fbpx
অফবিটদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ক্যানসার রোগীদের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের মাথার চুল দান করলেন রায়গঞ্জের গৃহবধূ 

শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: রূপকথার জগৎ থেকে সাহিত্যের বিভিন্ন ধারায় কেশরাশির সৌন্দর্য্য অপার রহস্যময়তায় ভরা। এবার সেই কেশবরণ কন্যা বললে ভুল হবে, এক গৃহবধূর  দেখা মিললো রায়গঞ্জে। নাম প্রিয়াংকা দে। ক্যানসার আক্রান্তদের মাথার চুল না থাকার যন্ত্রণা মেটাতে প্রিয়াঙ্কাদেবী।  তার নিজের মাথার চুল কেটে পাঠিয়ে দিয়েছে মুম্বইয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে। ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন প্রিয়াংকা

উল্লেখ্য, রায়গঞ্জের মোহনবাটী এলাকার বাসিন্দা প্রিয়াংকা দে। খুব ছোটোবেলায় পরিচিত ক্যানসার আক্রান্ত  একজনের যন্ত্রণাদায়ক মানসিক ও শারীরিক পরিস্থিতি ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল তাঁকে। এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রিয়াঙ্কা জানতে পারেন ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য চুল দেওয়ার কথা। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রস্যগঞ্জের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেন। প্রয়োজনীয় কথাবার্তা হওয়ার পর রবিবার রায়গঞ্জের একটি পার্লারে গিয়ে নিজের বারো ইঞ্চি চুল কেটে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হাতে তুলে দেন।

আরও পড়ুন: ‘করোনা ভ্যাকসিন ইসলামে হারাম’, বিতর্কিত মন্তব্য এক মৌলানার

প্রিয়াঙ্কা দেবী বলেন,” ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ওষুধের প্রভাবে মাথার চুল উঠে যায়। একারণে তারা মানসিক অবসাদে ভোগেন। অনেকে অর্থের অভাবে পরচুলা কিনতে পারেন না। ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ” মন খারাপ লাগছে না?  জিজ্ঞাসা করতেই প্রিয়াঙ্কা দেবী বলে ওঠেন,” ক্যানসার আক্রান্তদের মুখে কিছুটা হাসি ফুটবে ভেবে ভালো লাগছে। আর আমি আমার এই চেহারাকেও ভালোভাবে ক্যারি করতে পারব। ” অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্ণধার কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন,” প্রিয়াংকাদেবীর এই ইচ্ছার কথা জানতে পেরে আমরা যোগাযোগ করি মুম্বাই এর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে। যারা ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য পরচুলা তৈরির কাজ করে। প্রিয়াঙ্কা দেবীর মাথার চুল আমরা ক্যুরিয়ার করে মুম্বই পাঠিয়ে দেব। এরপর প্রাপ্তি স্বীকার করে তারা সার্টিফিকেট পাঠাবেন। খুব ভালো উদ্যোগ, আমরা চাই অন্যান্যরাও এই কাজে এগিয়ে আসুন।

শহরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শুভেন্দু মুখার্জি বলেন,” বর্তমান সময়ে আমাদের বোধ, চেতনা, অভিজ্ঞান সব কিছু যেন হারিয়ে যাচ্ছে। সবটাই মেকি। এই পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কাদেবীর এই মানসিকতা আমাদের স্তিমিত বিবেককে নাড়িয়ে দিয়ে যায়।  ভালোবাসা, মানবিকতার সবকিছু যে শেষ হয়ে যায় নি-এই বিশ্বাস জেগে ওঠে।” বহিরঙ্গের সৌন্দর্য নয়,অন্তরের সৌন্দর্য যে অনেক মহৎ,মানবিক প্রিয়াঙ্কাদেবীর এই উদ্যোগ তা আরও একবার প্রমাণ করলো। রাসায়নিক বিষে যন্ত্রনাক্লিষ্ট ক্যানসার আক্রান্ত রোগীরা আবারো হয়তো আয়না ধরবে মুখের সামনে, চুলের বাহারে মুখে ফুটে উঠবে একচিলতে হাসি।

Related Articles

Back to top button
Close