fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কাউন্সিলর করোনা সঙ্কটে অন্নহীন মা’কে নিদান দিলেন “প্ল্যাটফর্মে ভিক্ষা করুন”

ধৃমল দত্ত, বারাকপুর: কাঁধে একটা কাপড়ের ঝোলা। ৭০ বছরের প্রবীণা ধুঁকতে ধুঁকতে গিয়ে পানিহাটি পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয় প্রাক্তন কাউন্সিলর আশীষ দেবরায়ের পায়ে পড়ে ছিলেন। ক্লান্ত শরীর নিয়ে বলেছিলেন “বাবা আমায় একটু চাল দাও, একটু ডাল দাও, আমার কেউ নেই, আমি কয়েকদিন ধরে না খেয়ে আছি”।

আত্মহংকারী কাউন্সিলর আশীষ দেবরায় মন গলেনি ওই প্রবীণার করুণ আর্তিতে। আশীষ দেবরায় ক্ষিপ্ত হয়ে, তার মাতৃসম ওই প্রবীণা পুর্নিমা ব্যানার্জীকে, পত্রপাঠ পার্টি অফিস থেকে বেরিয়ে গিয়ে, প্ল্যাটফর্মে ভিক্ষা করার নিদান দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ আশীষ দেবরায়ের মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে ছিলেন, হয়তো তার মনে পড়েছিল আপনজনদের কথা আজ সব থাকতেও কেউ নেই তার। আশীষ দেবরায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে শুনতে হয়েছিল ধমকের সুরে কটুক্তি। অথচ পার্টি-অফিসে চাল- ডাল-আলু ভর্তি রয়েছে।

এই করোনা মহামারির সময়ে মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত মানুষকে বিনা পয়সায় রেশন দেওয়ার কথা বলেছেন। ওই প্রবীণার রেশন কার্ড আছে। কিন্তু কাউন্সিলর আশীষ দেবরায় তাকে বলে, তার রেশন কার্ড নাকি বাতিল হয়ে গেছে। কাউন্সিলরের অফিস থেকে বিতাড়িত হয়ে এসে রিক্ত-অবসন্ন শরীর নিয়ে ভাড়া বাড়ির এক চিলতে ঘরে, ভাঙ্গা চৌকিতে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। যে ঘরে থাকেন, সেই ঘরে দিনের বেলায় উঁকি মারে সূর্য, রাতের বেলায় চাঁদ-তারা।

এই অসহায় মহিলা লকডাউন-এর আগে লোকের বাড়িতে ঠিকে-ঝি এর কাজ করে কোনো রকমে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করতেন। লকডাউন শুরু হওয়ায় এখন আর কাজের বাড়িতে তাকে কাজ করতে দিচ্ছে না, তাই নিরুপায় হয়েই ছুটে গিয়েছিলেন কাউন্সিলরের দরজায়। কিন্তু কাউন্সিলর তাকে তাড়িয়ে ছিলেন পার্টি অফিস থেকে।

এই প্রবীণা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘মমতা দিদি’ বলে সম্বোধন করে, তাকে বাঁচানোর জন্য করুণ আবেদন করেছেন। পানিহাটি পৌরসভা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আশীষ দেবরায় ‘সেই’ অসহায় মা’কেই চরম অপমান করে লাঞ্ছিত করে, প্ল্যাটফর্মে ভিক্ষা করার নির্দেশ দিলেন। এই অসহায় মহিলা পানিহাটি পৌরসভা ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের একজন ভোটারও বটে। তার জীর্ণ শরীর দেখলেই বোঝা যায়, গোটা শরীরে বাসা বেঁধেছে নানান রোগ, বিধ্বস্ত গোটা শরীর!

হয়তো বা আর কয়েকটা দিন বেঁচে থাকবেন। তিনি অভুক্ত হয়ে রক্তাল্পতায় ভুগছেন। সারা শরীর ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে, সমস্ত দাঁত পড়েছে, ভেঙেছে গাল, তবুও এই রুগ্ন শরীরটা জানান দিচ্ছে… “আমি ‘মা’…..“দিদির মা-মাটি-মানুষের মা” হয়তো বা কয়েকদিন বেঁচে থাকবেন, কিন্তু বিদায় লগ্নেও কি ভুলতে পারবেন আশীষ দেবরায়ের নিদান ?

আগুনের লেলিহান শিখায় শীর্ণ-রিক্ত শরীর যখন লীন হয়ে যাবে, তখনও কি ভুলতে পারবেন….. “যান প্ল্যাটফর্মে গিয়ে ভিক্ষা করুন”

এই কি মানব সভ্যতা!!
এই কি মানবিক মূল্যবোধ!!
যাওয়ার বেলায় রেখে যাবেন তার ‘কাপড়ের ঝোলা’ নিয়ে যাবেন ‘একরাশ ক্ষোভ’, যন্ত্রণা, ‘ব্যথা-বেদনা’!!

এ রাজ্যে এমনকি কোনো মানুষ নেই, এই অসহায় মহিলাটি, আর যে কটা দিন বাঁচবে অন্তত দুটো ডাল ভাত খেয়ে, আশীষ দেবরায়দের মতন স্বার্থান্বেষী মানুষদের কটু কথা থেকে মুক্তি পাবে।

Related Articles

Back to top button
Close