fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

রাজ্যে আত্মঘাতী প্রথম করোনা রোগী, এনআরএসের ওয়ার্ড শৌচালয়ে দেহ উদ্ধার যুবকের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: রক্তের সমস্যায় নিয়মিত চিকিৎসা করাতে এসে করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন এক যুবক। এনআরএসের তিন তলার করোনা ওয়ার্ডেই ভর্তি করে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু রবিবার সকালে হাসপাতালেরই শৌচালয় থেকে উদ্ধার হল কাকদ্বীপের বাসিন্দা রাজকুমার বেরা (৩৮) নামে ওই যুবকের দেহ। কি ভাবে সকলের চোখ এড়িয়ে ওই যুবক আত্মহত্যা করলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এটি গোটা রাজ্যের প্রথম করোনা রোগী আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা বলে দাবি চিকিৎসকদের।

প্রসঙ্গত, এনআরএস হাসপাতালের চেস্ট বিল্ডিংকে পরিবর্তিত করে গত ১৯ আগস্ট থেকে চলছে করোনা রোগীদের চিকিৎসা। বিশেষ নজরদারিতে চিকিৎসার পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে পুষ্টিকর খাবারও। তবে এর মধ্যে কয়েক জনের মৃত্যুও ঘটছে। এনআরএস হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে আসতেন রাজকুমার।পরে তিনি করোনা আক্রান্ত হন। তখন করোনা চিকিৎসার জন্য ২ সেপ্টেম্বর তাঁকে কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে করোনা রোগীদের নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন তিনি।

আরও পড়ুন: কাউকে ভালোবাসা যদি অপরাধ হয় তবে গ্ৰেফতার হতে প্রস্তুত রিয়া, জানালেন আইনজীবী

হাসপাতাল সূত্রে খবর, শনিবার রাত পর্যন্ত কোনও সমস্যা হয়নি। রবিবার সকালে ওয়ার্ড পরিষ্কার করতে এসে বিষয়টি নজরে পড়ে হাসপাতালের কর্মীদের। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। মৃতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত মাসে ৮ অগস্ট কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক করোনা আক্রান্ত রোগী আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাসিন্দা ওই তরুণী ফুসফুসে সংক্রমণ নিয়ে আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন। সেই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে এনে ভর্তি করানো হলে কোভিড ওয়ার্ডের জানলার কাঁচ অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে ভেঙে চার তলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই করোনা রোগী। যদিও স্বাস্থ্যকর্মীর আগেই দেখে ফেলে তাকে ধরে ফেলেন। তবে এ ক্ষেত্রে রোগী কখন বাথরুমে যাওয়ার নাম করে আত্মহত্যা করলেন, তা জানতে পারা যায় নি।

Related Articles

Back to top button
Close