fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

১০ পয়সা দিয়ে ভারতের মানচিত্র বানিয়ে রেকর্ড গড়ল দিনহাটার যুবক

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: ভারতের মানচিত্র বানিয়ে ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে জায়গা করে নিল দিনহাটার সীমান্ত গ্রামের সুদীপ সরকার। ১০ পয়সা দিয়ে ভারতের মানচিত্র তৈরি করে সে। গত ২৭ শে আগস্ট তিনি ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে আবেদন করেন। এক সপ্তাহের মাথায় সেখান থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়।

 

দিনহাটা দুই ব্লকের সীমান্ত গ্রাম চৌধুরীহাটে তার বাড়ি। দিনহাটা কলেজ থেকে স্নাতক হয় সে। বর্তমানে আইএস ও ডব্লিউ বিসিএস পরীক্ষার জন্য কলকাতায় থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। লকডাউনের দু’দিন আগেই চৌধুরীহাটের বাড়িতে আসে। লকডাউনের এই সময় কালে বাড়িতে বসেই তারি মানচিত্র বানান। সুদীপের এই সাফল্যে খুশি প্রতিবেশীদের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দারা। ১০ পয়সার ছোট কয়েন দিয়ে থার্মোকলের উপর পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ভারতের ম্যাপ তৈরি করে এই সম্মান অর্জন করল সুদীপ। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র হিসেবেই পরিচিত। চৌধুরীহাট হাই স্কুলে পড়াশুনা ছাড়াও দিনহাটা কলেজের পড়াশুনা করে।

 

সুদীপ জানায়, তিনশটি ১০ পয়সার ছোট কয়েন থার্মোকলের উপর বসিয়ে সেই মানচিত্র তৈরি করেছে। আর এই মানচিত্র তৈরি করতে বেশ কিছুদিন ধরেই সে পরিকল্পনা করছিল। তবে তা বানাতে খুবই অল্প সময় লেগেছে। ১০ পয়সার কয়েন দিয়ে মানচিত্রটি তৈরি করার পর সেটিকে আরও সুন্দর করে তুলতে মাঝখানে একটি এক টাকার কয়েন জুড়ে দিয়েছে। যেটা আরো মানচিত্রটি কে আরও সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে বলে দাবি সুদীপের। মানচিত্রটি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি দিল্লিতে ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে সাথে যোগাযোগ করেন। অনলাইনে তিনি তার মানচিত্র তুলে ধরে আবেদন করেন।

এর পরেই ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডস থেকে সুদীপের সাথে যোগাযোগ করা হয়। ১০ পয়সার কয়েন দিয়ে তৈরি তার সেই মানচিত্র যাচাইয়ের পর গত নয় সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে তার নাম নথিভুক্ত হয়। এই খবরে খুশি গোটা এলাকার বাসিন্দারা। সুদীপ জানায়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতেও নানারকম শিল্পকর্ম তিনি দেখেছেন। সেইসব শিল্পকর্ম একটু ভিন্ন ধরনের হলে তা রেকর্ড হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে। সেই থেকে সে পয়সা দিয়ে সবচেয়ে ছোট মানচিত্র তৈরি করার চেষ্টা করেন। এই মানচিত্র তৈরি করতে খরচ হয়েছে তার মাত্র ৩১ টাকা। ছোটবেলা থেকেই সে কখনো সর্ষের উপর আবার কখনো অন্যান্যভাবে ক্রিয়েটিভ জিনিস তৈরি করতে চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। সেই থেকেই তার এই ভাবনা। তবে সে যে এভাবে স্বীকৃতি পাবেন তা ভাবতেই পারছেন না। ভবিষ্যতে এ ধরনের নতুনত্ব আরো কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

সুদীপের বাবা বিষ্ণু গোবিন্দ সরকার পেশায় প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক। মা রিনা সরকার গৃহবধূ। দুই ভাইয়ের মধ্যে সুদীপ বড়। ছেলের এই সাফল্যে খুশি পরিবারের সকলে। সুদীপের বাবা বিশু গোবিন্দ সরকার বলেন, সুদীপ যদি ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যেতে চান তাহলে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন তারা। ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত পরিবারের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দারা ছাড়াও স্কুলের শিক্ষকরাও। চৌধুরীহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ সেবানন্দ মহারাজ বলেন, ছোটবেলা থেকেই ক্রিয়েটিভ জিনিস তৈরি করতে ভালবাসে সুদীপ। পয়সা দিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট ভারতের মানচিত্র তৈরি করে ইন্টারন্যাশনাল বুক অব রেকর্ডসে সুদীপ যেভাবে নাম তুলেছে তাতে গর্বিত আমরা

Related Articles

Back to top button
Close