fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হাসপাতাল থেকে থানা! খড়গপুরের অসহায় রোগীর পরিবার সঠিক রিপোর্টের আশায় বিভ্রান্ত

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা এখন করোনা আবহে প্রায় সব জেলার শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। যেখানে নিত্য নতুন বেশ ভালো সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, সেখানে দৈনিক চিরদুর্দশার চিত্রও ফুটে উঠছে। চরম নাকাল ও উদাসীনতার শিকার হচ্ছেন অনেক অসহায় পরিবার। ঘটনা সূত্রে এমনই একাকী অসহায় মহিলা ওনার বৃদ্ধা মায়ের করোনা রিপোর্ট নিয়ে বেশ হতাশ ও বিপাকগ্রস্থ। তিনি এই রিপোর্টের সত্যতা যাচাই নিয়ে একবার খড়্গপুর থানা তো একবার খড়্গপুর চাঁদমারি হাসপাতালে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ভারতী পলমল নামে ওই মহিলা বলেন, “আমার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি, কিছুদিন আগে মায়ের নাম মিনা মাইতি। বয়স ৭০ উর্ধ্ব প্রায় মাকে কোলাঘাটের বাড়ি থেকে আমার এখানে (ইন্দা)তে নিয়ে আসি। দিনকয়েক পর মায়ের বুকে কফ জমে যাওয়ায় একটু নিশ্বাসের অসুবিধা হচ্ছিল, এমনিতেই ওনার একটু ঠান্ডা লাগার ধাত, তাই চাঁদমারি হাসপাতালে গিয়ে দেখায়। ওখানে ডাক্তারবাবু বলেন যেহেতু শ্বাসকষ্ট বা কফ আছে তাই ওনার করোনা রিপোর্ট করার নির্দেশ দেন। যেহেতু নিশ্বাসের অসুবিধা আছে ওনার অক্সিজেন বেড প্রয়োজন আছে সেক্ষেত্রে আপাততঃ এখানে বেড নেই তাই প্রাইভেট বা সরকারি অন্য হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়ে বলেন অক্সিজেন বেড পেলে উনি দু তিন দিনেই পুরো সুস্থ হয়ে যাবেন। এমতাবস্থায় আমি উপায় নেই দেখে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে নিয়ে যাই,কিন্তু ওখানে এক অন্য অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। ওখানে গিয়ে ভাবলাম একটা ‘অক্সিজেন বেড’ পেলে মা সুস্থ হয়ে উঠবেন, কিন্তু ওখানের ডাক্তার বাবু বলেন এখানে পেসেন্টকে ‘কোভিড’ওয়ার্ডে ভর্তি রাখতে হবে।

আরও পড়ুন: যাত্রী চাহিদায় এবার হাওড়া থেকে মুম্বই ও আহমেদাবাদের ট্রেন চলবে সপ্তাহে তিনদিন

প্রশ্ন করি উনার রিপোর্ট তো এখনও আসেনি বা পজেটিভ নয়? তাহলে ওনাকে কেন কোভিড ওয়ার্ডে রাখবো, পাশাপাশি রেফার সব কাগজ দেখালে এক ডাক্তার বাবু বলেন’- যেহেতু আপনার মায়ের করোনা রিপোর্ট আসে নি, তাই এখানে কোভিড ওয়ার্ড’ এ না রেখে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার উপদেশ দেন। উপায় না দেখে আমি বাড়ি নিয়ে আসি। কিন্তু গতকাল আমার মোবাইলে একটা লিঙ্ক এ স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে ম্যাসেজ আসে ওখানে রিপোর্ট উল্লেখ যে মায়ের পজেটিভ আছে। আমি আমাদের কাউন্সিলর এর কাছে গিয়ে জানালে, উনি বলেন খড়্গপুর থানায় গিয়ে রিপোর্টটির বিস্তারিত জানাতে। সেই মতো থানায় জানালে অফিসার দেখে বলেন- আমাদের কাছে যে সরকারি সূত্রে তথ্যঅনুযায়ী আক্রান্তের লিস্ট আছে তাতে আপনার মায়ের নাম নেই, ওটা মোবাইলে ফেক রিপোর্ট এসেছে!  ওটা ভিত্তিহীন।

একটি মোবাইল থেকে ফোন আসে স্বাস্থ্য দফতরের নামে, বলা হয় রিপোর্ট পজেটিভ এবং পুরো ঠিকানা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী কিছু সময় পরে উতকন্ঠা দূর করতে  যাচাই এর জন্য ওই নম্বরে কল করেও ফোন অফ পায়। পুনরায় বিষয়টি চাঁদমারি হাসপাতাল গিয়ে সবিস্তারে আধিকারিককে জানিয়েছি, মুখে কুলুপ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। আমি এই মুহূর্তে ভেবেই পাচ্ছিনা কোথায় যাবো!  সরকারি হাসপাতাল আমাদের কাছে একমাত্র ভরসা। আমার দুই মেয়ে তারা বিবাহিত, একাকী আমি ও এক ছেলে খুব কষ্টের মধ্যে অসহায়, সাধ্য নেই যে বৃদ্ধা মাকে কোনো বেসরকারি ভালো হাসপাতালে চিকিৎসা করাবো,
আমার প্রশ্ন.. রিপোর্ট  যদি পজেটিভই হয়, তো এর সঠিক সদুত্তর কোথায় পাবো? কার কাছে পাবো? আমাদের মতো অসহায় পরিবারের ওপর নির্বিকার না থেকে যদি হাসপাতাল বা স্থানীয় প্রশাসন একটু সহযোগিতা করেন, ওনাদের বিনীত অনুরোধ করেছি”।

বর্তমানে জেলার মধ্যে করোনার অধিকত্য বেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর প্রতিদিনই নতুন করে করোনাতে বেশ ভালো সংখ্যক মানুষ আক্রান্তও হচ্ছেন। ফলে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে স্বাস্থ্য কর্তাদের কপালে। বর্তমানের কথা মাথায় রেখে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক নানা স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতন বা পরিকল্পনা মাফিক খড়্গপুরে  ফ্রন্টলাইন করোনা যোদ্ধাদের জন্য পৃথক হাসপাতাল গড়তে চলেছে! ভালো কথা এবং বেশ গ্রহণযোগ্যও বটে। তার সঙ্গে সাধারণ মানুষদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যপরিষেবা দানে আরও একটু দায়িত্ব সহকারে স্বাস্থ্যসাথী ও কর্তা ব্যাক্তিদের এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আগ্রহ বাড়াতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close