fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চলন্ত ট্রেনে মালদার শ্রমিকের মৃত্যু

মিল্টন পাল, মালদা: দুই মাসের বেশি সময় করোনা সংক্রমনের জেরে রাজস্থানের জয়পুরে আটকে ছিলেন জামাই ও শ্যালক। বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনে করেই মালদার গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন দুইজন। মালদায় আসার পথে ট্রেনের কামরায় রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয় জামাইয়ের। ট্রেনের কামরায় ওই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিযায়ী যাত্রী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  মৃত শ্রমিকের নাম বুদ্ধু পরিহার(৫০)। তার বাড়ি মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরের থানার ব্লকপাড়া এলাকায়। পরিবারে রয়েছে স্ত্রী শিখা পরিহার এবং দুই ছেলেমেয়ে। মৃত শ্রমিকের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০ বছর ধরে রাজস্থানের জয়পুর এলাকার বিকানের এলাকার একটি হোটেলে কাজ করতেন বুদ্ধু পরিহার নামে ওই ব্যক্তি। তার সঙ্গে কাজ করতেন শ্যালক সরজু দাস। লকডাউনের জেরে সেখানে কাজ হারায় তাঁরা। তারপর বাড়ি আসার অনেক চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত গত ২৯ মে সকাল ১১টা নাগাদ রাজস্থানের লালকোট রেল স্টেশন থেকে স্পেশাল ট্রেন ধরেন তাঁরা। ট্রেনে করে বাড়ি আসার সময় মোগলসরাই কাছে চলন্ত ট্রেনে মারা যায় ওই শ্রমিক।

 

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে রাজস্থান থেকে শ্রমিক স্পেশাল ওই ট্রেনটি যখন মালদা টাউন স্টেশনে পৌঁছায় । তখনই এরপর খবর দেওয়া হয় রেল পুলিশকে। পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য।  এদিকে ওই ট্রেনে থাকা অন্যান্য পরিযায়ী শ্রমিকরা জানান, মোগলসরাই শ্রমিকের মৃত্যু হলেও ট্রেনটি কোথাও থামে নি। সরাসরি মালদা টাউন স্টেশন রেল পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

 

 

মৃতের শ্যালক সরজু দাস জানিয়েছেন, আমি এবং আমার জামাইবাবু বুদ্ধ পরিহার দুজনেই গুজরাটের একটি হোটেলে কাজ করতাম। লকডাউনের পর আমাদের কাজ চলে গিয়েছিল। বহুভাবে চেষ্টা করেছি মালদায় ফেরার, কিন্তু সম্ভব হয়নি। তার মধ্যে জামাইবাবু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কাজে চলে গিয়েছিল, হাতে টাকাও ছিল না।  মোবাইলে ফোন করেও বারবার বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলাম পরিবারের লোকেদের। কোনওমতেই বাড়ি আসতে পারছিলাম না। এর পর গত ২৯ তারিখ সকাল ১১টা নাগাদ আমি এবং আমার জামাই বাবু বাড়ি আসার জন্য স্পেশাল ট্রেনে উঠি। হঠাৎ করে শনিবার রাত ১০ নাগাদ মোগলসরায়ের কাছে মারা যায় জামাইবাবু।এরপর এদিন সকালে মালদা টাউন স্টেশনে পৌছালে রেল পুলিশ আমার কাছ থেকে সমস্ত ঘটনা শুনে মৃত দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ পাঠায়।

 

 

মালদায় নতুন আরো দুই পরিযায়ী শ্রমিক করোনাই আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। গত শুক্রবার ওই দুই শ্রমিক রাজ্য থেকেই ট্রেনে করে মালদায় ফিরেছিলেন। তাদের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরপরেই করোনা ভাইরাসের শনাক্তকরণ করা হয় ওই দুই শ্রমিককে । এদের বাড়ি গাজোল ব্লকের একলাখী এবং হবিবপুর ব্লকের ফড়িবাড়ি এলাকায়। দুইজনকেই চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছে পুরাতন মালদা নারায়ণপুর এলাকার কোভিক হাসপাতালে। এখনো পর্যন্ত মালদায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১৪১। জেলাশাসক রাজশ্রী মিত্র বলেন, মৃত ব্যক্তি ও সহযাত্রীদের সোয়াব নেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close