fbpx
অফবিটব্লগহেডলাইন

সাক্ষাৎকার : সেলিনা হোসেন… একজন লেখকের নিজস্ব ঢং থাকাটা খুবই জরুরী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: সেলিন হোসেন-বাংলা সাহিত্যে অনিবার্য এক নাম। গত অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় তিনি বিনিয়োগ করেছেন বাংলা সাহিত্য সাধনায়। বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারই জমা হয়েছে তার ঝুড়িতে। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারও। সবচেয়ে বড় পুরস্কার অগণিত পাঠকের হৃদয়ের তলায় জায়গা করে নেওয়া। বণার্ঢ্য জীবনের এই কথাশিল্পীর হৃদপিন্ডে বহুকাল ধরেই ঘটে চলছে নিরন্তর রক্তক্ষরণ ।

 

 

কিন্ত এই রক্তক্ষরণও তাঁকে দমাতে পারেনি সৃষ্টিশীলতা থেকে। তার দ্বিতীয় সন্তান প্রশিক্ষণরত বৈমানিক ফারিয়া লারার তাজা প্রাণ বিমান দুর্ঘটনায় নিভে যাবার পর সেলিনা হোসেন পাথর হয়ে ভেঙ্গে পড়েছিলেন। কিন্তু কন্যা হারানোর সেই শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে সৃষ্টিশীলতার উর্বর ভূমিতে চষে সাহিত্যের সোনালি ফসল ফলাতে আবার ফিরে আসেন লেখার টেবিলে। পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ বিভিন্ন দেশের অসংখ্য সম্মাননা। পৃথিবীর অন্তত ১০ টি দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেলিনা হোসেনের লেখা বই পাঠ্য। আজ তাঁর ৭৪ তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে যাপিত জীবনের নানা দিক নিয়ে তুমুল পাঠকপ্রিয় লেখখিকা সেলিনা হোসেনের মুখোমুখি হয়েছিলেন আরেক পাঠকপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক ইজাজ আহমেদ মিলন-

ইজাজ আহমেদ মিলন : আজকে আপনার যাপিত জীবন নিয়ে কথা বলতে চাই। দীর্ঘ জীবন আপনি যাপন করলেন। একজন লেখকের জীবন যাপন করলেন । ফেলে আসা দিনগুলির কথা নিশ্চয় মনে পড়ে। নস্টালজিয়া আক্রান্ত হন। কখনো কি মনে হয় ? এই পথে না ওই পথে হাঁটলে আরো ভালো করতেন ?

সেলিনা হোসেন : আমি বহুকাল ধরেই লেখালেখি করছি। শৈশবে- কৈশোরে আমার অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছিল। নদ নদী , খাল বিল, গাছ পালা অর্থাৎ প্রকৃতির সঙ্গে আমার নিবিড়ভাবে মিশেছিলাম। খুব কাছ থেকে প্রকৃতি দেখার সুযোগ হয়েছিল। পাশাপাশি মানুষের আচার আচরণ, তাদের বসবাস, মানুষের দারিদ্রতা , মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক দেখা- এই গুলো আমার কৈশোরে দেখার একটা বড় জায়গা ছিল। তারপর আমি লিখতে আসি। কিন্তু পাশাপাশি আমি অনেক কিছু করেছি। ছাত্র জীবনে আমি ডিবেটিং এর একজন বড় ভক্ত ছিলাম। ডিবেট করতাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। চারবার আমি ডিবেটিং এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। তাছাড়া আবৃত্তি,নাচ গানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম। গিটার বাজাতেও শিখেছিলাম। কিন্তু মাস্টার্স করার পর ১০৭০ সালে যখন আমি বাংলা একাডেমিতে যোগদান করলাম , তখন আমার মনে হলো একজন মানুষের এতো কিছু করা উচিৎ না। সবগুলো ধরে রাখলে আমি কোথাও সার্থক হবো না। আমি অভিনয় করবো ? আমি গিটার বাজাবো ? আমি আবৃত্তি করবো ? আমি লিখবো ? আমি সব কিছু করবো- এতো বাহাদুরি করার জায়গা বোধ হয় নয় । একনিষ্ঠভাবে যে সে জায়গাটাতে ধরবে শিল্পের সাধনাকে বড় করে তোলার জায়গায় পরিণত হবে। সুতরাং আমি যখন বাংলা একাডেমিতে ঢুকলাম এবং আমার একটি বই তখন বেরিয়েছে। বইয়ের গল্পগুলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় লেখা ছিল। তখন আমার মনে হলো আমার বোধহয় লেখালেখিতেই থাকা উচিৎ। আবশ্য সূচনালগ্নে এতো বিশাল কোনো প্রত্যাশা ছিল না কিংবা আমি পাড়বই এমনটাও মনে করিনি। মনের মধ্যে তেমন জোরও ছিল না। এভাবেই আমি লেখালেখিতে আসি। আর বাংলা একাডেমিতে চাকুরি করার সুযোগে আমার লেখালেখির জায়গাটা আরো প্রসারিত করে দেয়। সেখানে বড় একটা লাইব্রেরি ছিল, অনবরত বই পেতাম হাতের কাছে। পড়তাম। গবেষাণার জায়গা ছিল। ইতিহাস চার্চার একটা সুযোগ ছিল। সেখান থেকে আমার মনে হলো লেখালেখিতে আমার নিজস্ব একটা ঢং তৈরি করতে পারবো। একজন লেখকের নিজস্বতা থাকাটা খুবই জরুরী।

ইজাজা আহমেদ মিলন : চলার পথটি নিশ্চয়ই মসৃণ ছিল না। বন্ধুর সে পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেয়েছেন ?

সেলিনা হোসেন: না, আমার চলার পথটা তেন অমসৃণও ছিল না। জীবনে আমার হৈহুল্লুড় করার বড় একটা জায়গা ছিল। জীবনের চলার পথটি আমার মোটেও বন্ধুর ছিল না। তবে ব্যক্তিগত জীবনে আমার কিছু শোক আছে, দু:খ আছে। আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে আমার হাতের ওপরে। আস্তে করে তিনি চলে গেলেন। আমি মেনেই নিয়েছিলাম মৃত্যু একটি অনিবার্য সত্য। যাপিত জীবনে কোনো দু:খবোধই আমি বিশাল করে দেখিনি। মেয়ে হিসেবে আমি কখনো সামাজিক কোনো বিরোধীতার মুখে পড়িনি। পারিবারিক তো নইই। আমার মা বাবা খুবই উদার মনের মানুষ ছিলেন। আমি একজন ভাগ্যবান মানুষ। আমি একজন ভালো মনের মানুষের সঙ্গে জীবনটা কাটালাম। আনোয়ার হোসেন কখনো আমাকে বলেনি রান্না করতে হবে, রান্না করছো না কেন ? বরং ও ওল্টো বলতো- বলতো, তুমি লেখার টেবিলেই থাকো। রান্না ঘরে ঢুকে তোমাকে সময় নষ্ট করতে হবে না। সুতরাং আমি একটি স্বাধীন জীবন অতিবাহিত করলাম। আনোয়ারের কাছে অবশ্য এ জন্য আমার কৃতজ্ঞতার অন্ত নেই।

ইজাজ আহমেদ মিলন: লেখালেখির বাইরেও তো আপনার একটা বড় জগৎ আছে !

সেলিনা হোসেন : লেখালেখির বাইরেও আমি নানা রকম সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। এসব কাজকর্মে অংশ নিয়ে মানুষের মাঝে থেকেছি বলেই অভিজ্ঞতা পেয়েছি। শুধু ঘরের মধ্যে বসে আমি কী করতে পারতাম ? সামাজিক দায়িত্ব পালন না করে যদি কেবল লেখালেখি করতাম, মনে হয় পারতামই না। মানুষের মধ্যে না গেলে আমি নিজেকেও বুঝতাম না। আমার শিক্ষক অধ্যাপক আবদুল হাফিজ বলেছিলেন, মেয়ে হয়েছ বলে নিজেকে চার দেয়ালে বন্দী রেখো না, বিশ্বটাকে দেখো। খুব যতœ করে স্যারের কথাটা মনে রেখেছি। লেখালেখির শুরুর পর থেকে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় এক হাতে লেখালেখি, অন্য হাতে নানা বিষয়-আশয় সামলেছি। শত ঝড় ঝাপটাও লেখালেখি থেকে কখনো নিজেকে বিচ্ছিন্ন করিনি।

ইজাজ আহমেদ মিলন : আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কী ? জীবন মানে আসলে কী?

 

সেলিনা হোসেন: জীবনের সংজ্ঞা হলো অধিকারের মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সত্যকে আলিঙ্গন করা। জীবনের সংজ্ঞা মানের অধিকারের সবটুকু অর্জন। আমার অধিকারের জায়গাটা পূর্ণ করার অর্থই হচ্ছে জীবন। মনুষত্ব বোধের জায়গাটাকে বড় করে দেখাই হচ্ছে জীবন।

ইজাজ আহমেদ মিলন : আপনি তো বহু লেখাই সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। স্বপ্ন দেখেছেন। লেখার মধ্যে যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং নিজে দেখেছেন- সেটার কতটুকু বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছেন এই ৭৩ এ এসে ?

 

সেলিনা হোসেন: সামাজিকভাবে অবকাঠামোগত দিক থেকে কিছুটা পূরণ হয়েছে। যেমন মেয়েরা এখন অনেকেই স্কুলে যাচ্ছে , চাকুরিতে জায়গা হচ্ছে , তাদের উপার্জনের ক্ষেত্র হয়েছে। সেটা কিন্তু আগে একদমই ছিল না। কিন্তু মূল্যবোধের জায়গা থেকে, সামাজিক অবক্ষয়ের জায়গা থেকে আরো দমে যাচ্ছে বলে মনে হয়। এতো নির্যাতন , এতো অপরাধ, ধর্ষণ হচ্ছে। একটা জনজীবন কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় বারবারসে কথাই বলার চেষ্টা করি। কিন্তু সেটা কি সম্ভব হচ্ছে ? প্রতিদিনই ধর্ষণের খবর পাচ্ছি, নির্যাতনের খবর পাচ্ছি। নানা অপরাধের খবর আসছে। জনজীবন মানেই তো শুধু পুরুষ না। জনজীবন মানে নারী শিশু কিংবা পুরুষ সব মিলিয়েই। সব কিছু মিলিয়ে জীবনের সমগ্রতা। এই সমগ্রতার একটা পিছুটান আছে। এটাকে অতিক্রম করতে হবে আমাদের।

 

ইজাজ আহমেদ মিলন : লেখক জীবনে কি আপনার কোনো অতৃপ্তি আছে ?

 

সেলিনা হোসেন: না। আমার কোনো অতৃপ্তি নেই।
ইজাজ আহমেদ মিলন : আপনার লেখাগুলোর বেশির ভাগই ইতিহাসকে আশ্রয় করে লেখা। ইতিহাসে সাঁতার কাটেন লিখতে গিয়ে। কোনো ক্লান্তির ছাপও নেই। ইতিহাসের সঙ্গে মিলেমিশে বর্তমান একাকার হয়ে যায়। এটা কিভাবে সম্ভব ?

সেলিনা হোসেন : এটাই হচ্ছে আমার শিল্পের সাধনা। কাজের মধ্যে ডুবে যেতে হয়। আমি ডুবে যাই। যারা সাধনায় ডুবে যায় তারই সফল হন।

ইজাজ আহমেদ মিলন : হাঙর নদী গ্রেনেড তো আপনার তুমূল পাঠক প্রিয় একটি উপন্যাস। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রও হয়েছে। হাঙর নদী গ্রেনেড সম্পর্কে কিছু বলুন।

সেলিানা হোসেন: ১৯৮৭ সালে হাঙর নদী গ্রেনেড ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশ হয়। প্যারিসের দ্য গল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান লিটারেচার-এর অধ্যাপক পাস্কেল জিন্ক নেট থেকে বইটির ইংরেজি সংস্করণ সংগ্রহ করে অধুনিক অনুবাদের উদ্যোগ নেন। যা ভারতের রূপা প্রকাশনী সংস্থা থেকে প্রকাশিত হয়। তাছাড়া শিকাগোর ওকটন কমিউনিটি কলেজে এই বইয়ের ইংরেজি অনুবাদ চারটি সেমিস্টারে পড়ান হয়। ২০০১ সালে উপন্যাসটি ভারতের কেরালা থেকে মালয়ালাম ভাষায় অনুদিত হয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাণও হয়েছে এই বইটির কাহিনী অবলম্বনে।

ইজাজ আহমেদ মিলন: উপন্যাসটি লেখার পেছনের গল্পটা কী?

সেলিনা হোসেন : আমি ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে, একটি বাসায় থাকি। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে রেসকোর্সে যাওয়ার সময় আমি কেমন আছি জানতে স্যার এলেন আমার সায়েন্স ল্যাবরেটরি কলোনির বাসায়। তার সাথে ছিলেন আমার খালাতো ভাই আবু ইউসুফ। কর্নেল তাহেরের বড় ভাই ছিলেন। তারা দুজনই আমাকে যুদ্ধের দুটি বাস্তব ঘটনা বললেন। স্যারের কাছ থেকে এক মায়ের গল্প শুনলাম, যিনি দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য নিজের প্রতিবন্ধী সন্তানকে তুলে দিয়েছিলেন পাকিস্তনি সৈসন্যদের হাতে। ঘটনাটি যশোরের কালীগঞ্জের। হাঙর নদী গ্রেনেডের এই ঘটনা বললেন এবং ওই মাকে নিয়ে স্যার আমাকে একটি গল্প লিখতে বললেন। ইউসুফ ভাই বললেন কর্নেল তাহেরের বাম পায়ের হাটুঁর ওপর কিভাবে এসে শেল পড়ে পা টি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায। রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে পাতিস্তানি বাহিনীর আত্মসমপর্ণ অনুষ্ঠানটি আমি দেখতে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওই দুটি ঘটনা শোনার পর আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ি। আর যেতে পারিনি। প্রথমে ভেবেছিলাম, ছোটগল্পই লিখব। পরে মনে হলো, না, এই কাহিনির যে ব্যাপ্তি সেটি উপন্যাসের। হাঙর নদী গ্রেনেড শুরু করেছি বুড়ির শৈশব থেকে। বারো ভাইবোনের মধ্যে একটি মেয়ে সচেতনভাবে তার বাবাকে বলছে তার নামটি বদলে দিতে। বুড়ির প্রতিবাদের এই জায়গা থেকে পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে নিজের সন্তানকে তুলে দেওয়া পর্যন্ত উপন্যাসটির পরিসর। একজন মা ভাবছেন, তাঁর নিজের সন্তানের বিনিময়ে দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচিয়ে দিলে তিনি স্বাধীনতা পাবেন। এই যে উৎসর্গ তিনি করলেন, এমন অসংখ্য উৎসর্গের বিনিময়েই তো আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের বিজয়। ১৯৭৪ সালের উপন্যাসটি প্রথম বের হয়।

 

ইজাজ আহমেদ মিলন: আগস্টের একরাত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা একটি উপন্যাস। বঙ্গবন্ধু আপনার লেখাকে কীভাবে প্রভাবিত করেছে ?

সেলিনা হোসেন: বঙ্গবন্ধু একজন মানুষ যাকে নিয়ে একটা পুরো সাহিত্য জগৎ তৈরি করা যাবে। শুধু আমার লেখায় কেন, বঙ্গবন্ধু একটি জাতির জীবনকে প্রভাবিত করেছে।

ইজাজ আহমে মিলন: ব্যক্তি জীবন আর লেখক জীবন কি আপনি আলদাভাবে চিন্তা করেন ?

সেলিনা হোসেন: না । একই জীবন।

ইজাজ আহমেদ মিলন : এমন কি কোনো বই আছে , যার কাছে বারবার ফিরে যান ?

 

সেলিনা হোসেন: রবীন্দ্রনাথের প্রবন্ধগুলো বারবার পড়ি। ছিন্নপত্রটা পড়ি। নজরুলের প্রবন্ধগুলো পড়ি।

ইজাজ আহমেদ মিলন : আপনার দর্শন কী ? এই দর্শন তৈরিতে কার বই আপনাকে উস্কে দিয়েছে ?

সেলিনা হোসেন: একজন মানুষ তার সতন্ত্র বৈশিষ্ট নিয়ে মানুষের সামনে দাঁড়াবে। এটাই আমার দর্শন। যে যে ধর্মেরই থাকুক, প্রকাশ্যে সে বলবে ধর্ম যার যার উৎসব সবার।

ইজাজ আহমেদ মিলন: আপনার কন্যা প্রয়াত ফারিয়া লারা সম্পর্কে কিছু বলবেন ?

 

সেলিানা হোসেন: ( অনেক্ষণ নীরব রইলেন। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখও মুছলেন। )

ইজাজ আহমেদ মিলন: না থাক কিছু বলতে হবে না।

 

সেলিনা হোসেন: ১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। ফারিয়া লারার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। আকাশে উড়তে উড়তেই এক সময় ওর বিমানটা নেমে এল মাটির দিকে। কিছু বোঝার আগেই লারা হয়ে গেল অতীতের একটি নাম। দু’জন ছিল এয়ার পারাবতের বিমানটিতে। দুই আসনবিশিষ্ট সেসনা প্রশিক্ষণ বিমানটি পোস্তগোলা শ্মশানঘাটের কাছে এলে ইঞ্জিনে আগুন লেগে যায়। সেখানেই জ্বলন্ত বিমানটি আকাশে ডিগবাজি খেয়ে নেমে আসে মাটিতে। ফারিয়া লারা শেষবারের মতো দেখেছিলেন নি:সীম নীলাকাশ। এরপর …। আর বলতে পারছি না। চোখ ঝাঁপসা হয়ে আসছে।

ইজাজ আহমেদ মিলন: সময় দেওয়ার জন্য আমাকে ধন্যবাদ।

সেলিনা হেসেন: মিলন , তোমাকেও ধন্যবাদ।

ইজাজ আহমেদ মিলন
০১৭১৯০৮০১৯১

Related Articles

Back to top button
Close