fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফেরা হল না বাড়ি, বাবার চোখের সামনে অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু ছেলের

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর : বাড়ি ফিরবে বলে আর ফেরা হল না তার, নিশ্চুপ ছেলের দিকে তাকিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছেন বাবা। যেন চোখের জলও শুকিয়ে গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের রাধাকান্ত পুর এলাকার।

রবীন্দ্র নাথ মল্লিক বলেন, “কিছু দিন আগে ছেলে গুজরাট থেকে ফোন করে জানায় তার শ্বাস কষ্ট হচ্ছে, সে বাড়ি আসতে চায়। তাই এক মুহূর্ত দেরি না করে প্রায় ৭০ হাজার টাকারও বেশি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে ছেলেকে আনতে ১৪ আগস্ট তিনি গুজরাতের উদ্দেশ্যে রওনা দেন. প্রায় চার দিনের মাথায় ডেবরা হাসপাতালে ঢোকার কিছু আগেই… সব শেষ, মৃত্যু হয় ছেলের।

প্রায় দু ঘন্টা ডেবরা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুল্যান্সএর মধ্যেই থাকে মৃতদেহ, যেহেতু শ্বাসকষ্ট উপসর্গ ছিল এমতাবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা পরীক্ষার বিবেচনা করে, মৃতদেহটির করোনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজেটিভ আসে। মৃত যুবকের বাবা রবীন্দ্র নাথ মল্লিক আরও বলেন, “গুজরাটে গাড়িতে তোলার আগে ওখানে করোনা পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, না হলে ছেলেকে এতো দূর না নিয়ে এসে ওখানে কোথাও চিকিৎসা করাতাম। কিছু অসৎ অসাধু চক্রের খেসারত জীবন দিয়ে চোকাতে হচ্ছে, না হলে ওখানে কি করে রিপোর্ট নেগেটিভ হতে পারে বলুন”।

তা হলে প্রশ্ন হল -রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স এর মধ্যে কি করে যুবক পজেটিভ হলেন? নাকি যুবকের বাবা অথবা অ্যাম্বুল্যান্স এর চালক বা হেল্পার এর সংস্পর্শে পজেটিভ হল এই নিয়ে একটা ধোঁয়াসা রয়ে গেল। একমাত্র ছেলের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হাত জোড় করে ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানায়, কিন্তু সরকারি নিয়মের গেরোই দেহ হস্তান্তর করা যাবে না বাড়ির লোকজনের হাতে। নিয়ম অনুযায়ী ওনার ছেলের শেষকৃত্য হবে খড়গপুর এ অবস্থিত খারিদার ইলেকট্রিক চুল্লিতে।

এদিকে ডেবরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত যুবকের বাবা, অ্যাম্বুল্যান্স এর চালক এবং তার হেল্পার সকলকেই কোয়ারেনটাইন হোমে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় ডেবরায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Related Articles

Back to top button
Close