fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কুলটিতে ছাগল চোরের মহিলা গ্যাংকে গণধোলাই, আটক ৪

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: ছাগল চুরি করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়লো চার মহিলা। ধৃতদের গণধোলাইয়ের পরে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুর চিত্তরঞ্জন রোডের ডেডি গ্রামে। জানা গেছে, ধৃতরা ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ার বাসিন্দা। সাইবার অপরাধে দেশজুড়ে এই জামতাড়ার নাম রয়েছে। তারা পুলিশের খাতায় ” জামতাড়া গ্যাং ” নামে পরিচিত। এতদিন সেখানকার পুরুষদের নাম শোনা গেলও এই প্রথম সেখানকার মহিলাদের গ্যাংয়ের খোঁজ মিললো বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া কুলটিতে।

ছাগল চোরের গ্যাং ধরা পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা মহিলাদের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে তাদের ওপর। গণধোলাই দেওয়া শুরু হয় তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, অটোতে করে ওই চার মহিলা ছাগল চুরি করতে এসেছিল। চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে তারা। এরপর ওই অটো সহ চার মহিলাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কুলটি থানার নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় কুলটি থানার ডেডি গ্রামে।

এই এলাকায় অনেকেই আছেন যারা ছাগল পালন করেন। মনসা পুজো ও দুর্গাপুজো বলে অনেকেই আবার পাঁঠাও রাখেন বাড়িতে রাখেন। বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বাড়ির ছাগল মাঠে চড়তে গিয়ে ফিরে আসছিলো না। প্রায়ই কারোর না কারোর ছাগল উধাও হয়ে যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন নিয়ামতপুর চিত্তরঞ্জন রোডের ফাঁকা জায়গায় একটা অটো এসে দাঁড়ায়। চারজন মহিলা সেই অটো থেকে নেমে চড়তে থাকা ছাগলগুলিকে কোলে তুলে ওড়না ঢাকা দিয়ে অটোর দিকে যাচ্ছে। তারা দৌড়ে গিয়ে অটো সহ ঐ চার মহিলাকে ধরে ফেলেন। চুরি করে নেওয়া ছাগলগুলিও উদ্ধার হয় সেই অটো থেকে । সেই ঘটনা জানজানি হতেই গ্রামের মহিলারা তাদেরকে গণধোলাই দিতে শুরু করেন। চুলের মুঠি ধরে জুতো পেটা করা হয় তাদেরকে। খবর পেয়ে এলাকায় নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশ।

গণধোলাইয়ের হাত থেকে ৪ মহিলাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয় পুলিশকে। কার্যত উত্তেজিত জনতার সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় পুলিশের। গণপ্রহারের শিকার ৪ জনকে কোনওক্রমে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ দায়ের করা হলেই গ্রেফতার করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close