বা পায়ে হেঁটে ওইদিন দুপুর নাগাদ মণ্ডলহাট এসে পৌঁছয় বিশ্বজিৎ। তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। পা হাত ফোলা ছিল । ফলে আর দাঁড়াতে পারছিল না। তারপর ছেলেকে কাটোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে রাজস্থানে চিকিৎসার কাগজপত্র দেখানোর হলে ছেলেকে হোম কোয়ারিন্টাইনে থাকতে বলা হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ফেরার পর বেশ কিছু প্রতিবেশী এসে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেন। তারপর কখনও থানা, কখনও পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে গিয়ে তদ্বির করি। কিন্তু ছেলেকে গ্রামের অন্য কোনও সরকারি গৃহে থাকতে দেওয়া হয়নি ।’

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানাপোড়েনের জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে বিশ্বজিৎ । এরপর পরিবারের লোকজন তাঁকে ফের কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন । অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমানে কেমরি কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত সোমবার ভোর রাতে মৃত্যু হয় ওই পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃতের বাবার তাপসবাবুর বলেন,’রবিবার বিকেলে আমার ছেলেকে কেমরিতে ভর্তি করার পর লালা রসের পরীক্ষা করা হয়। পরে হাসপাতাল থেকে জানানো হয় আমার ছেলের কোভিড নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে । করোনা নয় জন্ডিসের কারনেই আমার ছেলে মারা গেছে। চিকিৎসায় বিলম্ব না হলে হয়তো আমার ছেলেটা আজ বেঁচে থাকত।’

 

 

এদিকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। এনিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃতের পরিবারের লোকজন।

Related Articles

Back to top button
Close