fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফুটবল নয়, জীবনের ময়দানে এবার ত্রাণ নিয়ে হাজির বিশ্বরেকর্ডধারী মনোজও

শান্তনু অধিকারী, সবং : তিনি ফুটবল জাগলার। জাগলিংয়ে তাঁর বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেসও। এছাড়াও একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তিনি পাঁশকুড়ার তিলাগেড়্যা গ্রামের বাসিন্দা মনোজ মিশ্র। নিজের প্রতিভায় ফুটবলকে করেছেন বশ। এবার এই লকডাউনের বাজারে অভুক্ত মানুষের ক্ষুধাকে বশ করতে তিনি নেমেছেন জীবনের ময়দানে। নিজের সঞ্চিত অর্থে অসহায়, দুঃস্থ অভুক্ত মানুষের হাতে তুলে দিলেন সাধ্যমতো খাদ্যসামগ্রী।

সারাজীবন তিনি নিজেই অনটনের সঙ্গে পথ হেঁটেছেন। স্বপ্ন ছিল ফুটবলার হবেন। কিন্তু জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে সে স্বপ্ন ভেঙেছে অচিরেই। পেটের দায়ে আঁকড়ে ধরেছেন ফুটবল জাগলিং। এখন এটাই তাঁর উপার্জনের একমাত্র উৎস। লকডাউনের জেরে সেই উপার্জনের রাস্তাটিও এখন বন্ধ। নিজেই পরিবার পরিছনদের নিয়ে রয়েছেন সংকটে। তবুও কীসের টানে এমন মানবিক উদ্যোগ? মনোজ জানালেন, ‘অভুক্ত থাকার যন্ত্রণা আমি জানি। এই লকডাউনের সময়ে গ্রামের মানুষের দুর্দশা দেখে তাই আর স্থির থাকতে পারিনি। নিজের সামান্য উপার্জনের অর্থ বাঁচিয়ে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি তাঁদের পাশে দাঁড়াতে।’ মনোজের দেওয়া খাদ্যসামগ্রী পেয়ে খুশি তিলাগেড়্যার মাতি হাঁসদা, বাবলু সরেন, বাহাদুর সরেনরা বললেন, ‘খুব বিপদের মধ্যেই ছিলাম। মনোজ পাশে দাঁড়ানোয় দিন কয়েকের খাওয়ার বন্দোবস্ত হল।’

অবশ্য মনোজের এমন উদ্যোগ এই প্রথম নয়। দীর্ঘদিন ধরে নিজের গ্রাম-সহ আসেপাশের প্রায় ৭০-৮০জন বাচ্চাকে নিখরচায় শেখাচ্ছেন ফুটবল। শুধু নিখরচায় শেখানোই নয়, নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে তাদের প্রত্যেককে কিনে দিয়েছেন জার্সি ও বুট। নিজের উদ্যোগে স্থাপন করেছেন একটি স্পোর্টিং ক্লাবও। নিজের খেলোয়াড় হতে না পারার আক্ষেপ মেটাচ্ছেন ছোটদের ফুটবল শিখিয়ে। মনোজ চান, এই ছোটরা আগামীদিনে শুধু ফুটবলার নয়, তাঁরই মতো হয়ে উঠুক জীবনযুদ্ধের লড়াকু সৈনিক। ছোটদের ফুটবলে প্রথাগত তালিম দিতে আইএফএ থেকে কোচিংয়ের ছাড়পত্রও জোগাড় করে এনেছেন মনোজ।

বাড়িতে সদস্যসংখ্যা ছয়। তাঁর একার অনিশ্চিত রোজগারের ওপরেই নির্ভরশীল সকলে। অভাবের অন্ধকারে আজও প্রতিনিয়ত হোঁচট খান মনোজ। তবু স্বভাবে আজও তিনি ফুটবলার। প্রতিকুলতার পাহাড় ডিঙিয়ে বিরুদ্ধতার তেকাঠিতে আজও তিনি গোল দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এরই মধ্যে করে ফেলেছেন বারো ঘণ্টা একনাগাড়ে মাথায় বল রাখার বিশ্বরেকর্ড। রয়েছে তিন ঘণ্টায় কুড়ি হাজারবার জাগলিংয়ের রেকর্ডও। একটি সরু কাঠির ওপরে লাট্টুর মতো বল ঘোরাতে পারেন অনায়াসে। সেইভাবে নিজের সীমিত সামর্থ্যের ওপরে এলাকার মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পারেন কিনা, নিজেই নিজের পরীক্ষা নিতে আজ জীবনের ময়দানে নেমেছেন বছর পঁয়ত্রিশের বিশ্বরেকর্ড জয়ী মনোজ মিশ্র।

Related Articles

Back to top button
Close