fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাজারের চাহিদা মেটাতে উন্নত মানের পেঁপে চাষ 

নিজস্ব প্রতিনিধি: এখন সারা বছর বাঙালির পাতে প্রায় সবরকম সবজি এবং ফল পড়ে। তবু বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে জমি তৈরি করে চাষ পদ্ধতি শুরু করতে হয়। বারোমাসের নানা সবজির মধ্যে পেঁপে অন্যতম। পাঁকা পেঁপের থেকে কাঁচা পেঁপের বাজার বেশি।

পশ্চিমবঙ্গে আমের পরে সব থেকে বেশি চাষ হয় পেঁপের। এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরল, অসম, ওড়িশা, কর্ণাটকেও এর চাষ হয়। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭৫৪০ হেক্টর জমিতে পেঁপের ফলন হয়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ, জুন-জুলাই, অক্টোবর-নভেম্বর-বছরের এই তিন সময়ে এই ফলের জন্য জমি তৈরি করে চাষ শুরু করা যায়। পেঁপে চাষের জন্য প্রথমেই বীজ নিযে শোধন করে ঝাঁঝরি দিযে জল দিযে মাটিতে বা প্যাকেটেও বীজ পোঁতা যেতে পারে। এইভাবেই যত্ন করে বীজ থেকে চারাগাছ তৈরি করে নিতে হবে। যে জমিতে পেঁপের চাষ হবে সেটিকে লাঙলের সাহায্যে কিছুদিন চাষ করে নিয়ে চুন দিয়ে জল দিতে হবে।

                                      আরও পড়ুন: ম্যারিগোল্ড বা গাঁদা ফুলের চাষ

তারপর দু’বস্তা সরষের খোল দিয়ে পুনরায় জমিটিকে চাষ করে নিতে হবে। এরপর ওই মাটিতে ছ ফুট দূরত্বে ড্রেন কেটে নিয়ে,  ড্রেনের পাশ দিয়ে পেঁপের চারাগুলি বসাতে হবে। এভাবে বিঘা প্রতি ৪০০টি গাছ বসানো সম্ভব। চারাগাছগুলি দেড়ফুট-দু’ফুট হলে কুঁড়ি বেরোতে শুরু করে।  তখন ভালো করে দেখে ভালো জাতের পেঁপেগাছগুলি রেখে অন্যগুলি কেটে দিলে ফলন ভালো হয়। এছাড়াও যদি পাশাপাশি দুটি পুরুষ গাছ থাকে তাহলে একটি গাছ কেটে দেওয়া উচিত।

                                          আরও পড়ুন: বর্ষায় আমন ধানের চাষ

মনে রাখতে হবে প্রতি ১০ স্ত্রী পেঁপে গাছ পিছু একটি পুরুষ গাছ লাগাতে হবে। প্রতি বিঘায়ˆ ৪০টি পুরুষ গাছ লাগাতে হবে। এই সময় প্রযোজনে সার দিতে হবে। প্রথম সপ্তাহে ১০ কেজি মতন, দ্বিতীয় সপ্তাহে ২০ কেজি এবং একমাস পর এক বস্তা সুফলা কিংবা অন্য সার দেওয়া যেতে পারে। এরপর সব গাছে কুঁড়ি এসে গেলে, সমস্ত পুরুষগাছগুলিকে কেটে ফেলতে হবে।

এরপর প্রতি গাছের গোড়ায় গোল করে সার দিয়ে মাটি দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে পেঁপেগাছের গোড়ায় যেন জল না জমে। এই ফলনে কিন্তু ভারি সেচের প্রয়োজন হয় না। প্রযোজন হলে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। মাঘ-ফাল্গুনে চারা বসালে শ্রাবণের শেষ থেকে পেঁপে ভাঙা যায় এবং তখন পেঁপের দাম পাওয়া যায় ১০-১৫ টাকা পেঁপে প্রতি। পরের বছর সেই দাম বেরে ২০-২৫ টাকা হয়।  প্রতি বিঘায় প্রায় ৬-৭ কুইন্টাল পেঁপে উৎপাদন হয়।

 

এই চাষে বিঘা প্রতি প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা খরচা হয়। দ্বিতীয বছরে ১০,০০০ টাকার বেশি খরচ হয় না এবং বিঘা প্রতি প্রায় ৫০-৬০ কুইন্টাল ফলন হবে তাতে করে বিঘা প্রতি প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা চাষিরা লাভ করতে পারবেন। সব থেকে বড় কথা এক বছর জমি তৈরি করে এই চাষ করলে পরপর তিনবছর এই ফলন হয়। সাধারণত ঝড়-বৃষ্টি না হলে এই ফলনে কোনও ক্ষতি নেই।

Related Articles

Back to top button
Close