fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বর্ষায় জলদি হাইব্রিড ফুলকপির ফলন

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্গাপুজোর সময় বাজারে ফুলকপির দেখা মেলে, যদিও আমরা জানি ফুলকপি মূলত শীতকালীন ফসল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন চাষী লাভের আশায় জলদি হাইব্রিড ফুলকপির চাষ করে থাকেন। ১৮২২ সালে ইংল্যান্ডের এই সবজির সঙ্গে ভারতীয়দের পরিচয় ঘটে। সেই সময় ইংল্যান্ড থেকে বীজ এনে ভারতে এই ফসলের চাষ শুরু হয়। পরবর্তীতে নিজের দেশেই ভারতীয়রা এই ফসলের বীজ থেকে চারা তৈরি করে প্রায় ১২ মাসই বাজারের চাহিদা মেটাচ্ছেন।

 

শ্রাবণ মাসের শেষে অর্থাৎ আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এই জলদি হাইব্রিড ফুলকপির চাষ করা হয়। এই চাষের খরচ ১৫-২০ হাজার টাকা। দুর্গাপুজোর সময় থেকে কালীপুজো পর্যন্ত এই ফুলকপির বাজার মূল্য থাকে ২৫-২৮ টাকা (প্রতি পিসে)। তাই চাষীভাইদের বক্তব্য, এক বিঘে জমিতে যখন ৫-৬ হাজার চারা লাগানো যায়, তখন পিস প্রতি ১০ টাকা করে পেলেও ৫০-৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। অর্থাৎ ৩০-৪০ হাজার টাকা লাভ থাকে। উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ওড়িশা, পঞ্জাব ও বিহারে ফুলকপির ফলন অধিক। এবার এই হাইব্রিড ফুলকপি চাষের পদ্ধতি সম্বন্ধে একটু জেনে নেওয়া যাক। সরকারি আনুকূল্যে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায চাষীভাইরা নানা রকমের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। তেমনই এক প্রকল্প আত্মপ্রকল্প।

পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের র নং ব্লকের এক চাষীভাই এই আত্মপ্রকল্পের অন্তর্গত হযে ১০০৮ জাতের জলদি ফুলকপির চাষ করছেন। তিনি ১ বিঘের জমির উপর এই চাষ করছেন। এক বিঘে জমিতে ৪০-৫০ গ্রাম দানা ফেলা হয়। যখন দানা ফেলা হবে তখন যদি খুব বর্ষা চলে তাহলে শেডনেট দিযে ঢেকে দিতে হবে। বৃষ্টি না পড়লে নেটটি খুলে দিতে হবে। দানা ফেলার ২৫ দিনের মাথায় চারা উঠে যায়। তারপর সেই চারা পুনরায় জমিতে রোপন করতে হবে। যে জমিতে ফুলকপির চাষ করা হবে সেই জমিতে যদি আগে অন্য কিছুর চাষ হয়ে থাকে তাহলে তা ভালো ভাবে তুলে, মাটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে নিয়ে ৩-৪টি চাষ দিতে হবে। এই সময় জৈবসার হিসাবে বাদামখোল ও গোবর সার এবং রাসায়নিক রাস হিসাবে ২৫ কেজি ডিএপি ও ১৭.৫ কেজি পটাশ ভালো করে মিশিয়ে মই দিয়ে নিতে হবে। জমি তৈরি হলে পরে ফুলকপির চারাগুলো বপন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সারি থেকে সারি এবং চারা থেকে চারা ১৮ ইঞ্চি দূরত্ব বসাতে হবে। চারা একটু বড় হলে পুনরায় বিঘা প্রতি ২৫ কেজি ডিএপি, ১৭.৫ কেজি পটাশ ও ৮ কেজি ইউরিয়া চাপান সার হিসাবে দিতে হবে।

 

এই জলদি চাষে সঠিক হারে দুবার চাপান সার দেওয়া জরুরী। জলদি জাতের এই ফুলকপি যেহেতু বর্ষাকালে চাষ করা হয় তাই খুব একটা সেচ দিতে হয় না। তবে পোকা ধরা এবং গোড়াপঁচা রোগের সম্ভাবনা থাকে। তাই খেয়াল রাখতে হয় যে গাছের গোড়ায় জল না জমে। অর্থাৎ জমির জলনিকাশি ব্যবস্থা ভালো রাখতে হবে। গাছগুলি একটু বড় হলে প্রথম চাপান সার দেওযার পরে রাসায়নিক ছত্রাকনাশক হিসাবে প্রতি লিটার জলে ১ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম গুলে স্প্রে করলে পোকা-মাকড়ের উপদ্রবকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অন্যদিকে কীটনাশক হিসাবে ১০ হাজার পিপিএম, ২-৩ মিলিলিটার নিমতেল প্রতি লিটার জলে গুলে প্রয়োগ করলেও কাজ দেয়। তবে সঠিক পরিমাণ সার ও পরিচর্যা পেলে হাইব্রিড ফুলকপির ফলন ভালো হয়। জমির আগাছা নিড়ানি করে তুলে ফেলতে হবে। চারা লাগানোর ৬০-৭০ দিনের মাথায় ফুলকপি বাজারজাত করার মতো হয়ে যায়। মনে রাখতে হবে এই ফুলকপির জন্য রাতে ১০ ডিগ্রি এবং দিনে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা থাকা প্রযোজন।

Related Articles

Back to top button
Close