fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

‘বাংলার একটা অধ্যায় সমাপ্ত হল’, সোমেন মিত্রের প্রয়াণে শোকাহত অধীর চৌধুরী

ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল: মহম্মদ সেলিম

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার রাজনীতিতে ইন্দ্রপতন, প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। বুধবার গভীর রাতে বেলভিউ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর প্রয়াণে বাংলার রাজনীতিতে একটা অধ্যায়ের সমাপন হল। তাঁর মৃত্যুতে প্রদেশ কংগ্রেস-সহ বাংলার রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমেছে।

সোমেন মিত্রের প্রয়াণে শোকাহত লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী। ‘বাংলায় আরও এক অধ্যায় সমাপ্ত হল।’ সহকর্মীর প্রয়াণে বললেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ। সোমেন মিত্রের মৃত্যুতে শোকাহত কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সোমেন মিত্র আর নেই এটা ভাবতে পারছিনা। বাংলার একটা অধ্যায় সমাপ্ত হল। সংগ্রাম করে, প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমার রাজনৈতিক অভিভাবক ছিলেন। আমাকে জনপ্রতিনিধি করার মূল কারিগর সোমেনদা কে হারিয়ে আমি দুঃখে কাতর ও বেদনাহত হলাম।’

১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন সোমেন্দ্রনাথ মিত্র। কিন্তু সোমেন মিত্র নামেই পরিচিত ছিলেন সকলের প্রিয় ‘ছোড়দা’। ১৯৭২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিয়ালদহ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে ছিলেন কংগ্রেস নেতা। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে দিয়ে প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস নামে নতুন দল গঠন করেন। ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই বছরই লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে জেতেন তিনি। ২০১৪ সালে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কংগ্রেসে ফিরে আসেন। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় বার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন।শেষ হল এক অধ্যায়ের, প্রিয় ‘ছোড়দা’কে হারাল কংগ্রেস।

আরও পড়ুন: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত সোমেন মিত্র, শোকস্তব্ধ রাজনীতি মহল

কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বললেন, “আমি ভাবতেই পারছি না সোমেন মিত্র নেই। এই সেদিনও আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। সোমেন মিত্রের কোনও শক্রু ছিল না। বাংলার রাজনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে।”

একসময় সিপিএমের তীব্র বিরোধী ছিলেন সোমেন। আবার পরে তাঁর নেতৃত্বেই পোক্ত হয় বাম-কংগ্রেস জোট। সেই সোমেন সম্পর্কে সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বললেন,”ছোটবেলা থেকে রাজ্যের যে ক’জন রাজনৈতিক নেতার নাম শুনেছি, তার মধ্যে অন্যতম সোমেন মিত্র। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেও শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। পরে বাম-কংগ্রেস বন্ধুত্বের পর থেকে আরও কাছাকাছি এসেছিলাম। সকালে উঠে খবরটা শুনে অত্যন্ত ব্যথা অনুভব করছি। পরিবাররে সকলের প্রতি সমবেদনা রইল।”খবর পাওয়ার পরই বৃহস্পতিবার সকালে বেলভিউ হাসপাতালে ছুটে যান প্রাক্তন সিপিআই নেতা সমীর পুততুণ্ড। তিনি বলেন, “রাজনীতির জগতে যে কত বড় ক্ষতি হল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা আমাদের এক সহকর্মী, যোদ্ধাকে হারালাম।”

Related Articles

Back to top button
Close