fbpx
বিনোদনহেডলাইন

সাধারণ গল্প, সাধারণ ট্রিটমেন্ট কিন্তু ভাবায়

মনীষা ভট্টাচার্য: মানুষ জীবনে কী চায় তা কি সে নিজেই জানে ? আপাত দৃষ্টিতে যাকে দেখে সুখী মনে হয়, সে কি আদৌ সুখী ? সময়ের সঙ্গে আজ প্রায় প্রত্যেক মেয়ে চায় নিজের পায়ে দাঁড়াতে, কিন্তু মনের মতো কাজ কজন পায়? তবু টিকে থাকার জন্য লড়াই জারি রাখতে হয়। ছেলেদের জন্য আজও নানা ভাবে মেয়েদের পণ্য করে তোলা হচ্ছে। কিন্তু মেয়েদের জন্য ছেলেরা কি নিজেদেরকে পণ্য করার কথা ভাবছে? কিংবা মেয়েরা কি এমন ভাবছে তাদের একাকীত্বে ছেলে নয়, মেয়েরাই সাহায্যের হাত বাড়াতে পারে? এতো প্রশ্ন মনে এবং মাথার মধ্যে তুলে দিলেন পরিচালক অলঙ্কৃতা শ্রীবাস্তব।

পাঁচ সিতারে ফিরভি নেহি দেঙ্গে ।

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে সদ্য রিলিজ করেছে ‘ডলি কিট্টি অউর উয়ো চমকতে সিতারে’। দুই তুতো বোনের গল্প বলতে গিয়েই পরিচালক এই প্রশ্নগুলো তুলেছেন। বিহার থেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে কাজল (ভূমি পেডনেকর) এসেছে দিদি ডলির (কঙ্কনা সেনশর্মা) বাড়ি নয়ডায়। ডলি বিবাহিত। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে সে সুখীই। কিন্তু কাজল বা কিট্টি আসার পর সেই সুখী জীবনে ধীরে ধীরে অসুখ দেখা দিতে শুরু করে। কিট্টির ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দেয়, জামাইবাবু তাঁর সঙ্গে যৌন মিলনে আগ্রহী। সে কথা সে ডলিদিকে জানায়। কিন্তু ডলি যেন বিশ্বাস করেও করতে চায় না। বরং তাঁরা নতুন ফ্ল্যাটে শিফট করবে তার জন্য কনস্ট্রাকশন দেখতে যায়, শপিং করে, বাড়িতে বন্ধু-বান্ধবকে নেমন্তন্য করে। একটা সময় পর কিট্টি তাঁর ডলিদির বাড়ি ছেড়ে থাকতে শুরু করে এক হস্টেলে। সেখানে গিয়ে তাঁর ভিন্নরকমের অভিজ্ঞতা হয়। মেয়েরা কত সহজে বিকিয়ে যাচ্ছে তার সম্মুখীন হয় সে। এক সময় প্রশ্ন জাগে সম্মান আগে নাকি টাকা? অসম্মানের জন্যই তো জুতোর দোকানের চাকরি ছেড়ে দিয়ে কিট্টি জয়েন করে এক রোম্যান্স অ্যাপের কল সেন্টারে।

আই লাভ ইউ প্রদীপ।

পুরুষদের সঙ্গে  লাভ ও সেক্স চ্যাট করতে করতেই প্রদীপ (বিক্রান্ত মেসে) আসে কিট্টির লাইফে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্পর্কটা দাঁড়ায় না। অন্যদিকে ডলির জীবনে এক ডেলিভারি বয়ের (অমল পরাশর) আবির্ভাব হয়। তাঁর সঙ্গে এক রাতে লং ড্রাইভেও যায় সে। নতুন করে যৌনতার স্বাদও অনুভব করে। হঠাৎ একদিন সে জানতে পারে তাঁর ছোট ছেলের মধ্যে নারীসুলভ হাবভাব দেখা দিয়েছে। স্কুলে সে শার্টের নীচে মেয়েদের অন্তর্বাস পরে গেছে। শুধু তাই নয়, বাড়িতেও মায়ের মেকাপ কিট নিয়ে মেকআপ করা, কিংবা মেয়েদের বাসে করে মিঊজিয়াম দেখতে যেতে চাওয়া, দোকানে মেয়েদের জামার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করা।

হার চৌথা আদমি ফোনপে সেক্স চাহতা হ্যায়।

ছেলের এইসব কীর্তি কলাপ দেখে ডলির মনে হয় সে কি ছোটবেলায় একটু বেশি ছেলে ছেলে ছিল? সে একটা চাকরি করে বটে, কিন্তু কী তাঁর জব প্রোফাইল তা বোঝা যায় না। বরং ২ ঘণ্টার ছবিতে বার পাঁচেক দেখা যায় ডলি তাঁর বস এবং কলিগের জন্য চা তৈরি করছে। কারোর চাহিদা একটা চাকরি, কারোর একটা আলিশন ফ্ল্যাট, এসি। কারোর আবার নিজেকে চেনা, জানা, পুতুল নিয়ে খেলা করা। কেউ আবার মদ, পার্টি, ডিস্কো, যৌন চাহিদাতেই মত্ত।

অউর বাপকা কই রোল নেই লিখা হ্যায় ?

কারোর শুধুই দরকার কমেন্টে ৫টা স্টার। এইসব চাহিদার গল্প এই ছবি। বলিউডি ধামাকা নেই, গনগনে একটা আঁচ আছে বটে, তবে তা ছাইচাপা হয়েই থেকে গেল। যদিও কঙ্কনা, ভূমি, বিক্রান্ত, অমল প্রমুখরা অভিনয়ে কোনও খামতি রাখেননি। তবে ছবির শেষে কিট্টির মুখে মেয়েদের জন্যও রোম্যান্স অ্যাপ প্রয়োজন – এই দৃঢ় ও সাবলীল প্রপোজাল শুনে মনে হয় আর অভ্যাসের দাস নয়, এবার নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সময় হয়েছে।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close