fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনের জেরে ছাড়তে হয়েছে ভাড়া ঘর, হাসপাতালের মর্গের সামনে জীবন কাটাচ্ছেন আশ্রয়হীন মহিলা

দিব্যেন্দু রায়, কাটোয়া: লকডাউনের জেরে বন্ধ রোজগার। তাই ছাড়তে হয়েছে ভাড়াঘর। বর্তমানে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের মর্গের সামনে জীবন কাটাচ্ছেন ছবি সেন নামে মধ্য চল্লিশের  এক  মহিলা। মানুষের কাছে হাত পেতে যেটুকু পাচ্ছেন তাতেই কোনও রকমে তাঁর দু’বেলার অন্ন সংস্থান হচ্ছে।  মাস তিনেক ধরে এই ভাবেই অসহায় জীবন কাটছে ছবি দেবীর।

জানা গেছে, কাটোয়ার নন্দিগ্রামে শ্বশুরবাড়ি ছিল ছবি দেবীর৷ তাঁর দুই মেয়ে এক ছেলে। অনেক দিন আগেই স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের ফেলে  পালিয়ে যান ছবিদেবীর স্বামী। মহিলার স্বামী বর্তমানে হাওড়া এলাকায়  ব্যাবসা করেন। সেখানে তাঁর আলাদা সংসার রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর নাবালক ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিপাকে পড়ে যান ছবি দেবী। শেষে বাধ্য হয়ে তিনি  পূর্বস্থলীর বেলেরহাটে বাপের বাড়িতে আশ্রয় নেন। চারজনের খরচ খরচা চালানোর জন্য তিনি কাটোয়া শহরে ফুটপাতে বসে সব্জি বিক্রি করতে শুরু করেন।

[আরও পড়ুন- করোনা জয়ী পুলিশ কর্মীদের নিয়ে সচেতনতার পাঠ উলুবেড়িয়ায়]

ছবিদেবী জানিয়েছেন, এই ভাবে তিনি দুই মেয়ের বিয়ে দেন। পরে  ছেলেও ভিন রাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে চলে যায়। তারপর তিনি কাটোয়ার কুলডাঙ্গায় একটি কুঁড়েঘর ভাড়া করে থাকতে শুরু করেন। তিনি বলেন, “লক ডাউনের পর থেকে আমার ব্যাবসা বন্ধ হয়ে যায়। যেটুকু সঞ্চয় ছিল তাতে কয়েকদিন কেটেছিল৷ কিন্তু শেষে ভাড়া ঘর ছাড়তে বাধ্য হলে কাটোয়া হাসপাতালের মর্গের সামনে থাকছি।”

কিন্তু ছেলেমেয়ে আত্মীয়স্বজন থাকতে এভাবে অসহায় জীবন কেন কাটাতে হচ্ছে?  এই প্রশ্নের উত্তরে ছবি দেবী বলেন, ‘ছেলে কেরালায় পরিবার নিয়ে থাকে। এদিক দিয়ে বিশেষ আসে না। এছাড়া  আমার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর থেকে বাপের বাড়ির সঙ্গেও আর কোনও যোগাযোগ নেই। তাই এভাবে ভগবান ভরসায় জীবন কাটাচ্ছি।”

 

 

Related Articles

Back to top button
Close