fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মাত্র ৩৬-এই প্রয়াত জনদরদী ‘ডাক্তারবাবু’, চোখের জলে বিদায় পিংলাবাসীর

  1. তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর : মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুরেন্দ্র কুমার বেরা আর ফিরবেন না। আর কোনও শনিবার পিংলার জলচক কিংবা মালিগ্রামে বসবেন না ডাক্তারবাবু। ‘থাকলে দাও, না থাকলে দিওনা। অন্য কোনও দিন দিও।’ এই বাজারেও মাত্র ১০০ টাকা ভিজিট নিতেন তিনি সেটাও ছেড়ে দিতে হত অনেককেই।

উল্টে কাউকে কাউকে দিতেন কোম্পানীর স্যাম্পল, এমন কি ওষুধ কেনার টাকা। লক ডাউনেও চেম্বার থামেনি। শেষ চেম্বার করেছিললে ২১দিন আগে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা থানার জলচকের পশ্চিমচকের কৃতি তিনি । জলচক নাটেশ্বরী নেতাজি বিদ্যায়তন স্কুলের মেধাবী ছাত্র ছোট থেকেই সমাজ সেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চার ভাইয়ের মধ্যে ছোট ছিলেন সুরেন্দ্র। বাবা অমল বেরা হোমিওপ্যাথিতে ডিপ্লোমা কিন্তু অসম্ভব ভাল হাতজশের কারনে গ্রামীন এলাকায় এ্যলোপ্যাথি চিকিৎসা করতেন। ভিড় উপচে পড়ত বাড়িতে। গ্রামের মানুষের জন্য একজন পাশ করা ডাক্তার দরকার ভেবেই ডাক্তারি বিদ্যার পাঠ নিয়েছিলেন তিনি।

এমবিবিএস করার পর এম.এস করেছিলেন ডঃ বেরা। চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে, মাত্র কয়েক বছরেরই সেই চাকরি শেষ হয়ে গেল।
তাঁর সহপাঠী স্থানীয় জলচক বাজারে একটি ওষুধ দোকানের মালিক শুভজিৎ বাগ বলেন “গ্রামের কথা ভেবেই প্রতি শনিবার নিয়ম করে আসতেন পিংলার দুটি প্রান্তে একবেলা করে রোগি দেখতেন। এমন উদার পরোপকারী মানুষকে হারিয়ে পিংলা যেন অনাথ হয়ে গেল। কী ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের, আমরা যারা গ্রামে বসবাস করি।”

সূত্রের খবর, পিংলায় রোগী দেখতে এসে নাকি, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে আক্রান্ত হয়েছেন? এটা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও জানা যায়, দিন কুড়ি আগে মেডিক্যাল কলেজে একজন করোনা আক্রান্ত প্রসূতির সিজার করেছিলেন তিনি। যেহেতু প্রসূতির করোনা ছিল, তাই পরে তিনি নিজেরও পরীক্ষা করান। তারপরই তাঁর করোনা ধরা পড়ে। আবার পিংলার নানা এলাকাতেও যেহেতু বর্তমানে সংক্রমন অত্যন্ত বেশি তাই রোগিদের কাছ থেকেও তিনি সংক্রমিত হওয়ার একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
কয়েকদিন আগে তাঁকে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার সকালেও সেখান থেকে বাড়ির লোকেদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন। কিন্তু ওই দিনই রাত ৯টা নাগাদ বেসরকারি হাসপাতালে সূত্রে খবর আসে, তিনি আর নেই!! করোনার কাছেই নিজেকে সঁপে দিলেন। রেখে গেলেন বাবা, মা, তিন দাদা বৌদি, পরিপূর্ণ পরিবারের পাশাপাশি স্ত্রী এবং ৫বছরের এক সন্তান ছাড়াও রেখে গেলেন মাত্র তিন মাস বয়সী আরেক সন্তানকে।হেরে গেলেন আরোও এক যোদ্ধা!.. প্রিয় ডাক্তার বাবুকে হারিয়ে ঘরে ঘরে আজ শুধুই সম্বল ‘চোখের জল’।

Related Articles

Back to top button
Close