fbpx
অন্যান্যলাইফস্টাইলহেডলাইন

করোনাকালে ডায়াবেটিক ডায়েট

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: আজ করোনা অতিমারি রূপে চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল , হাইপারটেনশন, ক্রনিক হাৰ্ট ডিজিজের মতো লাইফস্টাইল ডিজিজকে ক্লিনচিট দিয়ে গেছে এমনটা নয়৷ এগুলিও সমানতালে আছে৷ আর প্ৰতিদিনই বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগী ও তদ্বজনিত রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে৷ ভারত তো কবেই ডায়াবেটিক ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়াৰ্ল্ড হয়ে উঠেছে৷ ডায়াবেটিক রোগীদের কাছে একটি গুরুত্বপূৰ্ণ পথ্য হল ডায়েট৷

এখন ডায়াবেটিসের ডায়েট নিয়ে অনেক ধারণাই প্ৰচলিত আছে যেগুলির কোনও ভিত্তি নেই, বা পুরনো বহু ধারণাই বদলে গেছে৷ কেমন হওয়া উচিত ডায়াবেটিকদের ডায়েট আর কোন কোন পুরনো ধারণা বদলে কী কী নতুন চিন্তা এসছে, তাই নিয়েই আলোচনা করলেন আমরি-র পুষ্টিবিদ সুচন্দা চট্টোপাধ্যায়৷ শুনলেন দোয়েল দত্ত৷

ডায়াবেটিক ডায়েট বলে আলাদা করে সেই অৰ্থে কোনও ডায়েট হয় না৷ যেটা আমাদের প্ৰাথমিক স্বাস্থ্যকর ভারতীয় ব্যালান্সড ডায়েট যেমন ভাত, ডাল, তরকারি, মাছ (যারা নিরামিশ খায় তাদের জন্য পনির বা সয়াবিন), দই, চাটনি এর থেকেই ডায়াবেটিকদের জন্য চাটনিটা বাদ দিতে হবে যেহেতু এর মধ্যে চিনি আছে৷ আর দইটা অবশ্যই টকদই খেতে হবে৷ আসলে ভারতীয় খাবারের মূলটাই কার্বোহাইড্ৰেটভিত্তিক, হতে পারে ভাত বা রুটি, কিংবা জোয়ার, বাজরা কিংবা অন্যান্য কোনও সিরিয়াল৷ এটাকেই একটু মডিফাই করে নিতে হবে৷ তবে অবশ্যই রোগীর অবস্থা বুঝে৷ কোনও ডায়াবেটিক রোগীর যদি দুপুরে ১৫০ গ্ৰাম চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস থাকে ও তাকে যদি বলা হয় কাল থেকে ৫০ গ্ৰাম চালের ভাত খাবেন তাহলে সেটা তার পক্ষে মেনে নেওয়া একটু কষ্টকর হবে৷ আর ডায়াবেটিসের সঙ্গে অবসাদের একটা সম্পৰ্ক আছে৷

এমনিতেই ডায়াবেটিসের রোগীরা অবসাদে ভুগতে থাকে৷ কাজেই একধাক্কায় ১৫০ গ্ৰাম থেকে কাউকে যদি ৫০ গ্ৰামের ভাতে নামিয়ে আনা হয়, তাহলে সৰ্বক্ষণ তার মনে হবে কিছুই খাওয়া হল না৷ ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েট পরিকল্পনার সময়ে বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে–

১ আমাদের মূল খাবারটাই কার্বোহাইড্ৰেটভিত্তিক৷ সুতরাং একজন ডায়াবেটিক রোগী সারাদিনে কতটা কার্বোহাইড্ৰেট ইনটেক করছে তার উপরে ভিত্তি করেই হিসেব করতে হবে তার কার্বোহাইড্ৰেট-এর পরিমাণ কতটা কমাতে হবে৷

২. ডায়াবেটিস নিয়ে একটা চিরাচরিত ধারণা ছিল রাত্ৰে ভাতের বদলে রুটি খেতে হবে, কোনওমতেই ভাত খাওয়া চলবে না৷ কিন্তু আদতে রুটি আর ভাতে একই পরিমাণ ক্যালোরি আছে৷ যাকে রুটি খেতে বলা হচ্ছে, সে হয়তো কোনওদিনই রুটি খায়নি, কিংবা রুটি সহ্য হয় না, সেখান থেকে ডায়ারিয়া ধরে গেল৷ ফলে আবার তাকে ভাতেই ফিরে আসতে হল৷ ৫০ গ্ৰাম আটার রুটির বদলে ৫০ গ্ৰাম চালের ভাত খেতে হবে সেক্ষেত্ৰে৷ এবং শুধুমাত্ৰ কার্বোহাইড্ৰেট খেলে হবে না৷ এতে তাড়াতাড়ি পেট খালি হয়ে যাবে৷ পেট ভৰ্তি রাখতে এর সঙ্গে প্ৰোটিন হিসাবে ডাল, মাছ, ছোলা ইত্যাদিও রাখতে হবে৷

৩. এছাড়াও আগেকার দিনে একটা ধারণা ছিল ডায়াবেটিস হয়েছে মানেই রোগীর খাওয়া-দাওয়ার উপর প্ৰচুর নিষেধাজ্ঞা৷ অনেককিছুই খাওয়া যাবে না৷ আগে তো আলু, আম, আনারস, কাঁঠাল ডায়াবেটিস রোগীরা স্পৰ্শ করতে পারত না৷ কিন্তু এখন ধারণা পালটেছে৷ এখন আমরা বলি সবই খাওয়া যাবে তবে পরিমাণে কম৷ একসঙ্গে অনেকটা খেয়ে ফেললে সমস্যা৷ ধরা যাক কোনও রোগী এসছে প্ৰচণ্ড ওবেস, কিন্তু তাঁর রক্তশৰ্করা নিয়ন্ত্ৰণে আছে, ওষুধও শুরু হয়নি, সেক্ষেত্ৰে কিন্তু খাবারের উপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতেই হবে৷ সাধারণত কার্বোহাইড্ৰেট কমিয়ে আলু বা অন্যান্য সবজি দিয়ে সেটাকে পূরণ করা হয়৷ কিন্তু রোগী ওবেস হলে আলুর পরিমাণ কমিয়ে ভাত বা রুটি সামান্য বাড়িয়ে পুরোটায় ভারসাম্য রাখতে হবে৷

৪. অনেকসময়ে আমাদের কাছে এমন রোগী আসে যারা ডায়াবেটিক হওয়ার পাশপাশি প্ৰচণ্ড অপুষ্টিতে ভুগছে৷ তখন কিন্তু আলু বা অন্যান্য কিছু বাদ দেব এমনটা ভাবলে চলবে না৷ তার শরীরে পুষ্টি প্ৰায় নেই-ই৷ তাকে বেশি বেশি করে ক্যালোরি দিতে হবে৷  সাধারণত বলা হয় আলু, কলা কম খেয়ে ডায়াবেটিক রোগীদের অন্যান্য সবজি ও ফল বেশি খেতে৷ কিন্তু বাঙালিদের সমস্যা হল তারা গড়ে খুব বেশি ফল খেতে চায় না৷ কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য দিনে একটা করে ফল অন্তত খাওয়া দরকার৷

৫. অনেকের অভ্যাস আছে প্ৰাতঃরাশ খুব বেশি করে খেয়ে দুপুরের খাওয়াটা বাদ দিল আবার রাত্ৰে গোগ্ৰাসে গিলল৷ এটা শরীরের জন্য আদৌ উপকারী নয়৷ সারাদিনের খাবারকে কম কম করে পাঁচটা বা ছয়টা মিলে ভাগ করতে হবে৷ প্ৰাতঃরাশে রুটি-তরকারি, ডিমের সাদা অংশ, রুটি-ছানা-ডিমসেদ্ধ চলতে পারে৷ লাঞ্চে ভাত, ডাল, তরকারি, মাছ, দই, রাত্ৰে রুটি, ডাল, সবজি৷ মাঝখানে স্ন্যাক্স হিসাবে বিস্কুট, ফল।

৬. অনেকেই জানতে চান ডায়াবেটিস রোগরা মিষ্টি খেতে পারবেন কি না৷ মাসে একটা বা কোনও অনুষ্ঠানে গিয়ে এক-আধটা খাওয়াই যায়৷ সেখানে তিন-চাররকমের মিষ্টি থাকলে সেখান থেকে একটা খেলে কোনও ক্ষতি নেই৷ তবে খালিপেটে খাবেন না৷ এতে সুগার লেভেল হু হু করে বেড়ে যাবে৷ তবে ডায়াবেটিক রোগীরা কতটা মিষ্টি খাবে সেটা তাদের অবস্থা বুঝে বলা হয়৷

৭.  বেশ কয়েকবছর ধরে জনপ্ৰিয় ডায়াবেটিক সন্দেশ ও সুগার ফ্ৰি৷ বলা হয় এগুলি কৃত্ৰিম সুইটনার দিয়ে তৈরি হয়৷ কিন্তু আমরা জানি না এগুলি আদতে কী দিয়ে তৈরি হয়৷ তাতে স্যাকারিনের মতো সুইটনার থাকলে সেটা খুবই খারাপ৷ তবে এখন ক্রমশ জনপ্ৰিয় হচ্ছে প্ৰাকৃতিক সুইটনার সিভিয়া, এটা অন্যান্য সুইটনারের থেকে নিরাপদও৷

মনে রাখুন

ডায়াবেটিস রোগীদের কখনওই অতিরিক্ত চিনি খাওয়া উচিত নয়৷

সারাদিনের রান্না ৪-৫ চা চামচ তেলে করতে হবে৷ তবে কেউ যদি অপুষ্টিতে ভোগে, তাহলে তার পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে ছয়চামচ পৰ্যন্ত তেল ব্যবহার করা যেতেই পারে৷

চিরাচরিত ভারতীয় ব্যালান্সড ডায়েট ফলো করতে হবে৷

কারওর যদি ডায়াবেটিসের সঙ্গে থাকে কো মরবিড ইলনেস যেমন হাইপারটেনশন থাকলে নুন কম খেতে হবে, হাৰ্টের সমস্যা হলে ফ্যাট নিয়ন্ত্ৰিত করতে হবে, কোলেস্টেরল  থাকলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও অ্যানিমেল ফ্যাটের মাত্ৰা কমাতে হবে৷

দোকানের খাবার বাদ দিতে হবে৷ লকডাউনে আমরা অনেকেই বুঝতে পেরেছি বাড়ির স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার উপকারিতা৷ বাইরে যে খাবার খাই, ওই একই রান্না বাড়িতে রান্না করলে তার থেকে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়৷ বাড়ির খাবার খেয়ে অনেকেরই এসময়ে ওজন কমছে৷ ফলে ওজন কমানোর চাবিকাঠি কিন্তু আপনারই হাতে৷

যোগাযোগ: ৯৮৩০৯৫৬৮৮৯

Related Articles

Back to top button
Close