fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফোন করে বিধায়ককে খুনের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এবার গ্রেফতার বর্ধমানের এক সাংবাদিক

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ফোন করে বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিককে খুনের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় এবার গ্রেফতার হল এক সাংবাদিক। ধৃতের নাম প্রসূন সামন্ত। শহর বর্ধমানের চুনীলাল লেনে তার বাড়ি। প্রসূনের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় হতবাক পূর্ব বর্ধমানের সাংবাদিক মহল।

বিধায়ককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় সামসুদ্দিন মালিক ওরফে হাবিব নামে এক অভিযুক্তকে গত মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছিল জেলার দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ। তাকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ বিধায়ককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় প্রসূনের জড়িত থাকার কথা জানতে পারে। নোটিশ পাঠিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে থানায় হাজিরা হতে বলা হয়।

ডিএসপি (হেড কোয়ার্টার) সৌভিক পাত্র ওইদিন সামসুদ্দিন ও প্রসূনকে সামনাসামনি বসিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দীর্ঘ জেরায় বিধায়ককে হুমকি দিয়ে ফোন করার ঘটনার জড়িত থাকার কথা প্রসূন স্বীকার করে নেন। সামসুদ্দিনও পুলিশকে প্রসূনের জড়িত থাকার কথা জানায়। এরপরেই পুলিশ প্রসূনকে গ্রেফতার করে। বিধায়কের পাশাপাশি কয়েকজন ববসায়ীকেও ধৃতরা একই কায়দায় হুমকি দিয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে। সামসুদ্দিনের মোবাইল ফোন পুলিশ আগেই বাজেয়াপ্ত করেছিল। প্রসূনের দুটি মোবাইল ফোনও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের দাবি তিনটি মোবাইল ফোনেই ‘ইন্ডিকল কলিং অ্যাপ ’ ডাউনলোড করা রয়েছে।

আরও পড়ুন:পৌষমেলা হবেই, জানিয়ে দিল বিশ্বভারতী

সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ শুক্রবার প্রসূনকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে। তিনদিনের পুলিশি হেফাজতে মেয়াদ শেষ হওয়ায় সামসুদ্দিনকেও এদিন আদালতে পেশ করা হয়। সিজেএম রতনকুমার গুপ্তা দুই ধৃতকেই ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচাবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিধায়কের কাছ থেকে হুমকি দেওয়া কথোপকথনের রেকর্ড পুলিশ সংগ্রহ করেছে।
ওই ফোন কলের ভয়েসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য তদন্তকারি অফিসার প্রসূনের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করার আবেদন এদিন আদালতে জানান। ষষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রসূনের কন্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫ টা নাগাদ তৃণমূল বিধায়ক নিশীথ মালিকের ফোনে একটি কল আসে। অভিযোগ যিনি ফোন করেন তিনি বিধায়ককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলেন। মামলা তুলে না নিলে গুলি করে বিধায়ককে প্রাণে মেরে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। মেমারির তৃণমূল বিধায়ক নার্গিস বেগমের কাছেও একই রকম হুমকি ফোন যায়। বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশীথ মালিক এই ঘটনা বিষয়ে দেওয়ানদিঘি থানায় অভিযোগ জানানোর পরেই পুলিশ তদন্তে নামে।

কল ডিটেলস খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে যে ফোন নম্বার থেকে বিধায়কের ফোনে হুমকি ফোনকল গেছে সেই ফোন নম্বারটি অভিজিৎ দাস নামে এক ব্যক্তির। তার বাড়ি শক্তিগড় থানার নান্দুড়ে।পুলিশ তাকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ জানতে পারে ‘কলিং আ্যাপের ’সাহায্যে জালিয়াতি করে অভিজিৎতের ফোন নম্বর ব্যবহার করে বিধায়ককে ফোন করা হয়েছিল। এরপর খোঁজখবর চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে শহর বর্ধমানের নিবেদিতাপল্লির শুভজিৎ রায়চৌধুরী হুগলির গুড়াপ নিবাসী সামসুদ্দিন মালিক ও প্রসূন সামন্ত বিধায়ককে হমকি দিয়ে ফোন করার ঘটনায় জড়িত।

আরও পড়ুন:‘মমতার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ছাত্র ছাত্রীরা বঞ্চিত হবেন’, অভিভাবকদের সতর্ক করলেন দিলীপ ঘোষ 

পুলিশ আরও জানতে পারে দিন দু’য়েক আগে আগ্নেয়াস্ত্র সহ শুভজিৎকে গ্রেফতার করেছিল বর্ধমান থানার পুলিস।গত মঙ্গলবার সামসুদ্দিনকে গ্রেফতার করার পর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিৎ হয়ে যায়, কলিং অ্যাপের সাহায্যে জালিয়াতি করে অভিজিৎ-এর নম্বর ব্যবহার করে তারা বিধায়ককে হুমকি দেয়। এই ভাবে হুমকি দিয়ে তারা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে বলেও পুলিশ জেনেছে। ‘কলিং অ্যাপের ’ মাধ্যমে জালিয়াতি করে তার ফোন নম্বর ব্যবহার করে হুমকি দিয়ে ফোন করার বিষয়টি নিয়ে অভিজিৎও শক্তিগড় থানায় অভিযোগও দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ সামসুদ্দিনের পর প্রসূনকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হল। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত আছে কিনা তাও পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

Related Articles

Back to top button
Close