fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

বারোয়ারি পুজোর ইতিকথা…

দোয়েল দত্ত: বাবু সংস্কৃতিতে কলকাতার দুর্গাপুজোর সূচনা হয় ১৬১০ সালে৷ কিন্তু সেইসব বনেদি পারিবারিক পুজোগুলির প্ৰধান সমস্যাই ছিল আমোদপ্রমোদ সবই বাবু সম্প্রদায়ের লোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল৷ জামিদারির লোকজন, গুটিকয়েক মোসাহেব আর ইংরেজরা তাতে মূলত অংশ নিতেন৷ সাধারণ মানুষের সেইসব পুজোতে অংশগ্রহণের সেরকম কোনও অবকাশ থাকত না৷ দীর্ঘ দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ হতে হতে ১৭৯০ সালে বারোজন ব্রাহ্মণ বন্ধু নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে শান্তিপুরের কাছে গুপ্তিপাড়ায় দুর্গাপুজোর পরিকল্পনা করেন৷ সেটাই বাংলার প্ৰথম বারোয়ারি পুজো৷ বারোজন বন্ধু (ইয়ার) মিলে এই পুজোর সূচনা করায় এর নাম বারোয়ারি হিসেবে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করে৷

এরপরে আস্তে আস্তে আশপাশের অঞ্চলে আরও কয়েকটি বারোয়ারি পুজো শুরু হতে হতে ক্রমশ সংখ্যাটা বাড়তে থাকে৷ তৎকালীন সময়ে হাট ব্যবসায়ী ও মহাজনরা মানে কি না বণিক সম্প্রদায়ের লোকজনই এই পুজোর মূল উদ্যোক্তা ছিল৷ সারা বছর ব্যবসা করে যে সঞ্চিত পুঁজি থাকত, তা-ই সকলে অল্প  করে দিয়ে পুজো করা হতো৷ তবে জাঁকজমক ও জৌলুষে বাবুদের পুজোগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ত এই নব্য বারোয়ারি পুজোগুলো৷

                                      আরও পড়ুন: পুজোর বাজারের খোঁজ খবর…..

আর সেজন্যই সাধারণের কাছ থেকে চাঁদা আদায়েও এরা পিছপা হতেন না৷ ধনী পরিবারের পুজোর আনুষঙ্গিক অঙ্গ যেমন ছিল সুরা আর বাঈনাচ, তেমনি বারোয়ারি পুজোতে তার জায়গা নিয়েছিল নর্তকী, খেমটা ও গাঁজার আসর৷ কখনও কখনও থাকত আখড়াই, হাফ আখড়াই, সঙ ও যাত্রাপালার ব্যবস্থাও৷

এখন আমাদের কাছে পুজো মানে যে প্রতিযোগিতা সেটা তখনও বারোয়ারি পুজোর সময়ে শুরু হয়ে গিয়েছিল৷ প্রতিমার আকার নিয়েও চলত চূড়ান্ত রেষারেষি৷ একবার শান্তিপুরে পুজো উপলক্ষে সাতলক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছিল৷ আর প্রতিমা? তা ছিল ষাট হাত উঁচু৷ বিসর্জনের সময় শেষে এমন অবস্থা হয় যে তাকে কেটে কেটে বিসর্জন দেওয়া হয়৷

আরও পড়ুন: ট্রাক ধর্মঘটের ডাক… পুজোর আগে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা

বারোয়ারি পুজো স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাত ধরে জনপ্রিয় হলেও অনেকসময়ে সমাজের গণ্যমান্যরাও বাড়িয়ে দিতেন সাহায্যর হাত৷ সেরকমই একজন বারোয়ারিতলার বীরকৃষ্ণ দাঁ৷ এছাড়াও হুতোমের লেখা থেকে জানা যায় এহসব বারোয়ারি পুজোয় শহরের রাজা সিঙ্গি ঘোষ, দে, মিত্ৰ ও দত্ত প্রভৃতি গণ্যমান্য ব্যক্তি মাতিয়ে রাখতেন৷ তবে কাঙালিদের প্রবেশাধিকার ছিল না বললেই চলে৷ ভিড় করলেই তাদের সরিয়ে দেওয়া হতো৷ নবমীর দিন বারোয়ারি পুজোগুলিতে মোষ, পাঁঠা, সুপুরি, আখ, কুমড়ো, মাগুর মাছ ও মরিচ বলির জন্য নিয়ে আসা হতো৷

উল্লেখ্য, বিসৰ্জনের সময়ে সেকালে শবরদের অনুকরণে গায়ে কাদামাটি মেখে অশ্লীল গান ও বাদ্য সহযোগে প্ৰতিমা নিরঞ্জন হতো, যা অনেকেই ভালো চোখে দেখতেন না৷

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close