fbpx
লাইফস্টাইলহেডলাইন

করোনাকালে ডেঙ্গু…

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্কঃ  করোনা ভাইরাস সাৰ্স কোভ ২ -এর জন্য সারা বিশ্ব এখন ত্ৰস্ত৷ আমাদের দেশেও প্ৰতিদিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা৷ কিন্তু এসময়ে বর্ষা এসে পড়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুর মতো রোগ নিয়ে৷ করোনা আবহে ডেঙ্গু যুক্ত হলে সে পরিস্থিতি যে কতটা মারাত্মক হয়ে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ কিন্তু কোনটি করোনা, কোনটি আবার ইনফ্লুয়েঞ্জা আর কোনটা ডেঙ্গুর জ্বরএই ত্ৰিবিধ সমস্যা নিয়ে মানুষ এখন বিভ্ৰান্ত হয়ে যাচ্ছেন৷ জ্বর হলে সকলেই ভাবছেন এই বুঝি করোনা হয়ে গেল৷ কিন্তু সময়টা বর্ষা, কাজেই ডেঙ্গুর সম্ভাবনাকেও এড়িয়ে চলা যায় না৷ কীভাবে সামলাবেন এই সময়ে ডেঙ্গুর সমস্যা, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আশিস মিত্ৰ৷ শুনলেন দোয়েল দত্ত৷

 

করোনা আর ডেঙ্গু দুটি রোগেরই প্ৰাথমিক উপসৰ্গ জ্বর, আর সেজন্য এখন জ্বর হলেই মানুষ বেশি বেশি করে ভয় পেয়ে যাচ্ছেন৷ সাধারণ মানুষ কীভাবে বুঝবেন কোনটা কীসের জ্বর?

 

ডেঙ্গুর কথাই প্ৰথমে বলি, ডেঙ্গুতে শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসতন্ত্ৰজনিত সমস্যা যেমন গলাব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি থাকবে না, পাশাপাশি ঘ্ৰাণশক্তি ও স্বাদ চলে যাওয়ারও সমস্যা থাকবে না যেগুলি করোনার ক্ল্যসিক্যাল উপসৰ্গ৷ ডেঙ্গুতে প্ৰবল জ্বর হয় ও সঙ্গে গা, হাত-পা, মাথা, বিশেষ করে শরীরের অস্থিসন্ধিতে প্ৰবল ব্যথা হয়, মনে হয় কেউ যেন পিটিয়েছে৷ ডেঙ্গুতে দুরকমের র‍্যাশ বেরোয় প্ৰথমে লাল লাল র‍্যাশ গায়ে বেরোয়, তারপরে প্লেটলেট কাউন্ট খুব কমে গেল পায়ে ছোট ছোট লালচে ফুসকুড়ির মতো দেখা যায়৷ তবে যাদের গাত্ৰবৰ্ণ ফরসা তাদের ক্ষেত্ৰেই এইগুলি খালি চোখে দেখা যায়৷ আর প্লেটলেট কাউন্ট ভয়ংকর কমে গেলে রক্তচাপ কমে যাবে, মাথা ঘুরবে৷

 

 

অন্যদিকে করোনার উপসৰ্গ হল জ্বর, সঙ্গে গলাব্যথা, বা শ্বাসকষ্ট এমন শ্বাসের সমস্যা মনে হবে বুকে পাথর চাপা দিয়ে দেওয়া হয়েছে সেইসঙ্গে স্বাদ ও গন্ধ শোঁকার ক্ষমতাও চলে যায়৷ আর করোনাতে প্লেটলেট কাউন্ট কমে না৷ তবে ডেঙ্গু আর করোনাতে একটি কমন উপসৰ্গ হল পেটখারাপ, বমি৷ করোনাতে ইদানীং বেশি বেশি করে ডায়ারিয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যেহেতু এই নোভেল ভাইরাস অন্ত্ৰতেও আঘাত করে৷

 

আর এই দুটি রোগ যদি একসঙ্গে হয়, তাহলে তো হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে?

 

অবশ্যই৷ করোনা আর ডেঙ্গু একত্ৰে হলে চিন্তার বিষয় বই কী৷ এমনিতে এখন করোনার জন্য বলা হচ্ছে মৃদু উপসৰ্গ থাকলে হোম আইসোলেশনে রেখেই চিকিৎসা করা সম্ভব৷ গ্ৰেট ব্ৰিটেনে এক্ষেত্ৰে বিশেষ একটি নিয়ম মেনে চলা হয়৷ ওখানে যতক্ষণ না শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, ততক্ষণ করোনার রোগীকে হাসপাতালে ভৰ্তি করা হয় না৷ এমনকী অক্সিজেন স্যাচুরেশন (শরীরে অক্সিজেনের মাত্ৰা) ৯৫ শতাংশ স্বাভাবিক হলেও  ব্ৰিটেনে এখনও ৯০ পৰ্যন্ত দেখা হয়, ৯০-এর নীচে কমে গেলে তখন হাসপাতালে নেওয়া হয়৷ কেননা তখন রোগীর অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে৷

 

কোনও ব্যক্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত কিনা, সেটা কোন পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাবে?

 

ডেঙ্গু নিৰ্ণয়ের জন্য আইজিএম অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতে হয়৷ তবে এটা জ্বর হওয়ার পাঁচদিনের মাথায় করলে তবেই ঠিকঠাক ফলাফল আসে৷ সঙ্গে সঙ্গে করলে ঠিক ফল না-ও পেতে পারেন৷ অনেক চিকিৎসক  জ্বরের সাতদিনের মাথায় এই পরীক্ষাটি করান৷ এনএস ১ অ্যান্টিজেন টেস্ট, এই পরীক্ষাটি অবশ্য জ্বরের প্ৰথম দিন থেকেই করানো যায়, তবে আইজিএম অ্যান্টিবডি পরীক্ষাটিই সবচেয়ে বেশি গ্ৰহণযোগ্য৷ এছাড়া প্ৰতিদিন কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) দেখা হয়৷ আর হেমাটিক্রিট পরীক্ষা করা হয়৷ এইসব পরীক্ষায় যদি দেখা যায় প্লেটলেট ৫০,০০০-এর কম হয়েছে তাহলে বাইরে থেকে প্লেটলেট দিতে হতে পারে, সঙ্গে অবশ্যই ডেঙ্গুর চিকিৎসার প্ৰধান রোগীর শরীরে ঠিকমতো ফ্লুয়িড যাচ্ছে কি না দেখা৷

 

তাহলে ডেঙ্গুর নিৰ্দেশিত চিকিৎসা কী?

 

 

ডেঙ্গুতে বেশি বেশি করে রোগীকে ওআরএস খাওয়াতে হবে, মানে শরীর যাতে শুষ্ক না হয়ে যায়৷ করোনা আর ডেঙ্গু উভয় ক্ষেত্ৰেই প্যারাসিটামল দেওয়া হয়৷ আর ডেঙ্গুর চিকিৎসা বেশিরভাগ ক্ষেত্ৰেই উপসৰ্গভিত্তিক৷ তবে আমাদের দেশে করোনা মোকাবিলায় অ্যাজিথ্ৰোমাইসিন অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে হাইড্ৰক্সিক্লোরোক্যুইন দেওয়া হচ্ছে৷

 

করোনার মতো ডেঙ্গুর ক্ষেত্ৰেও কি বাচ্চারা ও বয়স্ক মানুষেরা হাই রিস্ক জোনে আছেন?

 

 

ডেঙ্গু বাচ্চা এবং বয়স্ক উভয়ের জন্যই ক্ষতিকারক, তবে এর একটা বিশেষ ব্যাপার হল এটি করোনার মতো মারাত্মক বা ছোঁয়াচে নয়৷ করোনা যেমন চট করে হাঁচি, কাশি, থতুর ড্ৰপলেট বা আক্রান্ত স্থান স্পৰ্শ করলে কখন যে শরীরে ঢুকে পড়ে আমরা জানতেও পারি না, ডেঙ্গুর ক্ষেত্ৰে তেমনটা হয় না৷

 

ডেঙ্গু প্ৰতিরোধে এই সময়টা কী কী সতৰ্কতা মেনে চলতে হবে?

 

এ প্ৰসঙ্গে প্ৰথমেই যে কথাটা বলা দরকার ডেঙ্গুর মশা কিন্তু কামড়ায় দিনের বেলা রাত্ৰে নয়, এখানেই ম্যালেরিয়ার সঙ্গে ডেঙ্গুর পাৰ্থক্য৷ আর অধিকাংশ মানুষই রাত্ৰে শোওয়ার সময়ে মশার স্প্রে করেন নয়তো লিক্যুইডেটর জ্বালেন৷ ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে ফুলহাতা জামা পরে থাকতে হবে, জানালায় নেট লাগানো, শোওয়ার সময়ে মশারির ব্যবহার আর বাইরে মসকিউটো রিপিলেন্ট ক্রিম মেখে বেরোতে পারলে সবচেয়ে ভালো৷ আর বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন, সেখানে কোনও জল জমতে দেবেন না, পরিষ্কার জলেই ডেঙ্গুর মশা ডিম পাড়ে৷

 

ডেঙ্গুর কি কোনও ভ্যাকসিন আছে? আর করোনা ভ্যাকসিনই-বা কোন স্তরে আছে?

নাহ্‌ ডেঙ্গুর কোনও ভ্যাকসিন নেই, আর করোনার ভ্যাকসিন আসতে আসতে মোটামুটি ধরে রাখুন আগামী বছর হয়ে যাবে৷

 

ডেঙ্গু রোগীদের ডায়েট পরিকল্পনার সময়ে কোন কোন বিষয়গুলিতে জোর দিতে হবে?

প্ৰথমেই বলব ডেঙ্গু রোগীকে সারাদিনে প্ৰচুর জল এবং ওআরএস খেতে হবে৷ ডায়েটে সহজপাচ্য অথচ হাই প্ৰোটিন ডায়েট মেনে চলতে হবে৷ জ্বর না কমা অবধি টানা ওআরএস খেয়ে যেতে হবে৷

 

ডেঙ্গুর রিকভারি স্টেজে কোন কোন সতৰ্কতা দরকার?

ডেঙ্গুতে শরীর প্ৰচণ্ড দুৰ্বল করে দেয়, তাই বাড়িতে পৰ্যাপ্ত বিশ্ৰাম নিন৷ নিয়মিত রক্তচাপ মাপতে হবে৷ জ্বর কমে গেলেই হুট করে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়বেন না৷ শরীর দুৰ্বল থাকায় মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারেন৷

 

এই যে করোনা নিয়ন্ত্ৰণের জন্য মাস্ক পরা হচ্ছে কিংবা ডিসইনফেটিভ স্প্রে  ব্যবহার হচ্ছে, ডেঙ্গু আটকাতে এগুলি কতটা কাৰ্যকর?

 

ডেঙ্গুর সঙ্গে এগুলোর কোনও সম্পৰ্ক নেই৷ মাস্ক বা স্যানিটাইজার দিয়ে ডেঙ্গু আটকানো যায় না৷

 

যোগাযোগ: ৯৮৩১৬৭১৫২৫

Related Articles

Back to top button
Close